আজ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৫ মে) বর্ধমান জেলার আসানসোলের জামুরিয়া থানার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বিদ্রোহী কবি। ‘দ্রোহের কবি, প্রাণের কবি নজরুল’ প্রতিপাদ্যে এবার জাতীয়ভাবে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে।
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরকে (২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। গত শনিবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে তিনি এ ঘোষণা দেন।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে জাতীয় কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, পরাধীন জাতিকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ছিল আলোকবর্তিকার মতো। অন্যায়, শোষণ, বৈষম্য, কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে তার লেখনী ছিল প্রতিবাদের শক্তিশালী ভাষা।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা ও নারীমুক্তির প্রশ্নে নজরুলের মতো শিল্পসফল ভাষা খুব কমই দেখা যায়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নজরুলের কবিতা ও গান প্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে।
জাতীয় কবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শোভাযাত্রা নিয়ে কবির কবরে যাবেন। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও স্মরণসভার আয়োজন করা হবে।
এছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, কুমিল্লার দৌলতপুরসহ বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় জন্মবার্ষিকী পালিত হবে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।
১৮৯৯ সালের ২৫ মে জন্ম নেওয়া কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগীতজ্ঞ, নাট্যকার ও দার্শনিক। তিনি প্রায় তিন হাজার গান রচনা করেন, যা নজরুলসংগীত নামে পরিচিত। ১৯২২ সালে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে তিনি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে সমাহিত করা হয়।