ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে তার সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার পর থেকে ছাত্র-জনতা সেখানে অবস্থান নেয়। রাত ৯টা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্তও অবরোধ চলমান রয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগ ছাড়বেন না।
অবরোধকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতি আরও জটিল করা হলে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দেশের জনগণকে শাহবাগে এসে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভকারীরা টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত শহীদ হাদি হত্যার পেছনে যারা জড়িত, এর যারা পরিকল্পনাকারী, হত্যাকারী— তাদের সবাইকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ছি না। আমাদের আর ঘরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আজকে শাহবাগ অবরোধ করেছি। আগামীকালও করা হবে। সারা বাংলাদেশ থেকে জনতা আসছে।”
কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহীদ হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি আরও কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “সরকারের অবস্থা দেখে বোঝা যায়, বিচার নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। ওসমান হাদির বিচারের দাবি এখন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি। আমরা রাজপথে নেমেছি, বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। আমরা কিন্তু আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। রাষ্ট্রের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই বলে দিতে চাই, আমাদের বাধ্য করবেন না ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে।”
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পর শাহবাগ অবরোধ করে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধ চলতে থাকায় শাহবাগ ও আশপাশের সড়কগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর থেকেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।