শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেছেন, অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে সন্তুষ্টি নয়, ন্যায্য নম্বর দিয়ে সততা বেছে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এইচএসসির ফলপ্রকাশ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবদার অনুযায়ী নম্বর বাড়িয়ে দেওয়া খাঁচা অনুযায়ী কাজ নয়। বরং উচিত ছিল প্রতিযোগিতামূলক জনমত ও নৈতিকতা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ধরে রেখে নম্বর নির্ধারণ করা। তিনি বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন ও সঠিক প্রমাণের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণ করার গুরুত্বও তুলে ধরেন।
এই বক্তব্য শিক্ষাঙ্গণ ও জনবিচারবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অতীতের বহু আলোচনায় দেখা গেছে, পরীক্ষার ফল ঘোষণা ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম, চাপ বা আধিপত্যের প্রভাব শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস কমিয়ে দেয়।
সেক্ষেত্রে, আহ্বান করা হয় যে প্রশাসন ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে সেটি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে — শুধু নম্বর বাড়িয়ে নয়, বরং ন্যায্যভাবে নম্বর নির্ধারণ করে সততা ও ন্যায্যতার শিক্ষাগত সংস্কারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
অবশ্য এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি একক ব্যক্তি বা শিক্ষামন্ত্রণালয়ের দায়িত্বই নয় — এটি একটি সামাজিক মানদণ্ড। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং প্রশাসন— সবাইকে এই প্রবণতাকে সমর্থন করতে হবে। কারণ শিক্ষার্থীর জীবনের ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে ন্যায্যতা ও বিশ্বাসের ওপর। যদি শিক্ষার্থী দেখেন যে তাদের অর্জিত শ্রমের মূল্য দেওয়া হচ্ছে, তাহলে বিশ্বাস ও উত্তেজনা দুই-ই বজায় থাকবে।
শেষ অংশে, সি আর আবরার আশা প্রকাশ করেন যে এইচএসসি ফলপ্রকাশ এই নীতির হাতছানি হবে, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার সংস্কার আগ্রহভরে বাস্তব হতে পারে। তাঁর মতে, নম্বর বিতরণের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক সততা প্রতিষ্ঠাই শিক্ষার প্রকৃত মূল্যকে রক্ষা করবে।