বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

এক বছর পার হলেও দেশে মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

যারা শেখ হাসিনার দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে অধিকারভিত্তিক গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের সেই স্বপ্ন এখনো অধরা।”

এক বছর পার হলেও দেশে মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার : হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ জুলাই ২০২৫, ১২:১২

গত এক বছরে বাংলাদেশে সরকারের পরিবর্তন ঘটলেও মানবাধিকার পরিস্থিতিতে আশানুরূপ অগ্রগতি আসেনি বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সংস্থাটির প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনা সরকারের সময়কার ভয় ও নিপীড়নের কিছুটা কমতি দেখা গেলেও, নতুন সরকার এখনো বড় কোনো সংস্কার কার্যকর করতে পারেনি।

এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া বিভাগের উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, “যারা শেখ হাসিনার দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে অধিকারভিত্তিক গণতন্ত্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের সেই স্বপ্ন এখনো অধরা।”

তাঁর ভাষায়, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যেন এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে গেছে—যেখানে সংস্কারবিহীন নিরাপত্তা বাহিনী কখনো চরমপন্থি আবার কখনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ভারসাম্য রক্ষা করতেই ব্যস্ত।

২০২৪ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করলেও বাস্তবায়নের দিক থেকে অগ্রগতি নেই বললেই চলে। জাতিসংঘসহ দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সুপারিশও থেকে গেছে কাগজেই। বরং গণপিটুনি, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন এবং এলজিবিটিকিউ জনগোষ্ঠীর প্রতি হুমকি আগের মতোই চলমান রয়েছে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের তথ্য। শেখ হাসিনার সরকারের শেষ সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৪০০ আন্দোলনকারী নিহত হন।

এরপর ৫ আগস্ট তিনি দেশ ছাড়েন এবং ৮ আগস্ট গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এরপরও হেফাজতে মৃত্যু, নির্যাতন এবং বিচারবহির্ভূত ঘটনা বন্ধ হয়নি।

এইচআরডব্লিউ আরও জানায়, ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশ ৮৪০০ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করে, যাদের অধিকাংশের নামই অজানা। ৬ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৯২ হাজারের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

বহু সাবেক এমপি, মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার করা হয়—তাদের মধ্যে আছেন ঢাকা উত্তর সিটির সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, যাঁর বিরুদ্ধে ৬৮টি হত্যা মামলা রয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংস্থাটি বলেছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাঁর বিরুদ্ধে বিচার শুরু হচ্ছে, কিন্তু অনেক মামলায় এখনো কোনো প্রমাণ উপস্থাপন হয়নি। পুরনো ‘স্পেশাল পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ ব্যবহার করে শত শত মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। শুধু ফেব্রুয়ারির ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এ আটক হয় ৮৬০০ জন।

নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। এত বড় অভিযানে অংশগ্রহণকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে মাত্র ৬০ পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুম তদন্ত কমিশন গঠন এবং আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে সই করলেও কমিশনের কার্যক্রমে কোনো সহায়তা করছে না নিরাপত্তা বাহিনী। বরং প্রমাণ নষ্ট করা হচ্ছে বলে দাবি কমিশনের।

১১টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এখনো কার্যকর হয়নি, এমনকি রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরির প্রক্রিয়াও অচল অবস্থায় রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৩২৫ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী নারীদের নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

এইচআরডব্লিউ-এর সুপারিশ, সরকারকে অবশ্যই ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে, র‌্যাব বিলুপ্ত করতে হবে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জবাবদিহি ও নারীর অধিকার রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন এই সরকারকে সহায়তা করলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এই প্রতিবেদন স্পষ্ট করে দেয়, সরকার বদলালেও মানবাধিকার সঙ্কট কাটেনি—বরং নতুন সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে, প্রতিশ্রুতি পূরণে উদ্যোগী হতে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।