বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল সেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই কার্ড চালু হলে বর্তমানে ব্যবহৃত বিএমইটি (জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো) কার্ডের প্রয়োজনীয়তা আর থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২ জুন) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ধরনের আলাদা পরিচয়পত্র ও সেবা ব্যবস্থার পরিবর্তে একটি একক কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন,
“আমরা চাই একজন প্রবাসী একটি কার্ড ব্যবহার করেই সব ধরনের সরকারি ও আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এজন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হচ্ছে।”
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু প্রবাসী শ্রমিক নয়; ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ল্যাটিন আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও এই কার্ডের আওতায় আসবেন। ক্রেডিট কার্ডের আদলে তৈরি হতে যাওয়া ‘প্রবাসী কার্ড’-এ ডিজিটাল পরিচয়, ব্যাংকিং সুবিধা, রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবাকে একত্রিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, কার্ডটির চূড়ান্ত সুবিধাগুলো এখনো নির্ধারণের পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রবাসীদের সহজে দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং গেটওয়ে উন্নত করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত সুবিধা সংযুক্ত করার বিষয়ে কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের জন্য ভূমি অফিস, হাসপাতাল, প্রশাসনিক সেবা এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়মূলক আলোচনা চলছে।
প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও অভিযোগ দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে সরকার নতুন একটি ‘অভিযোগ নিষ্পত্তি ও নিরসন সেল’ও চালু করেছে। মন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার থেকেই পাঁচ সদস্যের এই বিশেষ সেলের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় প্রবাসীরা সরাসরি অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তাদের অভিযোগ, সমস্যা কিংবা পরামর্শ জমা দিতে পারবেন। খুব শিগগিরই অভিযোগ পাঠানোর নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, এই সেলে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং, আইন, কল্যাণ, সেবা এবং এনফোর্সমেন্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মূল কাজ হবে প্রবাসীদের সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা।
সরকারের এই উদ্যোগকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা একাধিক পরিচয়পত্র, জটিল কাগজপত্র এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অভিযোগ করে আসছিলেন। নতুন ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু হলে এসব সেবাকে একটি একক ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।