মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

একটা পলাতক দল সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশকে  অস্থিতিশীল করার জন্য

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব দেশত্যাগ করেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য।” অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাসের পথচলা, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কার ও আসন্ন নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে বিবিসি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও […]

একটা পলাতক দল সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশকে  অস্থিতিশীল করার জন্য

ছবি: সংগৃহিত

নিউজ ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৫, ১১:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব দেশত্যাগ করেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাসের পথচলা, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কার ও আসন্ন নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে বিবিসি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও তিনি তার মতামত প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির। দৈনিক সকাল পাঠকদের জন্য সংক্ষেপিত রূপে সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার গঠনের আগে তার কোনো ধারণাই ছিল না যে তিনি এমন একটি দায়িত্ব পাবেন। তিনি বলেন, “আমি তখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলাম না, তবে সম্ভাবনা ছিল। আমি বিষয়টি সহজভাবে নিয়েছিলাম। সরকার যখন গঠিত হলো, তখনও আমার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। হঠাৎ করেই আমি এমন একটি দেশের দায়িত্ব পেলাম, যেখানে সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল এই ধ্বংসাবশেষ থেকে দেশের আসল চেহারা বের করে আনা এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা। এরপর ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা এবং সংস্কারের দিকে অগ্রসর হওয়া।”

বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার কিভাবে টিকে থাকল, কেন এত দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলতে পারল—এসব প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন, কারণ এতদিন আমরা কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি।”

আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জনে আমরা সফল হয়েছি। দেশের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনশৃঙ্খলার কিছু খুচরো সমস্যা থাকতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি উন্নতির দিকেই যাচ্ছে।”

আইনশৃঙ্খলার পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অপরাধের সংখ্যা মোটেই বাড়েনি, বরং আগের মতোই রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের পুলিশ বাহিনী একসময় ভয়ে রাস্তায় নামতে চাইত না, কারণ তারা নিজেরাই হামলার শিকার হয়েছে। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে পুরোপুরি ঠিক হতে আরও সময় লাগবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার অবস্থান একই আছে, কেউ আমাকে অসমর্থন করছে না। রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে ঐক্যের কোনো ফাটল ধরেনি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অভিযোগ যে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এমন অভিযোগ সঠিক নয়।”

ছাত্রদের নতুন দল গঠনের বিষয়ে সরকারের কোনো সহায়তা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকার কোনো সহায়তা করেনি। যারা রাজনীতি করতে চেয়েছেন, তারা সরকারের পদ ছেড়ে চলে গেছেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”

সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছি।” সেনাপ্রধানের বক্তব্য যে সবাই একসঙ্গে কাজ না করলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে—এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। মাঝখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা অপপ্রচারের কারণে তৈরি হয়েছে। তবে আমরা এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।”

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক, আমাদের সমান অধিকার রয়েছে। তবে যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে।”

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যখন প্রয়োজন হয়, তখন যোগাযোগ হয়।”

নিজের রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো রাজনৈতিক দল গঠন করিনি, করার পরিকল্পনা করেছিলাম মাত্র। তবে পরে বুঝেছি, রাজনীতি আমার জন্য নয়।”

সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি বলেন, “আমি এই পদে আসতে চাইনি, আমাকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়েছি, কিন্তু আমি রাজনীতির মানুষ নই।”

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।