রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

উগ্রবাদী ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের (৩৫) হত্যার ঘটনায় ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার অনুসারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। আদালত চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর করার সাথে সাথে অরাজক […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ নভেম্বর ২০২৪, ১১:৩০

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের (৩৫) হত্যার ঘটনায় ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তাল সারা দেশ।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের সাবেক নেতা ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার অনুসারীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। আদালত চিন্ময় কৃষ্ণের জামিন নামঞ্জুর করার সাথে সাথে অরাজক

পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। ভাংচুর চালানো হয় নির্বিচারে। মসজিদে হামলা করা হয় এবং নিরীহ মুসল্লিদের আহত করা হয়। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিতে মুসলমানদের উদ্দেশ করে গালিগালাজ এবং হামলার জন্য টার্গেট করা হয়। পাশাপাশি তারা প্রিজনভ্যান আটকে চিন্ময় কৃষ্ণকে ছিনিয়ে নেবার চেষ্টা করে।

এ সময় তারা ‘জয় শ্রীরাম’, ‘দালালের গালে গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘জেলের তালা ভাংব, চিন্ময় প্রভূকে আনবো’, ‘কুরুক্ষেত্রের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের পরিকল্পিত উস্কানিমূলক তৎপরতার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল একেবারেই শান্ত। তাদের বুঝিয়ে সরে যেতে বলে।

কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন কাজ হচ্ছিল না। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মৃদু লাঠিপেটা করে এবং গ্যাস গান ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আদালতের নিচতলায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা আইনজীবী আলিফকে পাশের জঙ্গল সিনেমা লেনে নিয়ে গিয়ে মারধরের পর কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনার পরই সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।

এ ঘটনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন নিন্দা জানিয়ে হত্যার বিচার ও ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব মাওলানা সাজেদুর রহমান বলেন, দেশবিরোধী বিশ্বাসঘাতক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে উগ্রহিন্দুত্ববাদী ইসকনের কর্মী-সমর্থকরা চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে দিনের আলোতে জনসম্মুখে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ভারতের উসকানি ও মদদে এই ষড়যন্ত্রমূলক অরাজকতা তৈরি করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত ইসকনের কর্মী-সমর্থকদের দ্রুত গ্রেফতার করে শহীদ আলিফ হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। সন্ত্রাসী কার্যক্রমের দায়ে হিন্দুত্ববাদী ইসকনকে অতিসত্বর নিষিদ্ধ করতে হবে।’

তারা আরো বলেন, ‘মুসলমানের রক্তখোর ভারতের হিন্দুত্ববাদী শাসকগোষ্ঠী এদেশে হিন্দু কার্ড খেলে তাদের আধিপত্যবাদ কায়েম রাখতে চায়। তাদের সেবাদাস ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পর থেকে ভারত উন্মাদ হয়ে আছে। সে কারণে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। ভারতের কোনো ফাঁদে পা না দিতে সাধারণ

সনাতনী হিন্দু ভাই-বোনদের প্রতি আমরা জোর আহ্বান করছি। আর যারা ভারতের চক্রান্তের সাথে একীভূত হয়ে দেশবিরোধী অরাজকতা তৈরি করতে সক্রিয়, তাদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার নজির দেখাতে হবে সরকারকে। আমরা আজকের ঘটনায় শান্ত ও সংযত থেকেছি বটে। কিন্তু এদেশের মুসলমানদের ধৈর্যেরও সীমা রয়েছে তা মাথায় রাখতে হবে।’

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এক বিবৃতিতে এ হত্যাকাণ্ডকে জঘন্য এবং নিন্দনীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি গোষ্ঠী পতিত স্বৈরাচারের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশকে অস্থির করার জন্য ক্রমাগতভাবে দুরভিসন্ধি ও অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থির করে তুলতে চায়। দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের দুরভিসন্ধির ব্যাপারে পরিপূর্ণ সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ। তাদের অপচেষ্টা অতীতে যেমন ব্যর্থ হয়েছে, আগামীতেও ব্যর্থ হবে ইনশাআল্লাহ।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে নোবিপ্রবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ : ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেরর পাদদেশে রাত ৮টায় এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, একটা গ্রুপ দিল্লি বসে আমাদের বিভাজন করার প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে ।

বিক্ষোভ সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘ভারতে মুসলমানদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। আর সেই নির্যাতন আমরা আজকে বাংলাদেশেও দেখতে পেয়েছি। তারা সংখ্যালঘুর ট্রাম্প কার্ড ব্যবহার করে উস্কানিতে দিচ্ছে। আমরা তাদের পাতানো ফাঁদে পা দিব না। মুসলমানদের সব সময় ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। আমরা আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের অধিকার নিশ্চিত করব। আমরা শিগগির এ হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

আরেক শিক্ষার্থী জিহাদুল ইসলাম বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে একটা গ্রুপ দিল্লিতে বসে আমাদের বিভাজন করার প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে। হারপিক মজুমদারসহ সকল খুনিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসে জাতিকে উস্কানি দিচ্ছেন। এ বাংলার মাটিতে আপনাদের বিচার হবে। ৯০ ভাগ মুসলমানদের দেশে সংখ্যালঘুদের আমরা সব সময় নিরাপত্তা দিয়ে আসছি। আজকে যারা সাইফুল ভাইকে হত্যা করেছে, তাদের সুষ্ঠু বিচারের আহ্বান করছি।’

এ সময় তারা ‘ইসকন তুই জঙ্গি, ফ্যাসিবাদের সঙ্গী’, ‘ভারতীয় আগ্রাসন, রুখে দাও রুখে দাও’, ‘উগ্রবাদের আস্তানা এ বাংলায় হবে না’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

পটুয়াখালীতে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে পটুয়াখালীতে মশাল মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে একটি মশাল মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি চৌরাস্তায় গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

এদিকে একই দাবিতে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে হাজারো শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভকারীরা ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে স্লোগান দিয়ে নিষিদ্ধের দাবি জানান।

ফেনীতে বিক্ষোভ

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্র-জনতা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ১০টার দি‌কে শহরের শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ট্রাংক রোড, বড় মসজিদ, মডেল থানা প্রদক্ষিণ করে খেজুর চত্ত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিল শেষে উপস্থিত ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মোহাইমিন তাজিম, ওমর ফারুক শুভ ও স্বেচ্ছাসেবক ওসমান গণি রাসেল।

এর আগে মিছিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুব সংগঠন।

বক্তারা বলেন, উগ্র-হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তারা প্রকাশ্য-দিবালোকে আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে, মসজিদে হামলা করেছে। সাধারণ মানুষের ওপর হামলা করে নিজেদের সন্ত্রাসী স্বরুপ প্রকাশ করেছে।

তারা আরো বলেন, এখন সময় এসেছে দেশের সকল মানুষ এক হয়ে ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার। দেশের পতিত আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী হিন্দুদের সাথে মিশে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতেছে। যেকোনো মূল্যে এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবি বিক্ষোভে উত্তাল বেরোবি

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার ( ২৬ নভেম্বর) রাত ৯টায় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ গেট থেকে মিছিলটি শুরু হয়। মডার্ন মোড় ঘুরে আবারও আবু শহীদ চত্বরে এসে শেষ হয় মিছিলটি। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মিছিলে অংশ নেন। তারা হত্যাকারী চিন্ময় অনুসারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবিতে নানা স্লোগান দেয়।

পরে সমাবেশ বক্তব্য রাখেন মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব রহমত আলী, জাকির হোসেন, সৌরভ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদিদের উস্কানিতে এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকন সনাতন জাগরণ মঞ্চের ব্যানারে দেশে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা তৈরীর চেষ্টা করছে। দেশে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন সম্পূর্ণ নিরাপদে থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসী চিন্ময়ের তথাকথিত অনুসারীরা আদালতে প্রকাশ্য দিবালোকে গলাকেটে রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাকে খুন করেছে। মসজিদে হামলা, ভাঙচুর করেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে।’

তারা আরো বলেন, ‘খুনিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা না হলে আবারো ছাত্র জনতার বিপ্লব শুরু হবে। একই সাথে সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকনের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধের দাবিও জানান তারা। এ সময় দেশবাসীকে উস্কানিতে পা না দিয়ে শান্ত থাকারও আহ্বান জানান বক্তারা।’

ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবি জবি শিক্ষার্থীদের

দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত ও দেশে উগ্রবাদী কার্যক্রম করার দায়ে হিন্দুত্ববাদী উগ্রসংগঠন ইসকনকে অবিলম্বে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জবি ক্যম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ দাবি জানায় তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ ইসকন নিষিদ্ধ’, ‘আমার সোনার বাংলায় ইসকনের ঠাঁই নাই’, ‘ইসকনের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার ভাই খুন কেন, প্রশাসন জবাব চাই’- স্লোগান দেয়।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে কিছুদিন ধরে চক্রান্ত করে যাচ্ছে উগ্রবাদী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন। তারই প্রতিচ্ছবি চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ ভাইয়ের নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

নাইমুর রহমান নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভারত আমাদের সার্বভৌমত্বকে ভেঙে দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছে। ইসকান তাদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চাই ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হোক। সাইফুল ইসলাম আলিফ ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করা হোক।’

এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস্ সোসাইটির সভাপতি জুনায়েদ মাসুদ বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে ভারতের মদদে এদেশের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন অখণ্ড ভারত করার দিবাস্বপ্ন দেখে যাচ্ছে। আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম দেশে এই ইসকন বিভিন্ন সময় অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছে আজও করছে। গত ৫ আগস্টে পরাজিত শক্তি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখানে বসে দেশের

বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতেছে। তার সেই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে উগ্র-হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ইসকন আদালত চত্বরেই এক আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হোক তা আমরা চাই না। অবিলম্বে আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকারীদের আইনের আওতায় নিয়ে বিচার করার জোর দাবি জানাই।’

ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে হাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গনে ইসকন-সমর্থক কর্তৃক আইনজীবীকে হত্যার প্রতিবাদ ও ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রধান ফটকে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিলটি শেষ হয়।

এতে দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়।

বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘সনাতন-মুসলিম ভাই-ভাই, বাংলাদেশে ইসকনের কোনো ঠাঁই নাই’, ‘সনাতন-মুসলিম ভাই-ভাই, হাবিপ্রবিতে ইসকনের ঠাঁই না’, ‘অ্যাকশান অ্যাকশান ডাইরেক্ট অ্যাকশান, ইসকনের বিরুদ্ধে ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘ইসকনের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘জঙ্গিবাদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা চট্টগ্রামের আদালত প্রাঙ্গনে ইসকন কর্তৃক আইনজীবী হত্যার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা সনাতন-মুসলিম ভাই-ভাই। সনাতন আর ইসকনকে আমরা আলাদা মনে করি। ইসকন মূলত একটি উগ্রবাদী সংগঠন। বাংলাদেশে ভারতীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে ইসকন। আর ইসকনকে সমর্থন দিয়ে যারাই মাঠে নামবে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করার জন্য সবসময় প্রস্তুত। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেনো ইসকনকে উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।’

এ সময় তারা আরো বলেন, ‘ছাত্রশিবির বলেন, ছাত্রদল বলেন, তাবলীগ বলেন- এই বিষয়ে আমরা সবাই একতাবদ্ধ। আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে যে বা যারা ষড়যন্ত্র করছে বা করবে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দেবো।’

আগামীকাল বুধবার জোহরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে চট্টগ্রামে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের (৩৫) গায়েবানা জানাজা এবং জানাজা শেষে আবারো বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে মিরসরাইয়ে বিক্ষোভ

ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ ও পথসভার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ৮টার দিকে উপজেলার বারইয়ারহাট পৌর বাজারে এ বিক্ষোভ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র অধ্যক্ষ চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীকে মুক্তির দাবিতে আন্দোলনকারীদের হামলায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

তারা বলেন, ‘চিন্ময় দাস গ্রেফতারের পর তারা ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশী ইসকনরা বিচার চেয়েছে, এটি কি রাষ্ট্রদ্রোহীতা নয়? বাংলাদেশের আইন আদালত কোথায় গিয়েছে। তারা সরকারের কাছে বিচার চাইতে পারতেন। তা না করে তারা সাইফুল ইসলামকে হত্যা করেছেন।’

তারা আরো বলেন, ‘আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা আমাদের জন্মভূমিকে প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে আবার রক্ষা করব।’

এ সময় বক্তব্য রাখেন আহমেদ হাসান জাবের, মঞ্জুর এলাহি সৈকত এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য তাহমিদ খান প্রমুখ।

হাটহাজারীতে ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে ‘ইসকন অনুসারীদের গলা কেটে’ হত্যার প্রতিবাদে এবং ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে বিক্ষোভ করে হাটহাজারী পৌরসভার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও তৌহিদী জনতা।

বিক্ষোভে ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘আমার ভাই শহীদ কেন, জবাব দে, জবাব দে’, ‘মসজিদে হামলা কেন, জবাব দে, জবাব দে’, ‘সন্ত্রাসী সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধ করো, করতে হবে’-সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়া হয়।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দিবাগত রাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে চিন্ময় দাসের জামিন না হওয়ায় কারাগার অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে জোটের নেতারা।

আজ বুধবার তার জামিন না হলে সারা দেশে সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৩

যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন অর্ন্তবর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ওয়ান-ইলেভেনের অন্যতম অনুকুশীলব, কুচক্রীদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিএনপি ভাঙার অপচেষ্টা ও অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া সদ্য বিদায়ি অর্ন্তবর্তী সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে তাঁর পুত্র এম সাফাক হোসেনের একচ্ছত্র প্রভাবে বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টির বিষয়গুলো নিয়েও তদন্ত হবে বলে জানা গেছে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ।

ওয়ান-ইলেভেনের সময় সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন নির্বাচন কমিশনের প্রভাবশালী কমিশনার। সম্প্রতি লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর সাখাওয়াত হোসেন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত মইন, মাসুদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তার দায়িত্ব ছিল কমিশনের পক্ষে কুচক্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা।

তারা যেভাবে নির্দেশনা দিতেন তা বাস্তবায়ন করা। সে সময় বিএনপিকে ভাঙার অপচেষ্টার নেতৃত্বও তিনিই দিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ হলো ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপিকে পরাজিত করতে যে অতিরিক্ত ব্যালট পেপার ছাপানো হয়, সেগুলো তার তত্ত্বাবধানেই হয়েছিল। ব্যালটের ডিজাইনসহ অন্যান্য প্রিন্টিং তথ্য-উপাত্ত লে. জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে তিনি সরবরাহ করেছিলেন।

শেখ মামুন তখন ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন ড. এ টি এম শামসুল হুদা ও অপর কমিশনার ছিলেন মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন। সচিব ছিলেন হুমায়ূন কবির। মইন, মাসুদদের প্রভাবে এই তিনজনকে সব সময় চাপে রাখতেন সাখাওয়াত। সে কারণে সাখাওয়াতের সিদ্ধান্তের বাইরে তাদের কিছুই করার ছিল না।

এ সময় ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রকল্পের পিডি ছিলেন ব্রিগেডিয়ার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। যুগ্ম সচিব ছিলেন ড. রফিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা কমিশনে এই দুইজনকে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়। সূত্র জানিয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় মইন, মাসুদ ও শেখ মামুনের অন্যতম সহযোগী হিসেবে যেসব অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর সত্যতা যাচাই করতে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারেন সাখাওয়াত হোসেন। বর্তমানে তিনি গোয়েন্দা নজরদারিতে আছেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিগত অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে অর্ন্তবর্তী সরকারে তাকে উপদেষ্টা করা হয়। কিন্তু একপর্যায়ে নানান কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তায় সরকার বিব্রত হলে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং পদত্যাগের হুমকি দেন।

কিন্তু সরকারের বিভিন্ন স্পর্শকাতর দপ্তরে তার কর্মকাণ্ডের কিছু তথ্যপ্রমাণ থাকার কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে তিনি সরে আসেন। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তার কিচেন কেবিনেটের সদস্যরা তাকে আর আস্থায় নিতে পারেননি। সে কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো আলোচনায়ও তাকে রাখা হয়নি। অবশ্য কিচেন কেবিনেট ও নির্বাচনসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে তাকে না রাখার ব্যাপারে তিনি নিজেই সম্প্রতি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তথ্য প্রকাশ করেছেন।

সেই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পর অন্য উপদেষ্টারা তার ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন। এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করে একজন সাবেক উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের সময় বিএনপির বিরুদ্ধে ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন যা করেছেন, সেগুলো থেকে বাঁচার জন্য তিনি অর্ন্তবর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বক্তব্য দিয়ে বিএনপির কাছে ভালো থাকার অপচেষ্টা করেছেন।’

এদিকে অর্ন্তবর্তী সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার পর তার পুত্র এম সাফাক হোসেন মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করতেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডেও সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক ছিল সাফাক হোসেনের। তার নেপথ্য নেতৃত্বেই চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত হয়।

এ কাজ করার জন্য অনেক বড় লেনদেন হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বে-টার্মিনালের পরিবহন টার্মিনাল প্রকল্পের মাটি ভরাট, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অন্যান্য কাজের সব নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন। তালতলা ইয়ার্ড নির্মাণের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন সাফাক হোসেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেটে ক্যামিক্যাল শেড নির্মাণকাজেও হস্তক্ষেপ করেন সাফাক। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতিটা সিভিল কাজের জন্য ৫ শতাংশ, ডিপিএমের (সরাসরি টেন্ডার পদ্ধতি) জন্য ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন সাফাক। যন্ত্রাংশ ক্রয়ে অনিয়মে জড়িত ছিলেন উপদেষ্টাপুত্র। তিনি কাজের ধরনভেদে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। সাখাওয়াতপুত্রের নানান দুর্নীতির খবর এখন চট্টগ্রাম বন্দরে সবার মুখে মুখে। এসব অভিযোগও তদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।