বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে আইএমএফ দল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল আগামী মাসে ঢাকায় আসছে। এর ফলে, বহু মিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি সচল রাখা এবং বিলম্বিত ১.৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের আশা করছে বাংলাদেশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৯-১০ মার্চ তিন সদস্যের একটি আইএমএফ দল ঢাকা সফরে আসবে। দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক […]

ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে আইএমএফ দল

ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে আইএমএফ দল

নিউজ ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৫

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল আগামী মাসে ঢাকায় আসছে। এর ফলে, বহু মিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি সচল রাখা এবং বিলম্বিত ১.৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের আশা করছে বাংলাদেশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৯-১০ মার্চ তিন সদস্যের একটি আইএমএফ দল ঢাকা সফরে আসবে। দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।

গত ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইএমএফ একটি কিস্তি ছাড় স্থগিত রাখে। সংস্থাটি জানায়, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী অর্থ ছাড় করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এবং বিএনপি সরকার শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে আগামী জুনের মধ্যে ১.৩০ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। এতে ডিসেম্বরের বকেয়া কিস্তি ও পরবর্তী নির্ধারিত কিস্তি একসঙ্গে ছাড় হবে।

কর্মকর্তারা বলেন, রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার এই সময়ে অর্থ ছাড় সরকারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

আইএমএফের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে চিঠি দিয়েছে। এতে ৯ অথবা ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর এক ঘণ্টার বৈঠকের স্লট বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে ইআরডি বলেছে, আইএমএফ এর ঋণ কর্মসূচির আওতায় গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, সফল বাস্তবায়ন মূল্যায়ন এবং নতুন সরকারের সঙ্গে অব্যাহত সহযোগিতা পুনর্ব্যক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রাসহ আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শর্ত এখনো পূরণ হয়নি।

অপেক্ষমাণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু।

তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকার গঠনের পর অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইকোনমিক রিফর্ম কমিশন (অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন) গঠন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করা এবং আর্থিক খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখা।

আইএমএফের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ভর্তুকি কমানো ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ। নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে ভর্তুকি যৌক্তিক করার উপায় খুঁজতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি, ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার অব্যাহত থাকবে বলে গভর্নরকে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিএনপি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে আইএমএফের অনেক শর্তই পূরণ হবে। সে বিবেচনায় কর্মসূচি সচল রাখতে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে অপেক্ষা করছে।’

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি

কোভিড মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করে।

ঋণ কর্মসূচির শর্তের মধ্যে ছিল— রাজস্ব খাত সংস্কার, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন ও ভর্তুকি কমানো। পরে গত বছরের জুনে আইএমএফ কর্মসূচির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৮০ কোটি ডলার যুক্ত করে। এতে মোট ঋণ প্যাকেজ দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, একই বছরের ডিসেম্বরে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০২৪ সালের জুনে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালের জুনে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়। ফলে এখনো ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার বাকি রয়েছে।

গত ডিসেম্বর আরেকটি কিস্তি ছাড়ের কথা থাকলেও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ায় আইএমএফ তা স্থগিত রাখে।

গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় সংস্থাটি তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে জানায়, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী অর্থ ছাড় করা হবে।

কিস্তি ছাড় না করার সিদ্ধান্তের পর নভেম্বরে সালেহউদ্দিন বলেন, নির্বাচিত সরকার কত ঋণ সহায়তা চাইবে, তা নিয়েও আইএমএফ আলোচনা করবে।

সফর নিয়ে অর্থনীতিবিদদের ভাবনা

বিশ্বব্যাংকের ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এই সফর আইএমএফের আগের অবস্থানেরই প্রতিফলন, যেখানে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার পুনরায় জারি করেনি এবং এনবিআর বিভক্তির কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার বাজারভিত্তিক বললেও যেভাবে বাজার থেকে ডলার কিনছে, তা নিয়ে আইএমএফের প্রশ্ন আছে। এটি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর মাধ্যমে বাজারে ৬৫,০০০ কোটি টাকা প্রবেশ করেছে।’

তার মতে, আলোচনায় আইএমএফ এসব বিষয় গুরুত্ব দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারকে সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকার দেখাতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আইএমএফের অধিকাংশ সংস্কার দাবি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশের ঋণ স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ জানালেও এ বিষয়ে বিএনপির ইশতেহারে বিস্তারিত নেই।

তার মতে, আইএমএফের শর্তে ব্যাংক খাত সংস্কারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ব্যক্তি গ্রাহক নাকি প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক পর্যায়ে দেওয়া হবে—স্পষ্ট নয়।

আইএমএফ বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিক স্বাধীনতা চেয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করার প্রস্তাব এ চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। কারণ, এর সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য ও রপ্তানি প্রণোদনা জড়িত।

তৌফিকুল বলেন, ‘আইএমএফ প্রতিটি কিস্তিতে খুব বড় অঙ্ক দেয় না। তবে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর বাজেট সহায়তা সাধারণত আইএমএফ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকে। কর্মসূচি চলমান থাকলে অন্যরাও ঋণে আগ্রহী হয়।’

তিনি আরও বলেন, আইএমএফের অনেক সংস্কার দেশের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সরকারের উচিত আইএমএফের কারিগরি সহায়তা নিয়ে দেশের বাস্তবতায় এসব সংস্কার কার্যকর করা।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।