শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

যেভাবে পাহাড়ধসের আগাম সতর্কবার্তা বাঁচাচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার লাখো মানুষের প্রাণ

প্রায় দুই দশক ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির থানচি এলাকার একটি ১১০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর বসবাস করছিলেন আবদুল করিমের পরিবার। গত বছরের ২৪ আগস্ট কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ের একটি অংশ ধসে তাদের বাড়ির ওপর পড়ে। এতে করিমের আট মাস বয়সী ভাতিজা মোহাম্মদ ইউসুফ মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়। করিম বলেন, ‘টানা […]

যেভাবে পাহাড়ধসের আগাম সতর্কবার্তা বাঁচাচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার লাখো মানুষের প্রাণ

যেভাবে পাহাড়ধসের আগাম সতর্কবার্তা বাঁচাচ্ছে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার লাখো মানুষের প্রাণ

নিউজ ডেস্ক

০৫ জুন ২০২৬, ১১:৫০

প্রায় দুই দশক ধরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির থানচি এলাকার একটি ১১০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর বসবাস করছিলেন আবদুল করিমের পরিবার।

গত বছরের ২৪ আগস্ট কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টির পর পাহাড়ের একটি অংশ ধসে তাদের বাড়ির ওপর পড়ে। এতে করিমের আট মাস বয়সী ভাতিজা মোহাম্মদ ইউসুফ মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যায়।

করিম বলেন, ‘টানা বৃষ্টি যে ভূমিধসের কারণ হতে পারে, তা আমরা জানতাম না।’

এর আগের রাতে ছোট একটি ধসে বাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কয়েক ঘণ্টা পর বড় একটি অংশ ধসে পড়ে, যখন ইউসুফ ঘুমিয়ে ছিল।

তিনি বলেন, ‘মাটি ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ে এবং ধসে পড়া কাঠামোর নিচে তাকে চাপা দেয়।’

পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তার মাথায় আঘাত লাগে।

এরপর থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হলে পরিবারটি আর বাড়িতে থাকে না।

করিম বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবক বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিধস সতর্কবার্তা জানালে আমরা নিরাপদ স্থানে চলে যাই।’

তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ক্রমবর্ধমান এক ঝুঁকির প্রতিচ্ছবি। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে থাকা চরম বৃষ্টিপাত, বন উজাড় এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশের বসতিগুলোকে ক্রমেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের এক গবেষণায় দেখা গেছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে অন্তত ১০ লাখ মানুষ ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাস করছে।

গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে এ অঞ্চলে ভূমিধসে প্রায় ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০০৭ ও ২০১৭ সালের ভয়াবহ ভূমিধসেই প্রাণ হারান ২৫০ জনের বেশি মানুষ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল সারওয়ার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যাওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘টানা অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি বন ধ্বংস এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে গত তিন দশকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

আবহাওয়ার পূর্বাভাস থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে

দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষ দুর্যোগের আগে কোনো সতর্কবার্তা পেত না।

তবে ২০২৪ সালের জুন থেকে ইউরোপিয়ান সিভিল প্রোটেকশন অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান এইড অপারেশন্সের অর্থায়নে একটি প্রকল্প এ বাস্তবতা বদলাতে কাজ করছে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতা এবং রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের কারিগরি সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) ও আশিকা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

এর আওতায় চট্টগ্রাম সিটির ভূমিধসপ্রবণ তিনটি ওয়ার্ড—পশ্চিম ষোলশহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ড, পাহাড়তলীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং লালখান বাজারের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড—এবং বান্দরবানের লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি এবং বাঁশখালী উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ব্যবস্থায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক, স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, বহুভাষিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং আগাম নগদ সহায়তা একত্রে ব্যবহার করা হয়, যাতে দুর্যোগের আগেই মানুষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোমেনুল ইসলাম বলেন, ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসের ভিত্তিতে প্রায় তিন বছর ধরে তারা ভূমিধসের সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, ‘আগে এসব সতর্কবার্তা মূলত আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতো এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে পাঠানো হতো। কিন্তু দুর্গম পাহাড়ি এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষ সেগুলো সহজে পেত না।’

তার ভাষ্য, এখন প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সেই বার্তা সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে স্বেচ্ছাসেবক

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চট্টগ্রাম শহরের প্রকল্পভুক্ত তিনটি ওয়ার্ডেই প্রায় দুই লাখ মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় ও পাদদেশ এলাকায় বাস করে।

ইপসার কর্মসূচি কর্মকর্তা আবদুর রহমান জিহাদ বলেন, প্রকল্প শুরুর সময় মানুষের সচেতনতা খুবই কম ছিল এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোও প্রায় নিষ্ক্রিয় ছিল।

প্রথমে সচেতনতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এখন ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা জারি হলে স্বেচ্ছাসেবকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে সতর্ক করেন।

সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, ৩৮ শতাংশ মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পান। বাকি ৬২ শতাংশ মানুষের কাছে মাইকিং, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশনের ঘোষণা, কারবারি, হেডম্যান ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম নগরের জালালাবাদ এলাকার মিয়া পাহাড়ের স্বেচ্ছাসেবক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘এখন মানুষ অনেক বেশি সচেতন। সতর্কবার্তা পেলেই তারা ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যায়।’

জিহাদ জানান, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পরিচালিত একটি পাইলট কার্যক্রমে আগাম সতর্কবার্তার গুরুত্ব স্পষ্ট হয়। সতর্কবার্তা পেয়ে রাউফাবাদের মিয়া পাহাড় এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পর দুটি বাড়িতে ভূমিধস হয়। তবে আগে থেকেই সরিয়ে নেওয়ায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।

দুর্গম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া শহরের তুলনায় বেশি চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ির অনেক বাসিন্দা বাংলা ভাষা বোঝেন না।

এ সমস্যা সমাধানে আশিকা অনুবাদক দল এবং কারবারি ও হেডম্যানদের যুক্ত করে বহুভাষিক সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু করেছে।

নাইক্ষ্যংছড়ির লেকপাড়া এখন এ নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। সেখানে ২২টি মারমা পরিবার একটি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করে।

ভূমিধসের সতর্কবার্তা জারি হলে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি চাকমা ও মারমা ভাষায় ভয়েস মেসেজ পাঠায়। পাশাপাশি কারবারি ও হেডম্যানরা সরিয়ে নেওয়ার কাজ সমন্বয় করেন।

এরপর বাসিন্দারা স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেন।

আশিকার কর্মসূচি কর্মকর্তা উকায়া হাইং মারমা বলেন, ‘প্রতিটি পাড়ায় স্থানীয়দের নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও অনুবাদক দল গঠন করা হয়েছে।’

যেসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে স্বেচ্ছাসেবক, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ঐতিহ্যবাহী সম্প্রদায় নেতাদের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

দুর্যোগের আগেই নগদ সহায়তা

শুধু সতর্কবার্তা দিয়েই থেমে নেই উদ্যোগটি।

আগাম সতর্কবার্তার কারণে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এ অর্থ পরিবারগুলোকে স্থানান্তর ও অস্থায়ীভাবে অন্যত্র থাকার খরচ মেটাতে সহায়তা করে।

ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, নারীপ্রধান পরিবার এবং আগে ভূমিধসে স্বজন হারানো পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদিত মূল্যায়নের মাধ্যমে উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়।

আশিকার তথ্য অনুযায়ী, এ পদ্ধতি অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।

জিহাদ বলেন, ‘আগাম নগদ সহায়তার ব্যয়-সুবিধা অনুপাত প্রায় ১:১৫।’

অর্থাৎ, এ খাতে ব্যয় করা প্রতি ১ টাকার বিপরীতে প্রায় ১৫ টাকার ক্ষতি এড়ানো ও অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া গেছে।

জলবায়ু অভিযোজনের সম্ভাবনাময় মডেল

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলাদেশের ভূমিধসপ্রবণ পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগ ঝুঁকি কমাতে এ উদ্যোগ কার্যকর মডেল হতে পারে।

সমাপ্তির পথে থাকা প্রকল্পটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস, স্থানীয় প্রশাসন, কমিউনিটি প্রস্তুতি এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে একত্র করেছে, যাতে দুর্যোগের আগেই মানুষ ব্যবস্থা নিতে পারে।

সেভ দ্য চিলড্রেনের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন ম্যানেজার ফাতেমা মেহেরুননেসা বলেন, প্রকল্পটি প্রায় ৩০ হাজার পরিবার বা এক লাখ ২০ হাজার ৪৫০ জন মানুষের কাছে পৌঁছেছে।

তার মতে, প্রকল্পভুক্ত ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার এখন আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উপকারভোগী সতর্কবার্তায় আস্থা রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।

তিনি জানান, ভবিষ্যতে ভূমিধস ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য জাতীয় পর্যায়ের একটি ‘আর্লি অ্যাকশন প্রটোকল’ গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য, যা সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

আবদুল করিমের পরিবারের মতো মানুষের কাছে এ উদ্যোগের গুরুত্ব আরও সহজ। ভূমিধসে ভাতিজার জীবন প্রায় হারাতে বসার আগে পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি ছিল তাদের কাছে স্বাভাবিক ঘটনা। এখন সতর্কবার্তা এলেই তারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।

চারপাশের পাহাড় আগের চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ হয়নি। তবে আগাম সতর্কবার্তা তাদের এমন একটি জিনিস দিয়েছে, যা আগে ছিল না—তা হলো সময়।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।