সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

হাসিনার চলে যাওয়া আমাদের কাছে অলৌকিক মনে হচ্ছিল: মির্জা ফখরুল

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনটি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর শুনে আমাদের কাছে ‘অলৌকিক’ মনে হয়েছিল। সোমবার (৩ আগস্ট) দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। প্রথম আলোতে […]

হাসিনার চলে যাওয়া আমাদের কাছে অলৌকিক মনে হচ্ছিল: মির্জা ফখরুল

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮:০৪

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনটি নিজের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর শুনে আমাদের কাছে ‘অলৌকিক’ মনে হয়েছিল।

সোমবার (৩ আগস্ট) দৈনিক প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

প্রথম আলোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ আগস্ট সকালে আমি বাসায় ছিলাম। আগে থেকেই ছাত্রদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল এবং বেশ ধারাবাহিকভাবেই চলছিল। বেলা ১১টার দিকে আমাদের জেনারেল আকবর (অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহি আকবর) আমাকে ফোন করে জানালেন, চিফ (সেনাপ্রধান) আপনাকে ফোন করবেন, আপনি ধরবেন।

তারপর বোধ হয় দুপুর ১২টার দিকে চিফ ফোন করলেন, বললেন যে আমি একটু আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে চান, আমি সে বিষয়টা নিয়ে আপনাদের সঙ্গে একটু কথা বলতে চাই; তারপর কী হবে।

আমি বললাম, আপনি আর কাকে কাকে ডাকছেন। উনি বললেন, তিনি বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলকে ডেকেছেন। এরপর আমি বললাম, এখন তো বাইরে যাওয়ার উপায় নেই। গাড়ি তো চলবে না, এখন রাস্তায় সব মানুষ। উনি বললেন, আমি গাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

মির্জা ফখরুল জানান, সেনাসদরে যাওয়ার আগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে লন্ডনে যোগাযোগ করে আলোচনার বিষয় ও দলের অবস্থান নিয়ে কথা বলেন। পরে সেনাবাহিনীর পাঠানো গাড়িতে চড়ে সেনাসদরে যান তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি বলেন, বৈঠকে জাতীয় সরকারের প্রস্তাব উঠলেও বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে অবস্থান নেয়।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, সেনাপ্রধান সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধান চেয়েছিলেন। বৈঠকের একপর্যায়ে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বলে সেনাপ্রধান তাদের জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, তখন তো দারুণ একটা উত্তেজনা। হাসিনা চলে যাচ্ছে, এটা তো একটা আমাদের কাছে অলৌকিক ঘটনা মনে হচ্ছিল। এ জন্য যে ১৭টা বছর আমরা এটার জন্য লড়াই করছি। আর এত বড় একটা কঠিন আন্দোলন, এটা রিয়েলি বর্ণনা করা যাবে না তখনকার সেই অভিব্যক্তি।

আমি কিন্তু ওখান থেকে মাঝে মাঝে আমাদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম। তারপর তো আমাদের সবাইকে নিয়ে যাওয়া হলো বঙ্গভবনে। রওনা হয়েছি আমরা বিকেলে, কিন্তু পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা। প্রায় তিন ঘণ্টা লেগে গেছে ওখানে যেতে। সারা রাস্তায় তো মানুষ আর মানুষ এবং সবাই অত্যন্ত আনন্দিত। সমস্ত ছেলেমেয়ে, কেউ ঘাড়ের মধ্যে বাচ্চাদের নিয়ে হাঁটছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন ক্যান্টনমেন্টের গেট থেকে বের হবো, দেখি গাড়ি বের হওয়ার কোনো উপায় নেই। রাস্তা একদম ব্লক। মানুষের দ্বারা ব্লক। ওইখানেই তখন কতগুলো ওই ড্রাম, সেগুলোর ওপর প্রথমেই আমাদের মান্না দাঁড়াল, আমি দাঁড়ালাম, তারপর জামায়াতে ইসলামের শফিকুর রহমান দাঁড়ালেন।

আমরা অনুরোধ জানালাম, এখন আমাদের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে, দেশকে চালাতে হবে। আমরা বঙ্গভবনে যাচ্ছি। আমরা যখন বঙ্গভবনে পৌঁছালাম, প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ছাত্রদের নেতারা তখনো এসে পৌঁছায়নি। কয়েকজন এসেছে, এক্সাক্টলি নামগুলো আমার মনে নেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন।

আসিফ নজরুল ওয়াজ নেগোশিয়েটিং, ইনফ্যাক্ট উনি তখন এই যে কথাবার্তাগুলো হচ্ছিল, সেটার ব্রিজিং (সেতুবন্ধ) করছিলেন আসলে। উনি সেনাসদরেও ছিলেন এবং দেয়ার অলসো হি ওয়াজ প্লেয়িং লিডিং রোল। ওখানে (বঙ্গভবনে) আসার পর আলোচনা হচ্ছিল। প্রথমেই আমি বললাম, আলোচনার আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। তখন আর্মি চিফ বললেন, হ্যাঁ, এটা অবশ্যই করা উচিত।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।