আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম স্বাক্ষরিত একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
পত্রে বলা হয়েছে, আইরিন খানকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা ও বেতন-ভাতায় দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ নিয়োগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে। বর্তমানে আইরিন খান জাতিসংঘের মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার উন্নয়ন ও সুরক্ষাবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিও লেটারে উল্লেখ করা হয়, মানবাধিকার, সুশাসন ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে আইরিন খানের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বহুপাক্ষিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
এতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কার্যকরভাবে তুলে ধরা এবং দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও গতিশীল করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে। নিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতাও চাওয়া হয়েছে।
আইরিন খান ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং হার্ভার্ড ল’ স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তিনি জেনেভার গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে শিক্ষকতা করছেন।
তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন। তিনি সংস্থাটির প্রথম নারী, প্রথম এশীয় এবং প্রথম মুসলিম মহাসচিব। তার নেতৃত্বে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বৈশ্বিক প্রচারণা শুরু করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
এ ছাড়া ২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকারে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০৬ সালে সিডনি পিস প্রাইজসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হন।