মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

জাতীয় সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সংসদ মানেই পুরো বাংলাদেশ এবং এই সংসদের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। তাই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তাই সংসদকে অকার্যকর […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ মে ২০২৬, ১১:২৯

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সংসদ মানেই পুরো বাংলাদেশ এবং এই সংসদের সফলতা মানেই দেশের সফলতা। তাই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, আমরা যদি একটি স্থিতিশীল সরকার ও সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। তাই সংসদকে অকার্যকর হওয়া থেকে রক্ষা করতে সকল সংসদ সদস্যের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন ।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আজ সকাল ১১টায় সংসদ অধিবেশন বসে। সন্ধ্যায় সমাপনী বক্তব্য দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান। রাত ৮টা ২০ মিনিটে সংসদ নেতা বক্তব্য শুরু করেন এবং শেষ করেন ৯টা ১০ মিনিটে।

দেশের বিদ্যুৎ সংকট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দ্রুত উন্নয়নসহ বিভিন্ন জাতীয় অগ্রাধিকার নিয়ে সংসদে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও দল-মত নির্বিশেষে ঐক্য ছাড়া দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই সংসদের দিকে সমগ্র বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে। পৃথিবীর প্রতিটি কর্নারে যেখানেই একজন বাংলাদেশি আছেন, প্রত্যেকটি মানুষ দৃঢ় প্রত্যাশা নিয়ে এই সংসদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে।

তিনি বলেন, আলোচনা, বিতর্ক ও সংলাপ চলবে। তবে কোনোভাবেই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। অতীতে ১৭৩ দিনের হরতালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই সময় দেশের অর্থনীতি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিল, যার প্রভাব এখনো বহন করতে হচ্ছে।

বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আপনি ব্যর্থ হওয়া মানেই আমি ব্যর্থ হওয়া, আর আমাদের কেউ একজন ব্যর্থ হলে পুরো বাংলাদেশ ব্যর্থ হবে।

তিনি আরও বলেন, এই সংসদ হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা দেশের স্বার্থে সবসময় বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনো বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করতে রাজি আছি। আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে প্রত্যাশা নিয়ে দেশের মানুষ আমাদের এখানে পাঠিয়েছে, তাদের প্রত্যাশা পূরণ করি।

দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকলে এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী না হলে এসব উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিরোধী দলের নেতাসহ অধিকাংশ সদস্য নিজ নিজ এলাকার রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্টের চাহিদা তুলে ধরেছেন। কিন্তু বর্তমানে প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় একটি স্থিতিশীল সরকার ও স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত না করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যাবে না।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন দেশের অগ্রগতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গণতন্ত্র বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সব খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দেশের শিশুদের জন্য একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মানসম্মত শিক্ষা পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশের মতো আধুনিক ও মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে আগামী জুলাই মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।

একইসঙ্গে ধাপে ধাপে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ড্রেস এবং জুতার ব্যবস্থাও করা হবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ শুধু সহায়তা নয়, বরং শিশুদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ ও উৎসাহব্যঞ্জক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার অংশ। এতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়বে এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই কর্মসূচি সারা দেশে বিস্তৃত করা হবে, যাতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি টেকসই ও আধুনিক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।

শিক্ষা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এসব খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জনগণের জীবনমান উন্নয়ন এবং সেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতেই এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। নারীদের শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং মেয়েদের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত ফ্রি শিক্ষা ও ভালো ফলাফলের জন্য উপবৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সমস্যা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ কিছুটা কষ্টের সম্মুখীন হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি ও অন্যান্য সংকটের সমাধানে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে যৌথভাবে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ও খাল সমস্যার বিষয়ে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার পর তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে পাঠানো হয়েছে।

সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারী বর্ষণ ও বন্যায় বিভিন্ন অঞ্চলে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করা হয়েছে। এই উদ্যোগ শুধু সেচ নয়, বরং পরিবেশ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক পানিসংকটে পড়বে।

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে বড় অংশ বিনিয়োগ করা হবে, যাতে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা যায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির সম্মানী প্রদানে বিরোধী দলীয় নেতার প্রস্তাব সমর্থন করেন প্রধানমন্ত্রী।

৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশকে সুশৃঙ্খল রাখার ক্ষেত্রে সশন্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তাদেরকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব, যে প্রত্যাশা, যে আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে, আসুন আমরা সেই দায়িত্বের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করি। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন হবে। কারণ দেশ ও জনগণ থাকলেই আমরা আছি। দেশ ও জনগণকে যদি আমরা সম্মান না করি, তাহলে আমাদের রাজনীতিই ব্যর্থ হয়ে যাবে। সেজন্য আমাদের সবচেয়ে প্রথম হচ্ছে এই দেশের জনগণ ও প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।