আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শক্তিশালী ও সজ্জিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন,
“আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নতুন নিয়োগ, প্রশিক্ষণসহ সার্বিক প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।”
তিনি জানান, ইতিমধ্যে ১৫ হাজার ৮৫১ জন পুলিশ, ৪ হাজার ৪৬৯ জন বিজিবি সদস্য, ৫ হাজার ৫৫১ জন আনসার, ১ হাজার ৫৫৮ জন কারা অধিদফতরের সদস্য এবং ২০৮ জন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসাথে এসব বাহিনীকে আধুনিক সরঞ্জাম, ট্যাকটিকাল প্রশিক্ষণ এবং নির্বাচনী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য বিশেষ মহড়ায় অংশ নিতে বলা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মব সন্ত্রাস আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। তিনি দাবি করেন,
“১৫ আগস্টকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। ফুল দেয়া না দেয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশ ছিল না।”
উল্লেখ্য, বিগত জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে দেশি-বিদেশি মহলে সমালোচনা হয়েছিল। তাই এবার অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই আন্তর্জাতিক মানের পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে।
নির্বাচনী পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে। বিশেষত বিএনপি অভিযোগ করে আসছে যে আগের নির্বাচনে পুলিশ ও প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। এ অবস্থায় সরকারের এই নতুন নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে অনেকে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিতের প্রস্তুতি হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা বলছে, আস্থার সংকট কাটাতে শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়— প্রকৃত নিরপেক্ষতা দরকার।