দেশের প্রান্তিক ও গ্রামীণ এলাকার অসচ্ছল পরিবারের জন্য সুলভমূল্যে এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডার সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গত ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো দরিদ্র মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবেশ রক্ষা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো। বর্তমানে দেশের অনেক গ্রামীণ পরিবার রান্নার জন্য কাঠ, খড়কুটো ও অন্যান্য প্রথাগত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এতে বন উজাড়ের পাশাপাশি চুলার ধোঁয়ায় নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করে স্বচ্ছ ডাটাবেজ তৈরি এবং ভর্তুকিপ্রাপ্ত সিলিন্ডার যাতে অপব্যবহার বা কালোবাজারিতে না যায়, তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশ বেসরকারি খাতের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। সরকারি কোম্পানির ১২.৫ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য ৮২৫ টাকা হলেও বেসরকারি বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এলপিজি ব্যবহার এখনও ব্যয়বহুল।
ভারতের মতো সরাসরি ভর্তুকি প্রদানের মডেল অনুসরণ করলে এ কর্মসূচি আরও কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে।