গোপালগঞ্জের সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে মূল্যবান মন্তব্য দিয়েছেন দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোস্তফা ফিরোজ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “গোপালগঞ্জ মানেই সারা বাংলাদেশ নয়।”
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এক টকশোতে তিনি বলেন, “৫ আগস্ট কিংবা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সারাদেশে যে আন্দোলন হয়েছে, তা গোপালগঞ্জে হয়নি। এই অঞ্চলটি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিল।”
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “এরশাদ পতনের সময়ও রংপুরে জাতীয় পার্টি ৩৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল—এই ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র এখনও কিছু অঞ্চলে রয়ে গেছে। বগুড়ার অবস্থাও একসময় এমনই ছিল।”
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে মোস্তফা ফিরোজ বলেন, “শুধু পুলিশ দিয়ে নির্বাচন হয় না। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ অন্যান্য সংস্থাকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামানো হয়। কিন্তু গোপালগঞ্জে শুরুতে সেই পরিমাণ ফোর্স মোতায়েন ছিল না, যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঘাটতি সৃষ্টি করে।”
তিনি অভিযোগ করেন, “গোপালগঞ্জে সহিংসতা একতরফা ছিল না। শুধু বলা যাবে না যে বিএনপি হামলা করেছে। সেনাবাহিনীর গাড়িতে পর্যন্ত হামলা হয়েছে, যা ঢাকার মতো এলাকাতেও দেখা যায়নি। এটা স্পষ্ট যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল।”
সবশেষে তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চলকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা দরকার ছিল। দুর্ভাগ্যবশত সেটি করা হয়নি, আর সেখানেই আমাদের কৌশলগত দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোস্তফা ফিরোজের এই বক্তব্য ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।