জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গত ১৪ জুলাই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হলো ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ উপলক্ষে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান। এই আয়োজনে গর্জে উঠল ‘জুলাই বিপ্লবের’ স্মৃতির জয়ন্তী। “আমরা জুলাই বিক্রি করি না, কাউকে বিক্রি করতেও দেবো না”—এই স্লোগান মুখে নিয়েই হাজারো মানুষ সমবেত হয় শহীদ মিনারে, তাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের সশক্ত অংশগ্রহণের ইতিহাস পুনঃজীবিত করা হয়। জাতীয় সংগীতের সম্মিলিত পরিবেশন ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তৈরি ডকুমেন্টারির প্রদর্শনীর মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন হয়। এরপর ‘স্পিকিং’ ও ‘জুলাই বিষাদ সিন্ধু’ চলচ্চিত্রগুলোর প্রদর্শনী হয়, যা ছিল ওই সময়কার বিপ্লবী আন্দোলন ও শহীদদের অবদানকে শ্রদ্ধা জানানোর এক গভীর উপলক্ষ।
উপস্থিত ছিলেন আইন, সংসদ ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদসহ আরো অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য শিল্পী ও জুলাই যোদ্ধা ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান তার জনপ্রিয় গান ‘এই মেয়ে শোন’, ‘আমার নাম প্যালেস্টাইন’ সহ আরো কিছু সংগ্রামী গান পরিবেশন করেন, যা শ্রোতাদের মধ্যে এক দুর্দান্ত সাড়া সৃষ্টি করে।
নারীদের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা এবং সেসময়ের সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন শহীদ নাইমা সুলতানার মা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সায়মা ও উমামা, আবরার ফায়াজ ও স্বর্ণা রিয়া। তাদের কথা থেকে উঠে আসে ১৯৭১ সালের পরবর্তী সংগ্রাম, যেখানে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হলেও, নারীর অধিকার এখনও পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এই ঘটনা ছিল একটি দৃঢ় বার্তা—”এই দেশে নারীরা স্বাধীনভাবে বিচরণ করতে চায়, আমরা আমাদের অধিকার চাই, নারীর উপর নির্যাতন ও অত্যাচারের ঘটনা যেন আর না ঘটে।” বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের উচিত নারীদের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করা, যাতে আগামীতে কোনো প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রয়োজন না হয়।
এছাড়া, ব্যান্ডদল ‘ইলা লা লা’ এর পরিবেশনায় ‘সঙ্গতি’, ‘অচিরজীবির প্রার্থনা’, ‘বাঘের গান’, ‘নীল নির্বাসন’-এর মতো গানগুলো উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্বুদ্ধ করে, বিপ্লবী চিন্তা ও মুক্তির চেতনায় উজ্জীবিত করে।
একই সময়ে স্লোগান গার্লদের স্লোগানসহ ‘আলো আসবেই’, ‘মুক্তি’, ‘ডাহুক’, ‘মেয়ে’ গানগুলো পরিবেশন করা হয়। শেষ পর্যায়ে শহীদ আবরার ফাহাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তার ওপর তৈরি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
এখনো, এই অনুষ্ঠানটি প্রমাণ করে দিয়েছে—’জুলাই’ শুধু একটি মাস নয়, এটি এক বিপ্লবের প্রতীক, যে বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ছিল, গণমানুষের অধিকার ও নারীর মুক্তির জন্য সংগ্রাম।