বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক; চমক দেখাল কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক 

নানা সংকটের মধ্যেও সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) সংগ্রহে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। তবে এবার সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এরপরেই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর নানা সংকটের মধ্যেও রেমিট্যান্স সংগ্রহে এককভাবে আধিপত্য ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। […]

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক; চমক দেখাল কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক 

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স সংগ্রহে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক; চমক দেখাল কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক 

ডেস্ক রিপোর্ট

১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৪২

নানা সংকটের মধ্যেও সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) সংগ্রহে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। তবে এবার সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, যা দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। এরপরেই তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর নানা সংকটের মধ্যেও রেমিট্যান্স সংগ্রহে এককভাবে আধিপত্য ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকটি মোট ৬.৮৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।

সাধারণত কৃষি ঋণ বিতরণের জন্য পরিচিত কৃষি ব্যাংক এবার ৪.১০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে। আর ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানটি নিজেদের করে নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪.৯৭ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে রেমিট্যান্স তালিকার শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক। সেবার ২.১১ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে চতুর্থ অবস্থানে ছিল কৃষি ব্যাংক, আর ২.০৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে ছিল ব্র্যাক ব্যাংক।

বাংলাদেশে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেকর্ড ৩৫.৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে—যা আগের অর্থবছরের ৩০.৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে ১৭.৩ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, রপ্তানি আয় তুলনামূলক কম হওয়া সত্ত্বেও রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি সামাল দেওয়া এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা ধীর ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে ২৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল, যা ছিল বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বার্ষিক বৃদ্ধি।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেন, গত অর্থবছরে ব্যাংকটি ৮৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে, যা দেশের মোট প্রবাসী আয়ের ১৯.৩৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, ‘এই অসামান্য অর্জন আমাদের প্রবাসী গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের আস্থা, বিশ্বাস এবং এই ব্র্যান্ডের প্রতি তাদের বিশ্বস্ততার সরাসরি প্রতিফলন।’

তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক এক্সচেঞ্জ হাউস নেটওয়ার্ক ও বৈশ্বিক সহযোগী অংশীদারদের সহায়তায় ব্যাংকটি তাদের বিস্তৃত শাখা, উপ-শাখা ও এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে দেশব্যাপী রেমিট্যান্স সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

গ্রাহকরা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া সেলফিন ও এমক্যাশ-এর মাধ্যমেও দ্রুত ডিজিটাল পদ্ধতিতে অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রবাসীদের আরও উন্নত সেবা দেওয়ার জন্য সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), ওমান, কাতার, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ প্রধান প্রধান রেমিট্যান্স হাবগুলোতে ব্যাংকটির ২০ জন ডেডিকেটেড প্রতিনিধি রয়েছেন।

আলতাফ হোসেন বলেন, ‘আমাদের প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ যেন নিরাপদে ও দ্রুততম সময়ে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের ব্যাংকিং সেবার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’

কৃষি ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ও হিসাব বিভাগের প্রধান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে ব্যাংকটি আরেকটি বড় মাইলফলক অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রবাসীদের অবিচল আস্থা, বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউসের সহযোগিতা এবং আমাদের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও নিরলস পরিশ্রম।।’ এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভূমিকা ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মোস্তাফিজুর আরও বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা অত্যন্ত সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সার, জ্বালানি, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন সরকারি আমদানি এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির অর্থায়নে ব্যবহার করছে কৃষি ব্যাংক।

‘আমরা সরকারের আমদানি ব্যয় পরিশোধে অন্যতম ভূমিকা রাখছি,’ বলেন তিনি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২.৯৭ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে উঠে আসা ব্র্যাক ব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২.০৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল।

অন্যান্য ব্যাংকের সংগ্রহ ১০.২২ বিলিয়ন ডলার

দেশের শীর্ষ রেমিট্যান্স সংগ্রহকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ট্রাস্ট ব্যাংক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংকটি ২.৫০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় দেশে এনেছে।

পঞ্চম ও ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক—অগ্রণী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক; ব্যাংক দুটির সংগ্রহ যথাক্রমে ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার ও ২.০৮ বিলিয়ন ডলার।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সিটি ব্যাংক সংগ্রহ করেছে ১.১২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১.০৯ বিলিয়ন ডলার, ইস্টার্ন ব্যাংক ১.০৭ বিলিয়ন ডলার ও পূবালী ব্যাংক ১.০৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহে করে এর পরের অবস্থানে রয়েছে।

চলতি হিসাবের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করছে রেমিট্যান্স

রেকর্ড প্রবাসী আয়ে ওপর ভর করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের চলতি হিসাবের ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তবে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ওপর দুর্বল অভ্যন্তরীণ চাহিদার নেতিবাচক প্রভাব অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, জুলাই-মে সময়ে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে ৩০১ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৭৮ মিলিয়ন ডলার।

একটি দেশের পণ্য ও সেবার বাণিজ্য, আন্তঃসীমান্ত আয়ের প্রবাহ এবং রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক সহায়তার মতো লেনদেনের হিসাবকে চলতি হিসাব বলা হয়।

নিট রিজার্ভ বেড়ে ২৭.৯২ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) বেড়ে ২৭.৯২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যা সর্বনিম্ন ১৬.৭৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।

জোরালো রেমিট্যান্স প্রবাহ, তুলনামূলক স্থিতিশীল বিনিময় হার, বহুপাক্ষিক অর্থায়ন ও আমদানি ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে রিজার্ভের এই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী, রিজার্ভের দায় বাদ দিয়ে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ গণনা করা হয়। একটি দেশের নিজস্ব মুদ্রা স্থিতিশীল রাখার এবং বৈদেশিক পেমেন্টের বাধ্যবাধকতা পূরণের সক্ষমতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে একে মূল সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।