রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ড. ইউনূসের বড় সাফল্য দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, জনমনে আশার সঞ্চার

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাত মাসের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা মাহে রমজানের শুরু থেকেই কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পর থেকে দেশের […]

ড. ইউনূসের বড় সাফল্য দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃংখলা নিয়ন্ত্রণ, জনমনে আশার সঞ্চার

ছবি: সংগৃহিত

নিউজ ডেস্ক

০৫ মার্চ ২০২৫, ২৩:৫১

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাত মাসের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য জনগণের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা মাহে রমজানের শুরু থেকেই কার্যকর হয়েছে। অন্যদিকে, ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’-এর মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে।

দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের পর থেকে দেশের জেলা প্রশাসকরা নিজ নিজ জেলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ অভিযান দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ভূমিকা রেখেছে। বাজার তদারকির পাশাপাশি চালানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনী পরিচালনা করছে ‘ডেভিল হান্ট’ অপারেশন।

তিন দিনের জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম দুইটি চ্যালেঞ্জকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন—রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই দুই ক্ষেত্রে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দৃশ্যমান সফলতা এনেছে।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট রমজানের বাজারকে অস্থিতিশীল করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। পাশাপাশি, চুরি-ডাকাতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল তারা। অন্তর্বর্তী সরকার জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেয়, যার পর জেলা প্রশাসকরা দেশব্যাপী দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক অভিযান শুরু করেন এবং এখনও তা অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম জানান, আড়তদার ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের আইন শক্তিশালী, না কি মজুতদার ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী—এই চ্যালেঞ্জ আমরা নিতে চাই। রমজানের আগে ব্যবসায়ীদের চার দফা বৈঠকে সতর্ক করেছি। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তাই বাণিজ্যিক রাজধানী খাতুনগঞ্জে অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দিয়েছেন, ১৬০ টাকা দরে তারা সয়াবিন তেল বিক্রি করবেন। সিন্ডিকেটের কেউ পার পাবে না, প্রয়োজনে আইনের আওতায় এনে জেলে পাঠানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ পর্যন্ত ৪০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছি, রমজানে আরও ৪০০টি পরিচালনার পরিকল্পনা আছে। কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।”

প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় অনুপ্রাণিত হয়ে জেলা প্রশাসকরা কঠোরভাবে মাঠ প্রশাসন পরিচালনা করছেন। সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, “সরকারকে যদি একটি দল হিসেবে দেখা হয়, তাহলে এটি একটি টিম। আমি প্রধান অতিথি নই, এই টিমের একজন লিডার বা ক্যাপ্টেন। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাই নিজ নিজ জেলায় সরকারের প্রতিনিধি।”

একজন জেলা প্রশাসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জেলার দায়িত্ব পালন করলেও প্রশাসনের মধ্যম স্তরের কর্মকর্তা। কিন্তু বিশ্বের কাছে সমাদৃত একজন নোবেল বিজয়ী ও অর্থনীতির অধ্যাপককে আমাদের দেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে পাওয়া আমাদের জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। তার সম্মান রক্ষায় আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রমজান মাসের বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে। ডিসি সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আড়তদার ও মজুতদার সিন্ডিকেট ধ্বংস, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্পষ্ট ভাষায় রাষ্ট্র সংস্কার ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে জনগণের চাহিদার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।” বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টারা এবং নীতিনির্ধারকরা সংস্কার, বৈষম্যের অবসান, জাতীয় ঐক্য, দুর্নীতিমুক্ত সমাজব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

জেলা প্রশাসকরা মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে চেয়েছিল। তবে প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও শক্ত অবস্থানের ফলে সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।

সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস। সংস্থাটির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, “সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ইতিবাচক। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে, যা আগামী দিনে বাংলাদেশকে স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে নেবে। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে বাংলাদেশের মর্যাদা বিশ্ব দরবারে আরও উঁচুতে উঠবে।”

ইতোমধ্যে সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যে পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন বাতিল, জুলাই শহীদদের স্বীকৃতি প্রদান ও জুলাই যোদ্ধাদের মর্যাদা নিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম পর্বের কার্যক্রম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সামনের দিনে সরকার যদি দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও বাজার স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়, তবে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও টেকসই হবে।

খবর বাসস

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।