শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

যেভাবে পাহাড়ধসের আগাম সতর্কবার্তা বাঁচাচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার লাখো মানুষের প্রাণ

প্রায় দুই দশক ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির থানচি এলাকার একটি ১১০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর বসবাস করছিলেন আবদুল করিমের পরিবার। গত বছরের ২৪ আগস্ট কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ের একটি অংশ ধসে তাদের বাড়ির ওপর পড়ে। এতে করিমের আট মাস বয়সী ভাতিজা মোহাম্মদ ইউসুফ মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। করিম বলেন, ‘টানা […]

যেভাবে পাহাড়ধসের আগাম সতর্কবার্তা বাঁচাচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার লাখো মানুষের প্রাণ

যেভাবে পাহাড়ধসের আগাম সতর্কবার্তা বাঁচাচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার লাখো মানুষের প্রাণ

নিউজ ডেস্ক

০৫ জুন ২০২৬, ১১:৫০

প্রায় দুই দশক ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির থানচি এলাকার একটি ১১০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর বসবাস করছিলেন আবদুল করিমের পরিবার।

গত বছরের ২৪ আগস্ট কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ের একটি অংশ ধসে তাদের বাড়ির ওপর পড়ে। এতে করিমের আট মাস বয়সী ভাতিজা মোহাম্মদ ইউসুফ মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়।

করিম বলেন, ‘টানা বৃষ্টি যে ভূমিধসের কারণ হতে পারে, তা আমরা জানতাম না।’

এর আগের রাতে ছোট একটি ধসে বাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর বড় একটি অংশ ধসে পড়ে, যখন ইউসুফ ঘুমিয়ে ছিল।

তিনি বলেন, ‘মাটি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং ধসে পড়া কাঠামোর নিচে তাকে চাপা দেয়।’

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তার মাথায় আঘাত লাগে।

এরপর থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হলে পরিবারটি আর বাড়িতে থাকে না।

করিম বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিধস সতর্কবার্তা জানালে আমরা নিরাপদ স্থানে চলে যাই।’

তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ক্রমবর্ধমান এক ঝুঁকির প্রতিচ্ছবি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে থাকা চরম বৃষ্টিপাত, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশের বসতিগুলোকে ক্রমেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অন্তত ১০ লাখ মানুষ ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছে।

গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে এ অঞ্চলে ভূমিধসে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৭ ও ২০১৭ সালের ভয়াবহ ভূমিধসেই প্রাণ হারান ২৫০ জনের বেশি মানুষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল সারওয়ার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি বন ধ্বংস এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে গত তিন দশকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে

দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ দুর্যোগের আগে কোনো সতর্কবার্তা পেত না।

তবে ২০২৪ সালের জুন থেকে ইউরোপিয়ান সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন্সের অর্থায়নে একটি প্রকল্প এ বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতা এবং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের কারিগরি সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) ও আশিকা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

এর আওতায় চট্টগ্রাম সিটির ভূমিধসপ্রবণ তিনটি ওয়ার্ড—পশ্চিম ষোলশহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং লালখান বাজারের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড—এবং বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি এবং বাঁশখালী উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ব্যবস্থায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, বহুভাষিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং আগাম নগদ সহায়তা একত্রে ব্যবহার করা হয়, যাতে দুর্যোগের আগেই মানুষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রায় তিন বছর ধরে তারা ভূমিধসের সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘আগে এসব সতর্কবার্তা মূলত আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতো এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে পাঠানো হতো। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ সেগুলো সহজে পেত না।’

তার ভাষ্য, এখন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সেই বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রাম শহরের প্রকল্পভুক্ত তিনটি ওয়ার্ডেই প্রায় দুই লাখ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাদদেশ এলাকায় বাস করে।

ইপসার কর্মসূচি কর্মকর্তা আবদুর রহমান জিহাদ বলেন, প্রকল্প শুরুর সময় মানুষের সচেতনতা খুবই কম ছিল এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোও প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল।

প্রথমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এখন ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি হলে স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সতর্ক করেন।

সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পান। বাকি ৬২ শতাংশ মানুষের কাছে মাইকিং, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশনের ঘোষণা, কারবারি, হেডম্যান ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম নগরের জালালাবাদ এলাকার মিয়া পাহাড়ের স্বেচ্ছাসেবক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন। সতর্কবার্তা পেলেই তারা ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়।’

জিহাদ জানান, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পরিচালিত একটি পাইলট কার্যক্রমে আগাম সতর্কবার্তার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। সতর্কবার্তা পেয়ে রাউফাবাদের মিয়া পাহাড় এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পর দুটি বাড়িতে ভূমিধস হয়। তবে আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

দুর্গম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া শহরের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির অনেক বাসিন্দা বাংলা ভাষা বোঝেন না।

এ সমস্যা সমাধানে আশিকা অনুবাদক দল এবং কারবারি ও হেডম্যানদের যুক্ত করে বহুভাষিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির লেকপাড়া এখন এ নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। সেখানে ২২টি মারমা পরিবার একটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করে।

ভূমিধসের সতর্কবার্তা জারি হলে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি চাকমা ও মারমা ভাষায় ভয়েস মেসেজ পাঠায়। পাশাপাশি কারবারি ও হেডম্যানরা সরিয়ে নেওয়ার কাজ সমন্বয় করেন।

এরপর বাসিন্দারা স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

আশিকার কর্মসূচি কর্মকর্তা উকায়া হাইং মারমা বলেন, ‘প্রতিটি পাড়ায় স্থানীয়দের নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অনুবাদক দল গঠন করা হয়েছে।’

যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে স্বেচ্ছাসেবক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায় নেতাদের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

দুর্যোগের আগেই নগদ সহায়তা

শুধু সতর্কবার্তা দিয়েই থেমে নেই উদ্যোগটি।

আগাম সতর্কবার্তার কারণে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্থ পরিবারগুলোকে স্থানান্তর ও অস্থায়ীভাবে অন্যত্র থাকার খরচ মেটাতে সহায়তা করে।

ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারীপ্রধান পরিবার এবং আগে ভূমিধসে স্বজন হারানো পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত মূল্যায়নের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।

আশিকার তথ্য অনুযায়ী, এ পদ্ধতি অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

জিহাদ বলেন, ‘আগাম নগদ সহায়তার ব্যয়-সুবিধা অনুপাত প্রায় ১:১৫।’

অর্থাৎ, এ খাতে ব্যয় করা প্রতি ১ টাকার বিপরীতে প্রায় ১৫ টাকার ক্ষতি এড়ানো ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া গেছে।

জলবায়ু অভিযোজনের সম্ভাবনাময় মডেল

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের ভূমিধসপ্রবণ পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে এ উদ্যোগ কার্যকর মডেল হতে পারে।

সমাপ্তির পথে থাকা প্রকল্পটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস, স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি প্রস্তুতি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে একত্র করেছে, যাতে দুর্যোগের আগেই মানুষ ব্যবস্থা নিতে পারে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ম্যানেজার ফাতেমা মেহেরুননেসা বলেন, প্রকল্পটি প্রায় ৩০ হাজার পরিবার বা এক লাখ ২০ হাজার ৪৫০ জন মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

তার মতে, প্রকল্পভুক্ত ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার এখন আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উপকারভোগী সতর্কবার্তায় আস্থা রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভূমিধস ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি ‘আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল’ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

আবদুল করিমের পরিবারের মতো মানুষের কাছে এ উদ্যোগের গুরুত্ব আরও সহজ। ভূমিধসে ভাতিজার জীবন প্রায় হারাতে বসার আগে পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি ছিল তাদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা। এখন সতর্কবার্তা এলেই তারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।

চারপাশের পাহাড় আগের চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ হয়নি। তবে আগাম সতর্কবার্তা তাদের এমন একটি জিনিস দিয়েছে, যা আগে ছিল না—তা হলো সময়।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।