বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের পরিচয়ে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তার দাবি, সবাই যদি একইভাবে আত্মরক্ষার পথ বেছে নিতেন, তাহলে আবরার হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় কাউকে পাওয়া যেত না।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে রাশেদ খান বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শিশির মনিরের ভূমিকা আবরারের বাবার কাছে কষ্টদায়ক বলে মনে হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আবরার ফাহাদকে ছাত্রশিবিরের কর্মী আখ্যা দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। তবে হত্যাকাণ্ডের পর বিচারের দাবিতে তৎকালীন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদ মিছিল বের হয়।
রাশেদ খানের ভাষ্য, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নুরুল হক নুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিপরীতে শিশির মনিরসহ অন্যদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি।
ছাত্রশিবিরের তৎকালীন অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে রাশেদ খান লেখেন, ‘ছাত্রশিবির তখন ছাত্রলীগ হয়ে বেঁচে ছিল। আমরাও সবাই যদি এভাবে কায়দা করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করতাম, তবে আবরার ফাহাদ হত্যার পরে প্রতিবাদের জন্য একটা লোক রাস্তায় পাওয়া যেত না।’
তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে ছাত্রশিবিরের বর্তমান ভিপি ও জিএসদের দৃশ্যমান ভূমিকা ছিল না। বরং তাদের কেউ কেউ হল ও বিভাগ পর্যায়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে নুরুল হক নুরের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে রাশেদ খান বলেন, বর্তমানে জামায়াত-শিবিরের পক্ষ থেকে নুরকে নিয়ে সমালোচনা করা হলেও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তার অবদান অনেক বড়।
তার দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আন্দোলনের কঠিন সময়ে নুরুল হক নুর ছিলেন অন্যতম সাহসী তরুণ নেতৃত্ব। জামায়াত-শিবিরের সম্মিলিত অবদানের চেয়েও নুরের ভূমিকা বেশি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে রাশেদ খান লেখেন, ‘জামায়াত-শিবির আরও ১০০ জন সাদিক কায়েম জন্ম দিলেও এক ভিপি নুরের একশো ভাগের এক ভাগ হতে পারবে না।’
পোস্টের শেষদিকে নুরুল হক নুরের সাহসিকতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘ভিপি নুর মানেই সাহসের কলিজা।’