মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

একের পর এক মিথ্যা তথ্যে জনগণকে বিভ্রান্তের চেষ্টা চলছে: প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ অভিযোগ করেন। ড. ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের মহোৎসব শুরু হয়েছে। দেশকে […]

একের পর এক মিথ্যা তথ্যে জনগণকে বিভ্রান্তের চেষ্টা চলছে: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ মার্চ ২০২৫, ০০:৩৮

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ড. ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের মহোৎসব শুরু হয়েছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে। এ ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র করছে কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী।’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘এক ছবির সঙ্গে আরেকটি ছবি জুড়ে দেওয়া হচ্ছে, ভিন্ন ঘটনার ছবি ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড তৈরি করা হচ্ছে এবং এমনকি অন্য দেশের ঘটনাকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, এই ধরনের গুজব আরও ভয়ংকর আকার ধারণ করছে। কারা এসব অপপ্রচারের পেছনে কাজ করছে, তা কারও অজানা নয়। গুজবের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে এবং এটি সরাসরি দেশের অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র।’

ড. ইউনূস জানান, ‘আমরা এই গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছি। জাতিসংঘ মহাসচিব এ বিষয়ে সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবহিত করেছি এবং আশা করছি তারা আমাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হলো। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা এক যুদ্ধাবস্থার মধ্যে আছি, যেখানে গুজব হলো পরাজিত শক্তির অন্যতম প্রধান অস্ত্র। যারা এই গুজব ছড়িয়ে দিতে ব্যস্ত, তারা দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়।’

তিনি জনগণকে গুজবের উৎস সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘গুজব দেখলেই এর উৎস খুঁজতে হবে। এটিকে অবহেলা করা যাবে না। গুজব ছড়ানোর কাজে দক্ষ ব্যক্তি ও বিপুল অর্থ নিয়োজিত রয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করা। আমরা তাদের এই অপচেষ্টা সফল হতে দেব না।’

জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘জনগণের এই ঐক্য পলাতক শক্তিকে বিচলিত করে তুলছে। তারা চায় এই ঐক্য ভেঙে দিতে। তাদের কৌশল এতটাই সূক্ষ্ম যে অনেক সময় বোঝাই যায় না, কখন তাদের খেলায় কেউ পুতুল হয়ে গেছেন। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে গুজব রুখতে হবে এবং ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে হবে।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ড. ইউনূসের এই ভাষণ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জাতীয় ঐক্য সংরক্ষণে একটি সুস্পষ্ট বার্তা প্রদান করেছে। পাশাপাশি, গুজবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে সরকার তার শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে। দেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কাজ করার পরামর্শ দেন।

ড. ইউনূসের এই ভাষণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের এই ধরনের সতর্কতা অবলম্বন ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।