মাঠ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগের ফলে দেশে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা কমেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত ২১ জুন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মাসিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সভায় উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে গুরুতর বা জঘন্য অপরাধ ২৪টি, অর্থাৎ ০.৯২ শতাংশ কমেছে। একইভাবে, ২০২৫ সালের মে মাসের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাসে এ ধরনের অপরাধ ২৩৭টি বা ৮.৪৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সমন্বয় অধিশাখার কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকরা প্রতি মাসে নিজ নিজ জেলার সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠান। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকেও তথ্য পাঠানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্মসচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, বিভাগীয় কমিশনারদের সভায় জেলা প্রশাসকদের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তা ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়, আর অবনতি হলে করণীয় নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের আইনে যেসব অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, সেগুলো গুরুতর বা জঘন্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যা, ধর্ষণ ও ধর্ষণের ফলে মৃত্যু, যৌতুকের কারণে নারীর মৃত্যু, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ এবং মানব পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীন অপরাধ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে সারা দেশে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮০৯টি। ২০২৬ সালের এপ্রিলে তা কমে ২ হাজার ৫৯৬টিতে এবং মে মাসে আরও কমে ২ হাজার ৫৭২টিতে নেমে আসে।
বিভাগভিত্তিক তথ্যেও বেশ কয়েকটি এলাকায় অপরাধ কমার প্রবণতা দেখা গেছে। রাজশাহী, সিলেট, রংপুরসহ বিভিন্ন বিভাগে ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের মে মাসে গুরুতর অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রাজধানীসহ মেট্রোপলিটন এলাকাতেও অপরাধের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও দাবি করেন, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং প্রায় সব ধরনের অপরাধ কমেছে।
তিনি জানান, অপরাধ দমনে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আলোচিত কয়েকটি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত, দৌলতদিয়ার নৌদুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম এবং মুন্সীগঞ্জের সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় আসামি গ্রেপ্তারে অবদান রাখা পুলিশ সদস্যরা।