শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

বাংলাদেশে নানা খাতে বিনিয়োগের গভীর আগ্রহী সৌদি ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশে শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, গ্যাস, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেটসহ নানা খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। গতকাল পবিত্র কাবার সন্নিকটে মক্কা ক্লক টাওয়ারে মারওয়া রায়হান হোটেলের আল সোরফা কনফারেন্স হলে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী সভায় এই আগ্রহের কথা জানান তারা। সৌদি আরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে আয়োজিত এই সভায় […]

বাংলাদেশে নানা খাতে বিনিয়োগের গভীর আগ্রহী সৌদি ব্যবসায়ীরা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৭ জুন ২০২৫, ১১:২৮

বাংলাদেশে শক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, গ্যাস, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেটসহ নানা খাতে বিনিয়োগের ব্যাপারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা।

গতকাল পবিত্র কাবার সন্নিকটে মক্কা ক্লক টাওয়ারে মারওয়া রায়হান হোটেলের আল সোরফা কনফারেন্স হলে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী সভায় এই আগ্রহের কথা জানান তারা। সৌদি আরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে আয়োজিত এই সভায় অংশ নেন জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা চেম্বার অব কমার্সের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ, যৌথ উদ্যোগ এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ সংরক্ষণ নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সৌদি আরব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এসএবিসিসিআই)–এর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মাক তাবাতুল আখতার-এর প্রধান নির্বাহী হাফেজ মাওলানা মুফতি আহমেদ আলীর সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন জেদ্দা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির বোর্ড সদস্য শেখ আব্দুল হাফিজ মক্কী।

অনুষ্ঠানের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএবিসিসিআই–এর আহ্বায়ক আশরাফুল হক চৌধুরী। তিনি মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উদীয়মান বিনিয়োগ পরিবেশ এবং তা থেকে দুই দেশের সম্ভাব্য লাভের দিক তুলে ধরেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ও সৌদি ব্যবসায়ী আহাম্মেদ এ ফারুকী, জেদ্দা চেম্বার বোর্ডের সদস্য আব্দুল্লাহ রাদাহ আল-হারতি, সৌদি বড় ব্যবসায়িক গ্রুপ আল ওয়ান আল মোস্তাহিদার চেয়ারম্যান শেখ ফৌজান আল হারসি, ইলসা ইন্টারগ্রেটেড

কোম্পানির সিইও ও রিয়াদ চেম্বারের বোর্ড সদস্য মিস্টার শাহ জালাল, বারাকাত গ্রুপের সিইও আব্দুল আজিজ বিন আসাদ আল সুবায়ি, মারজান ফ্যাশনের প্রতিষ্ঠাতা নেসার আহমেদ, শিল্পপতি মোহাম্মদ আলী এবং বাংলাদেশ কনসুলেট জেনারেল, জেদ্দার কাউন্সিলর সৈয়দা নাহিদা হাবিবা। মক্কার এক শীর্ষ হোটেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব আলীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সৌদি চেম্বার প্রতিনিধিদের উদ্দেশে আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে সৌদি আরব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি। বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে সৌদি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিডা) উদ্যোগে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনে বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার বিভিন্ন দেশের জন্য আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করেছে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্নে বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জন করতে পারেন। তাঁর আশাবাদ—আগামী এক বছরে হাজার হাজার নতুন বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে পুঁজি আনবেন।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ আব্দুল হাফিজ মক্কী জানান, তিনি ব্রিটিশ উদ্যোক্তা করাইনু কোম্পানির মাধ্যমে ভারী যানবাহনের ব্যাটারি আমদানি করতেন। কিন্তু সেই ব্যাটারির উৎস যে বাংলাদেশ, তা জানার পর তিনি সরাসরি বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এতে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই ব্যাটারি আমদানির সুযোগ পেয়ে তিনি খরচ কমাতে পেরেছেন।

অনুষ্ঠানটি তত্ত্বাবধান করেন এসএবিসিসিআই-এর সদস্য ও তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, রেডিমেড গার্মেন্টস রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান এস.এ. ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার শওকত আলি। রিয়াদ, জেদ্দা, মক্কা ও তায়েফ থেকে আগত শীর্ষ ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে গঠিত নতুন প্ল্যাটফর্মটি বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারের দরজা খুলে দেবে—এমনটাই মত দেন আয়োজকেরা।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, কনসাল জেনারেলসহ অন্যান্য কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সৌদি আরব ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার এ ধারা ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনা তৈরি করবে বলেও মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্ট চেম্বার প্রতিনিধিরা।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।