দিল্লির সঙ্গে সরকারের একটি অংশের ‘গোপন আঁতাতের’ কারণেই আওয়ামী লীগ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল করার সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত ‘রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শ্রমনীতি: শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অনন্য আদর্শ’ শীর্ষক জাতীয় সিরাত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থাকার পরও আওয়ামী লীগ কীভাবে বিভিন্ন জেলায় মিছিল করতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কেউ কি বিশ্বাস করবে, এখানে সরকারের কোনো ইঙ্গিত নেই? নিশ্চয় আছে। যারা রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আছেন, তারা মুখে বলছেন—আমরা আওয়ামী লীগবিরোধী, ফ্যাসিবাদবিরোধী, আমরা বিচার করব। অথচ বড় বড় আসামিদের জামিন দেওয়া হচ্ছে, মিছিল করলে তাদের ধরতে পারছেন না।’
দিল্লির সঙ্গে সরকারের ভেতরের কোনো অংশের সম্পর্ক নেই—এটি সরকারকেই প্রমাণ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনার প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, দিল্লি থেকে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং ডিসেম্বরে দেশে ফেরার কথা বলা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আসেন, আসার জন্য দেশবাসী প্রস্তুত হয়ে আছে। অত সস্তা না। দেশের আইন-কানুন, প্রসিকিউশন, কোর্ট-কাচারি আছে। পলাতক আসামি হিসেবে যে সাজা হয়েছে, দেশে এসে সেই সাজাই ভোগ করতে হবে।’
সরকারের একটি অংশ আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকে ‘রিফাইন আওয়ামী লীগ’ হিসেবে আবার রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন গোলাম পরওয়ার। এ ধরনের পথ থেকে ফিরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সেমিনারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শ্রমনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি বলেন, বিশ্বের দুঃখী, অনাহারী ও নিপীড়িত মানুষের কল্যাণে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে মানবিক ও কল্যাণভিত্তিক নীতি-আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা মানুষের জন্য অনুসরণীয়।
মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নীতি ও আদর্শ অনুসরণ করলে শ্রমক্ষেত্রে ন্যায়, সাম্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাসুলপ্রণীত শ্রমনীতি প্রতিষ্ঠা ছাড়া শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত মুক্তি সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, একজন প্রকৃত নেতাকে সহনশীল, বিনয়ী ও মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও শ্রমনীতি অনুসরণের মাধ্যমে শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে সৌহার্দ্য, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।
শ্রেণিসংগ্রামভিত্তিক সমাজ পরিবর্তনের ধারণারও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তার মতে, শ্রমিক ও মালিককে পরস্পরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে সমাজ পরিবর্তনের যে মতবাদ প্রচার করা হয়েছে, তা মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, একসময় একশ্রেণির শ্রমিক নেতা ট্রেড ইউনিয়নকে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ‘স্কুল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। এর বিপরীতে শ্রমিকের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামের নীতি-আদর্শকে সামনে রেখে ১৯৬৮ সালে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিষ্ঠিত হয়।