স্বৈরাচারী শাসন থেকে অর্জিত জুলাই বিপ্লবের সাফল্যকে ম্লান করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, গত দেড় দশকের অন্যায়-অবিচার ও গুম-খুনের স্মৃতি মুছে ফেলার সুযোগ নেই।
রোববার (১৯ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘দ্বিতীয় জুলাই বিপ্লব আন্তর্জাতিক সম্মেলনে (আইসিজেআর-২ ২০২৬)’ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডাকসু, আরআইটি, ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সাদিক কায়েম অভিযোগ করেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি গোষ্ঠী জুলাই বিপ্লবের বীরদের ভিলেন হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে তারা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলেও গত ১৫ বছরের হত্যা, গুম ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠনের ইতিহাস দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না।
ডাকসু ভিপি বলেন, জুলাই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংগঠনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে সমগ্র জনগণের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, শিল্পী ও সাধারণ মানুষ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এই বিপ্লব সফল হয়েছে। তিনি একে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার লড়াইয়ের এক ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিপ্লব পরবর্তী সময়ে মানুষের কিছু হতাশা থাকা স্বাভাবিক উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, “জুলাই কোনো ৩৬ দিনের আন্দোলন নয়, এটি একটি দীর্ঘ যাত্রার সূচনা। অর্জিত সাফল্য রক্ষা করে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ার এখনই সময়।”
পতিত স্বৈরাচারী শক্তির রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসার চেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “জনগণের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সাফল্য কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।” তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রেখে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মুক্ত সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।