রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আজ শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন

আজ রোববার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। বর্তমান সরকারের প্রথম এ বাজেট অধিবেশন শুরু হবে বেলা ৩টায়। আগামী ১১ জুন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদে সোচ্চার হচ্ছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটিয়ে পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজপথেও […]

আজ শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন

আজ শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন

নিউজ ডেস্ক

০৭ জুন ২০২৬, ১০:১৪

আজ রোববার শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। বর্তমান সরকারের প্রথম এ বাজেট অধিবেশন শুরু হবে বেলা ৩টায়। আগামী ১১ জুন আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। বাজেট অধিবেশন ঘিরে সংসদে সোচ্চার হচ্ছে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য।

পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটির আমেজ কাটিয়ে পূর্বঘোষিত বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজপথেও ফের সক্রিয় হচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্য। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবির সঙ্গে বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ইসলামী ব্যাংকে বিতর্কিত ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান নিয়োগসহ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো যুক্ত হবে তাদের আন্দোলন কর্মসূচিতে। জোটগত ছাড়াও আলাদাভাবে শরিক দলগুলো চলমান জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষাভে সোচ্চার থাকবে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, সম্প্রতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সব মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে জামায়াতে ইসলামী। ওই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে গত বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছিলেন, এ কর্মসূচি কোনো দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের। দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য দাবি নিয়ে রাস্তায় নামবে জামায়াতে ইসলামী। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে জামায়াত শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবে।

এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত বুধবার রাজধানীতে বিক্ষোভ করে। গতকাল শনিবার রাজধানীতে একই বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে খেলাফত মজলিস। এছাড়া আজ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যান্য দলও বক্তব্য-বিবৃতির মাধ্যমে সরকারের জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়নে গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে গত ৩০ এপ্রিল লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিভাগীয় শহরগুলোয় সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের আগে গত ১৬ মে রাজশাহীতে প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে ১৩ জুন চট্টগ্রাম, ২০ জুন খুলনা, ২৭ জুন ময়মনসিংহ, ১১ জুলাই রংপুর, ১৮ জুলাই বরিশাল এবং ২৫ জুলাই সিলেটে সমাবেশ করবে জোটটি।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছিলেন, সমাবেশের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের, যার মাধ্যমে আন্দোলনের পক্ষে জনমত গড়ে তোলা হবে। পরে অক্টোবরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোয় গণমিছিল করে ১১ দলীয় জোট।

সরকারি দলের সূত্রে জানা গেছে, বাজেট অধিবেশনেই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে বিশেষ কমিটি গঠন হতে যাচ্ছে। গত অধিবেশনেই আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এ কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য বিরোধী দলকে পাঁচজনের নাম জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান। আইনমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সংবিধান সংশোধনে তারা ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করবেন, যেখানে বিএনপির সাতজন এবং গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে পাঁচজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। বিরোধী দল থেকে আর পাঁচজনের নাম দিলেই মোট ১৭ সদস্যের কমিটি হবে। তারা বিরোধী দলের জন্য অপেক্ষা করবে তবে নাম জমা না দিলে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যাবে।

এদিকে, আইনমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর এক মাসের বেশি সময় পার হলেও বিরোধী দল এখনো নাম প্রস্তাব করেনি। কমিটিতে বিরোধী দল কোনো নাম দেবে না বলে ইতোমধ্যে আভাস পাওয়া গেছে। ফলে বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে এ কমিটি গঠন করা হলে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হবে।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় কার্যকর করা নিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা একাধিকবার ওয়াকআউটসহ বেশ সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন।

আজ রোববার থেকে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনেও এসব ইস্যুতে বিরোধী এমপিরা সরব হবেন বলে জানা গেছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচিত জামায়াতসহ বিরোধীদলীয় নতুন ১৩ সদস্যও এবারের সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী জনস্বার্থে যত কাজ আছে, তা নিয়ে মাঠে আছে জামায়াত, সংসদেও কথা বলবে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ করেছে দলটি। বিরোধী দল হিসেবে তাদের সঠিক ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে কারো মুখাপেক্ষী হবে না তারা।

একই ধরণের মন্তব্য করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন, জনস্বার্থে বিরোধী দল ও এনসিপি সব সময় সোচ্চার থাকে, আগামীতেও থাকবে। বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ জনভোগান্তিকর যেসব বিষয় রয়েছে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তা আলোচনা করে গত সংসদ অধিবেশনের মতো এবারও সরব থাকবেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ জানান, ঈদের আগে ও পরে বেশ কিছুদিন বিরতি থাকলেও চলমান বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচি নিয়ে আবার সোচ্চার হবে ১১ দলীয় ঐক্য। ১৩ জুন চট্টগ্রামে সমাবেশ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশগুলো ডাকা হলেও ১১ দলের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাম্প্রতিক সব বিষয় এতে যুক্ত হবে। সে অনুযায়ী বিদ্যুৎ-জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সীমান্তে পুশইন, আইনশৃঙ্খলার অবনতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমাবেশের মাধ্যমে মাঠে এবং সংসদেও আমরা সোচ্চার থাকব। এছাড়া সব দল আলাদাভাবেও তাদের কর্মসূচি পালন করবে। বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে রোববার (আজ) রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

এ বিষয়ে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান বলেন, গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গত ১৬ মে রাজশাহীর সমাবেশ সফল হয়েছে। এতে জনগণ বেশ উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। এ মাসে তিনটি ও আগামী মাসে আরো তিনটি সমাবেশ আছে। এসব সমাবেশ ঘিরে আশপাশের জেলাগুলোয় লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ, ছোট ছোট মিছিল-সমাবেশ চলছে। এর মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বৃহ্ত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরো জানান, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদে ও রাজপথকে একত্রীকরণের পরিকল্পনা রয়েছে। সংসদে দাবি আদায়ের বিষয়টি সমাধান না হলে রাজপথকে একই লেভেলে আনা হবে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।