রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য

হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্র দিল্লির

বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা পলাতক নেতা শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশবিরোধী নতুন একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে—এমন দাবি করছে বিশ্লেষকরা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গতকাল একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে—রয়টার্স, এএফপি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট—প্রকাশিত হাসিনার সাক্ষাৎকারকে বিশ্লেষকরা দিল্লির কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে আক্রান্ত করা এবং […]

হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশবিরোধী নতুন ষড়যন্ত্র দিল্লির

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩০ অক্টোবর ২০২৫, ১০:৩৮

বিচারের শেষ পর্যায়ে থাকা পলাতক নেতা শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশবিরোধী নতুন একটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় দৃশ্যমান হয়েছে—এমন দাবি করছে বিশ্লেষকরা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গতকাল একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে—রয়টার্স, এএফপি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট—প্রকাশিত হাসিনার সাক্ষাৎকারকে বিশ্লেষকরা দিল্লির কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন, যার মূল লক্ষ্য হলো ভবিষ্যৎ নির্বাচনকে আক্রান্ত করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করা।

আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকারে হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না, এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া আগামী নির্বাচনে লাখ লাখ সমর্থক ভোট বর্জন করবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত কোনো সরকারের শাসনকালেই তিনি দেশে ফিরবেন না; বরং ভারতে অবস্থান করবেন—এমনই ঘোষণা দিলেন সাক্ষাৎকারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লির উদ্দেশ্য স্পষ্ট — আদালতের রায়কে সামনে রেখে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে প্রভাব ফেলা। আদালতের সম্ভাব্য রায়ের আগে হাসিনার এসব বক্তব্য আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়ে একটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ সূত্র ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বরাতে জানা যায়, দিল্লিতে হাসিনার জন্য কেবল রাজনৈতিক সমর্থন নয়—একটি সংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামোও গড়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সব ধরনের লজিস্টিক ও নিরাপত্তা উপকরণ আছে বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে কলকাতায় বসবাসরত কিছু পরিচিত নেতা-সহ বিভিন্ন দলে থাকা অনুসারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে—এই অভিযোগও উঠে এসেছে।

মোঃ রবিউল আলম, ঢাকা প্রতিনিধি জানান, দিল্লি শুধু রাজনৈতিক আশ্রয়ই দিচ্ছে না; বেশ কয়েকজন সাবেক সামরিক ও পুলিশি কর্মকর্তাসহ অফিসারদেরও আশ্রয় দেয়া হয়েছে—যাদের বিরুদ্ধে দেশে গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ব্যক্তিরা কলকাতায় বসে তথ্য-প্রচারণা, অস্থিরতা সৃষ্টির কৌশল এবং স্থানীয় গ্রুপগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ করছে—বলছে কিছু বিশ্লেষক।

রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ভারতের এই পদক্ষেপের পিছনে একটি বৃহত্তর কৌশল কাজ করছে—যার লক্ষ্য বাংলাদেশে পুনরায় সেই রাজনৈতিক প্রভাব ফিরিয়ে আনা, যা নানাভাবে ২০০০ দশকের শাসনকালীন কূটনৈতিক সম্পর্কের ন্যায় হবে। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের পরিবর্তন ও স্বাধীন নীতি গ্রহণের ফলে দিল্লির পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে—এমনটা দাবি করা হচ্ছে।

সরকারি ও কূটনৈতিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন পররাষ্ট্রনীতিতে স্বাধীনতা বজায় রাখায় দিল্লির আগ্রাসী কৌশল কার্যকর করতে পারেনি। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন—আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গ্রুপের বক্তব্য বারবার প্রকাশ করলে তা দ্রুত জনমত গড়ায় এবং রাজনৈতিক অবস্থা জটিল করতে পারে।

অন্যদিকে কূটনৈতিক মহল বলছে, যদি আদালতের রায়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত আসে, তা হলে দেশের অভ্যন্তরীন মঞ্চে নতুনভাবে সংঘাতের ভিত্তি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। এজন্য কিছু বিশ্লেষক পরামর্শ দিচ্ছেন, আন্তর্জাতিক মিডিয়া কভারেজের প্রেক্ষিতে তথ্যভিত্তিক কূটনীতি ও অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজন।

অন্যান্য

গোলাম পরওয়ার মাসির বাড়িতে এসে পিসির নামে মিথ্যা কথা বলে গেলেন

ভোলা-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতিবাদে ভোলায় বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, গোলাম পরওয়ার পার্থর নামে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার করেছেন। সোমবার (১৫ জুন) রাতে ভোলা শহরের নতুন জেলা বিজেপির কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ প্রতিবাদ সমাবেশ […]

গোলাম পরওয়ার মাসির বাড়িতে এসে পিসির নামে মিথ্যা কথা বলে গেলেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫২

ভোলা-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতিবাদে ভোলায় বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, গোলাম পরওয়ার পার্থর নামে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার করেছেন।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে ভোলা শহরের নতুন জেলা বিজেপির কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোলাম পরওয়ার। ভোলা সদর আসনের এমপি পার্থকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ভোলার মানুষের কাছে আসেন না, উলটো মানুষকে কষ্ট করে ঢাকায় যেতে হয় তার কাছে। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদে ভোলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো দাবি জানান না, অথচ সরকারকে খুশি করতে সুযোগ পেলেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কথা বলেন।

এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার মাসির বাড়িতে এসে পিসির নামে একটি মিথ্যা কথা বলে গেলেন। এতো বড় মিথ্যা কথা ভোলার মানুষ আর শোনেনি বলে আমার মনে হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বরিশালের জনসভায় ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-বরিশাল সেতুর কথা বলেছেন। তিনি জাতীয় সংসদে ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনসহ ভোলার নানা সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন। যে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তো সময়ের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমি জানতে চাই, গোলাম পরওয়ার কিভাবে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন অসত্য কথা প্রচার করেছেন। অথচ তার নিজের এলাকাতেই নিজের ঠাঁই নেই। নির্বাচন হয়েছে সবেমাত্র কয়েকমাস হল, অথচ গোলাম পরওয়ার আলাদিনের চেরাগের মতো সব দেখতে চান। বাংলাদেশের মানুষ যদি তাদের সব কথা বিশ্বাস করতো, তাহলে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতো। আমি মনে করি, জামায়াতের ভাওতাবাজির কথা এদেশের মানুষ কোনোদিন গ্রহণ করে নাই। ভোলার উন্নয়নের জন্য পার্থর বিকল্প আর কেউ নেই।  এছাড়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান ও জানান তিনি।

সমাবেশে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোত্তাছিন বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. নুরনবী। ভোলা সদর উপজেলার বিজেপির সভাপতি আব্দুল জলিল ও সাধারণ সম্পাদক মো.বুলবুল প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়া বিজেপি ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য

নেত্রকোনা ও সিলেটে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু

নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জের হাকালুকি হাওড় এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে তিন জেলে প্রাণ হারান। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এসব ঘটনা ঘটে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত দুজন হলেন মাসকা ইউনিয়নের দিগলী গ্রামের শামসুল হুদা এবং সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম। শামসুল হুদা মুড়াই বিলে মাছ […]

নেত্রকোনা ও সিলেটে বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু

ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট

১৮ জুন ২০২৬, ১৯:৩৭

নেত্রকোনার কেন্দুয়া ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ফেঞ্চুগঞ্জের হাকালুকি হাওড় এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে তিন জেলে প্রাণ হারান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এসব ঘটনা ঘটে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বজ্রপাতে নিহত দুজন হলেন মাসকা ইউনিয়নের দিগলী গ্রামের শামসুল হুদা এবং সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি গ্রামের আশরাফুল ইসলাম। শামসুল হুদা মুড়াই বিলে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন। অন্যদিকে আশরাফুল ইসলামকে মরাপুড়ি ডোবা এলাকা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ জানান, বজ্রপাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বাঘমারা এলাকার জুড়ি নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তিন জেলে প্রাণ হারান। নিহতরা হলেন মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামালপুর গ্রামের ছাবির মিয়া (৪০), হামিদ (৪৫) ও কাবিল (৩৫)। হামিদ ও কাবিল আপন দুই ভাই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বৃষ্টির মধ্যে হাকালুকি হাওড় এলাকায় মাছ ধরার সময় তারা বজ্রপাতের শিকার হন। ঘটনাস্থলেই ছাবির মিয়া ও হামিদের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতের পর কাবিল নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন। পরে তাকে মৃত হিসেবে শনাক্ত করা হয় এবং উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয়।

ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ওসি আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির বলেন, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অন্যান্য

যোগ সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: নরেন্দ্র মোদি

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যোগ কেবল ব্যক্তিগত সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। রোববার (২১ জুন) সকালে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগচর্চায় অংশ নেন। সমবেত জনতার উদ্দেশে মোদি […]

যোগ সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: নরেন্দ্র মোদি

ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট

২১ জুন ২০২৬, ১১:২৯

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যোগ কেবল ব্যক্তিগত সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।

রোববার (২১ জুন) সকালে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগচর্চায় অংশ নেন।

সমবেত জনতার উদ্দেশে মোদি বলেন, “যোগ শুধু একজন ব্যক্তির সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে না, এটি মানবজাতির জন্য একটি ইতিবাচক ও শান্তিময় ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও প্রদান করে।”

২১ জুনকে বছরের দীর্ঘতম দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যোগ আজ সারা বিশ্বকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বাংলার মহান মনীষীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কর্মক্ষমতা ও সম্ভাবনা যাতে কমে না যায়, সে লক্ষ্য অর্জনে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, “আমাদের এমন জীবনধারা গড়ে তোলা উচিত, যাতে ৫০ বছর বয়সেও ৩০ বছরের মানুষের মতো কর্মক্ষম থাকা সম্ভব হয়।”

নিয়মিত যোগচর্চার বিভিন্ন উপকারিতার কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, এটি শরীরকে নমনীয় রাখে, ক্লান্তি দূর করে, মানসিক চাপ কমায় এবং জীবনযাপনজনিত নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি ও মানসিক স্থিতি গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, সুস্থ বার্ধক্যের ধারণা কেবল প্রবীণদের জন্য নয়; সব বয়সী মানুষের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত ঘুম ও জাগরণের অভ্যাসের সঙ্গে যোগচর্চা যুক্ত হলে তা একটি স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

মোদি বলেন, “যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম নয়; এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, মানসিক স্থিরতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ দেখায়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

যোগ দিবসকে শুধু একটি বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘যোগ ৩৬৫’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এ উপলক্ষে একটি ১০০ দিনের অনলাইন যোগ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যেখানে বিশ্বের ১৩০টি দেশের অংশগ্রহণকারী যুক্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী সুস্বাস্থ্য, সম্প্রীতি ও শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।