বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে তদন্তে চলছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা   

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেছেন, ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ তদন্তের জন্য ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে। তিনি বলেন, ‘এপর্যন্ত ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে ৪০ হাজার ডাটা এন্ট্রি হয়ে গেছে। ৫০ হাজার ডাটা এন্ট্রির কাজ চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় এখন সেগুলো যাছাই-বাছাই করছে।’ মহান […]

৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে তদন্তে চলছে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা   

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ মার্চ ২০২৫, ০৯:৪৬

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেছেন, ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ তদন্তের জন্য ডাটা এন্ট্রির কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ‘এপর্যন্ত ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে ৪০ হাজার ডাটা এন্ট্রি হয়ে গেছে। ৫০ হাজার ডাটা এন্ট্রির কাজ চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় এখন সেগুলো যাছাই-বাছাই করছে।’

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক- ১৯৭১ সালের রণাঙ্গনে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৫ আগষ্ট দিবাগত মধ্যরাতের পর অর্থাৎ ১৬ আগস্টের ভোর রাতে চট্টগ্রাম বন্দরে পরিচালিত নৌ গেরিলা অপারেশন ‘জ্যাকপটের’ ডেপুটি কমান্ডার। দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ও নৌ বন্দরগুলো থেকে পাকিস্তানি সেনাদের বিতাড়িত করে মুক্তাঞ্চল করার এই যুদ্ধ অপারেশন জ্যাকপট। ওই সময় অপারেশন জ্যাকপটের খবর দেশ-বিদেশের সংবাদ মাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করার কারণে সেদিন রণাঙ্গণের মুক্তিযোদ্ধারা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য দ্বিগুণ উৎসাহ-উদ্দীপনায় যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল। অপারেশন জ্যাকপট ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অপারেশন। এটি ছিল একটি আত্নঘাতি অপারেশন। এই অপারেশনে ক্ষতিগ্রস্ত পাকিস্তানি অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্যকারী অনেক বিদেশী জাহাজও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্ব সারাবিশ্বে পরিচিতি পায়।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা- বাসস’র সাথে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেছেন উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক। কথা বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট, যুদ্ধে যাবার স্বপ্ন, বিজয় অর্জন নিয়ে। শুনেছেন মেজর জিয়ার কন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা। বলেছেন, সেই স্বপ্ন এবং বর্তমানের বাস্তবতা দেখলে কষ্ট পাই। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ফেরিওয়ালাদের রাজনৈতিক বাণিজ্য, মুক্তিযোদ্ধাদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুন্ন, রাজনৈতিক বিবেচনায় ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি সহ সামগ্রিকভাবে মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় রাজনীতির রঙে রঙ্গীন করা হয়েছে। এখনো বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়। দারিদ্র, নারী অধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবার মতো মৌলিক বিষয় নিয়ে সংগ্রাম করতে হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাসস প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছি বিবেকের তাড়নায়। সেদিন ২২ বছরের এই যুবক যুদ্ধে গিয়েছিল পাকিস্তানি শাসকের শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়ে। স্বপ্ন ছিল স্বাধিকারের। স্বপ্ন ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার। বাঙালির সামাজিক মর্যাদার। কোন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছিলাম না। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসাবে বেঁচে থাকার সংগ্রামে এসএসসি পাশের পর বাড়ী থেকে বের হয়ে গিয়েছিলাম কাজের সন্ধানে অচিন এলাকা খুলনায়।

মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতে গেলে তো সেই সময়ের প্রেক্ষাপট এখন উপস্থাপন করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না। সেটা একটা উত্তাল গণ আন্দোলনের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা স্বাধীকারের চেতনা। পাকিস্তানীদের বাঙালি বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা পুঞ্জীভুত ক্ষোভ ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ৭০এর নির্বাচন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন। তখন মনে করেছিলাম পাকিস্তান রাষ্ট্র শাসনের অধিকার পাবে বাঙালি। কিন্তু নানা তালবাহানায় এই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব না দিয়ে পুর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে শোষণের শঙ্কা জাগিয়ে তুললো পশ্চিম পাকিস্তানিরা।

ফারুক ই আজম বলেন, ১৯৬৬ সালে এসএসসি পাশ করার পর বুঝলাম কলেজে পড়া হবেনা। ওই বছরের আগস্ট মাসে পরিবারের অগোচরে কাউকে কিছু না জানিয়ে মাত্র ৫০ টাকা সম্বল করে খুলনার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতে বাড়ি ছাড়লাম। তখন খুলনায় আমাদের বাড়ির কয়েকজন চাকরি ও ব্যবসা করতেন। ধারণা করেছিলাম, তাদের কাছে গেলে চাকরি পাব। সেখানে পৌছে খুলনায় ইস্টার্ণ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট নামের একটা জলপরিবহন কোম্পানিতে সুপারভাইজার এর চাকরি পেলাম। সেখানেই ১৯৭১ সালের মার্চ পর্যন্ত নিয়মিত চাকরি করেছি।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ হাজার হাজার জনতার সঙ্গে আমিও খুলনার হাদিস পার্কে গেলাম। আলোচনা হচ্ছিল, ঢাকার রেসকোর্স থেকে শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দেবেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা শোনা ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নেই আমাদের। যেহেতু ৭ মার্চের ভাষণ তাৎক্ষণিক শুনতে পাইনি, তাই বিভিন্ন আলোচনার ঢালপালা গজাচ্ছিল। কেউ বলেছে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, কেউ বললো করেনি। পরদিন সকালে রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে সম্প্রচারিত ভাষণটি শুনতে পাই। এর কয়েকদিন পর আজম খান কলেজের পাশে পাকিস্তানীদের নির্মমতা দেখতে পাই। গুলি করে হত্যা করা ৭/৮ জনের লাশ দেখতে পেলাম।

ফারুক ই আজম বলেন, ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সকাল দশটা থেকে তিন ঘন্টার জন্য কারফিউ শিথিল হলে আমরা তিন বন্ধু কাঞ্চন, মোহাম্মদ হেনে ও আমি মুন্সিপাড়া ইসলাম সাহেবের বাড়ির দিকে গেলাম। সেখানে খান জাহান আলী রোডের একটি গলির মুখে ৭/৮ টি লাশ দেখতে পেলাম। বিকেলে মৌলভী পাড়ার গলিতে ঢুকলাম। সেখানে চামড়ায় বাধানো ট্রানজিস্টারে ক্ষিণ কন্ঠে শুনতে পেলাম স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র চট্টগ্রাম থেকে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি, …বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈন্য, বিডিআর,পুলিশ দখলদার পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছে। সর্বত্র তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহবান জানাচ্ছি। আমি বিশ্বের সব দেশ ও সরকারকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও সাহায্যে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ফারুক ই আজম বলেন, প্রায় দুই শতাধিক লোক আমরা জড়ো হয়ে নীরব নিস্তব্ধতায় একজন বাঙালি সেনা মেজরের মুখে বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতার ঘোষণা শুনলাম এবং যুদ্ধে যাবার আহ্বান শুনে আমাদের মধ্যে বীরত্বের শিহরণ হয়ে গেল। আমার ওই সময় অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। চট্টগ্রামে আমার জন্মানোর সার্থকতায় গর্ববোধ করলাম। এই চট্টগ্রাম থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা। ওই মুহুূর্তে শপথ নিলাম, যে করেই হোক চট্টগ্রাম যাব এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেব। কারফিউ চলছে। ব্যাচেলর বাসা থেকে স্থানীয় তাহের সাহেবের বাসায় তিন বন্ধু উঠলাম। কারফিউ শিথিল হলে অফিসে যাই। তখন থেকেই চট্টগ্রাম ফেরার সুযোগ খুজঁতে থাকি। একদিন জাহাজে চড়লাম এবং চট্টগ্রাম ফিরে আসলাম।

তিনি বলেন, ৭১ সালের মে মাসের ৫ তারিখে ২৮ জনের একটি দল রামগড় হয়ে ভারতে যাবার জন্য বাড়ি ছাড়লাম এবং ভারতের সাবরুম হয়ে হরিণা ক্যাম্পে পৌছঁলাম। ওখানে স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়াকে দেখার খুব ইচ্ছে হলো। শুনলাম তিনি আগরতলা গেছেন। বিকেলে আমাদের নৌ যুদ্ধের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়। সেখানে দেখা হয় ক্যাপ্টেন রফিকের সাথে। ভারতীয় নৌবাহিনীর কমান্ডার জি, মার্টিসের নেতৃত্বে ১ জুন থেকে ভাগিরথি নদীতে জাহাজ বিধ্বংসী মাইন, নোঙ্গরের শিকল কাটা, পানির নিচে বিস্ফোরকের প্রশিক্ষণ আমাদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিং করানো হলো।

ফারুক ই আজম বলেন, আগস্ট মাসের এক তারিখে পলাশি রেস্ট হাউস কাম জাদুঘরের সামনে আমাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। প্রশিক্ষণের প্রধান কমান্ডার সামান্তা আমাদের মধ্য থেকে পূর্ব পাকিস্তানের সব নদী ও সমুদ্র বন্দরের জন্য কমান্ডো দল বাছাই করেন। আমি চট্টগ্রামের জন্য বাছাই করা ৬০ জনের দলের অন্তর্ভুক্ত হলাম। দলের অধিনায়ক মনোনীত হলেন আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী। তিনি ফ্রান্স থেকে পালিয়ে আসা নাবিকদের একজন ছিলেন। তার ডেপুটি কমান্ডার হলেন শাহ আলম নামে চট্টগ্রাম মেডিকেলের একজন ছাত্র। চট্টগ্রামের দলকে ২০ জন করে তিন ভাগে ভাগ করা হলো। বিভক্ত বিশজনের একটি দলে শাহ আলম অধিনায়ক এবং তাঁর ডেপুটির দায়িত্ব পাই আমি। এভাবে মংলা, খুলনা, চাঁদপুর সহ দেশের নদী ও সমুদ্র বন্দরের জন্য নৌ কমান্ডো দল ঠিক করা হয়।

তিনি বলেন, ১১ আগষ্ট তিনটি গ্রুপে ৬০ জনের একটি দল চট্টগ্রামের উদ্দ্যেশে রওনা হলাম। ১৪ আগষ্ট পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস। ১৫ আগষ্ট সকাল থেকে রেকি করা হলো। অভিযানের কমান্ডার আবদুল হক চৌধুরী ও চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শাহ আলম এসে বললো রাতেই বন্দরে অভিযান করতে হবে। আল মানা জাহাজে মাইন বাধতে না পারলেও গ্রিক জাহাজ এবলোস-এ মাইন বাধা হলো। কয়েকঘন্টার মধ্যে পরপর ৪ টি মাইন বিস্ফোরিত হলো। ১৫ হাজার টনের গ্রিক জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হলো। আমরা আনন্দে উল্লসিত হয়ে উঠলাম।

ফারুক ই আজম বলেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুষ বিজয় লাভের পরও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতা হস্তান্তর না করার প্রতিশোধের আগুন জ্বলে ওঠে বাংলাদেশে। নয় মাসের সেদিন দেশ স্বাধীন হয়েছে লাখো মুক্তিযোদ্ধার শাহাদাত বরণ ও রক্তের বিনিময়ে, মা-বোনদের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু দেশ স্বাধীনের পর ৫৪ বছরে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারিনি আমরা। এখনো আমাদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে বৈষম্যের বিরুদ্ধে। ২৪ এর জুলাই বিপ্লব ছিল স্বৈরাচারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন করে স্বপেরœ বীজ বপনের। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনে হাজার হাজার ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে দেড় সহস্র মানুষ শহীদ হয়েছে। কয়েক হাজার লোক আহত ও পঙ্গুত্বের শিকার হয়েছেন। স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে ছাত্র জনতার বিজয়ের পতাকা উড্ডীন হয়েছে। বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উত্তরসুরি হিসেবে কাজ করছে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রেণীবিন্যাস এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক চেতনায় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় করানো হয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও সেদিনের অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশুরাও মুক্তিযদ্ধের তালিকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি- নাতনি না হয়েও ভুয়া কাগজ তৈরী করে চাকুরী ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেক্টরে কোটা সুবিধা নিয়েছে। এসব এখন তদন্তের অধীনে আসছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমাদের একটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় বিভিন্ন তদবির ও দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত হয়েছে। তারা ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে। দেখা যাচ্ছে, আবেদনে যেই মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণের ‘তথ্য প্রমাণ ও ডিক্লারেশন’ দিয়েছেন, ‘আমি অমুক সেক্টরে অমুক জায়গায় যুদ্ধ করেছি’ খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে সেই সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বা অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা তাকে চিনেনইনা। কখনো দেখেননি। এরকম শত শত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা পড়েছে। এপর্যন্ত ৯০ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলা থেকে অভিযোগ পেয়েছি। এরমধ্যে ৪০ হজার ডাটা এন্ট্রি হয়ে গেছে। ৫০ হাজার ডাটা এন্ট্রির কাজ চলমান রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় এখন সেগুলো যাছাই-বাছাই করছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের স্বেচ্ছায় নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হবে। ইতোমধ্যে কয়েকজন নাম প্রত্যহারের আবেদন করেছেন। যারা নাম প্রত্যাহার করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবেনা। অভিযোগ পাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দেয়ার চিঠি দেয়া হবে। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে। তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। শুনানী করে যাদের কাগজপত্র ঠিক আছে, তারা গেজেটভুক্ত থাকবে। আর যারা অভিযোগ প্রমাণ করতে পারবেনা তাদের গেজেট বাতিল করে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ গঠনের পর দ্রুত বিষয়টি নিস্পত্তির উদ্দ্যেগ নেয়া হবে। আশা করছি সময় কিছুটা ক্ষেপন হলেও প্রকৃত রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রস্তুতে সফলতা আসবে।

তিনি বলেন, সরকার রণাঙ্গনের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা চিহ্নিত করার কাজ করছে। যেসব কৃষক-শ্রমিক, সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ,নৌ কমান্ডো, আনসার, ইপিআর যুদ্ধ করেছে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাদের মর্যাদা কখনো সীমান্ত পাড়ি দেয়া,কিংবা বিদেশে বসে আরাম আয়েশে জনমত সৃষ্টির প্রচারণা চালানো, ফুটবল খেলোয়াড়, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গান গাওয়া মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা এক হতে পারেনা। তাই মন্ত্রনালয় মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ গ্রহণ ছাড়া অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের ‘সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছে। এব্যাপারে উপদেষ্টা পরিষদে আলোচনা প্রজ্ঞাপন জারি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

যারা রণাঙ্গনে ২৬ শে মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্নস্থানে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন তারা রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। অপরদিকে যারা বিদেশে জনমত তৈরীর প্রচার চালিয়েছেন, স্বাধীন বাংলা ফুটবল টিমের খেলোয়াড়, স্বাধীন বাংলা বেতারের শিল্পী, সাংবাদিক, ডাক্তার, নার্স, চিকিৎসা সহকারী সহ যারা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রয়েছেন,তাদের সহযোগি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের সেদিনের চেতনার সাথে এখনকার চেতনা মেলানো যাবে না। এখন সবাই সুবিধাভোগি এবং চেতনাকে নানাভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা ইমেজ সংকটে পড়েছে। তাদের সম্মান

তিনি বলেন, গেজেট অনুযায়ী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ৬ হাজার ৭৫৭ জন। এরমধ্যে ভাতা গ্রহণ করছেন ৫ হাজার ৩৫৮ জনের পরিবার। অবশিষ্ট ১৩৯৯ জন ভাতা গ্রহন করছেন না। তারা এ পর্যন্ত আবেদনও করেনি। এই শহীদ পরিবারগুলো কোথায়, কেন তারা ভাতা গ্রহণ করছেননা রাষ্ট্র জানে না। রাষ্ট্রকে তাদের কাছে যাওয়া উচিত। তাদের খুঁজে বের করা উচিৎ। কারা এই শহীদ পরিবার। আমার মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই গ্রামের কৃষক, শ্রমিক জনগণ। তারা জানেনা কিভাবে সরকারের কাছে আবেদন করতে হয়। শহীদ পরিবারগুলো খুঁজে বের করার জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারগুলোকে খুঁজে বের করে রাষ্ট্রের প্রদত্ত সুযোগ সুবিধার আওতায় আনা।

উপদেষ্টা জানান, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয় কোনরূপ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নির্মোহভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও সম্মানিত করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তা বাস্তবায়ন করা গেলে অর্ধ শতাব্দির বঞ্চনার ইতিহাসের পরিসমাপ্তি হবে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।