সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে আইএমএফ দল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল আগামী মাসে ঢাকায় আসছে। এর ফলে, বহু মিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি সচল রাখা এবং বিলম্বিত ১.৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের আশা করছে বাংলাদেশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৯-১০ মার্চ তিন সদস্যের একটি আইএমএফ দল ঢাকা সফরে আসবে। দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক […]

ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে আইএমএফ দল

ঋণের পরবর্তী কিস্তি নিয়ে মার্চে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবে আইএমএফ দল

নিউজ ডেস্ক

২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১:১৫

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল আগামী মাসে ঢাকায় আসছে। এর ফলে, বহু মিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচি সচল রাখা এবং বিলম্বিত ১.৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের আশা করছে বাংলাদেশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ৯-১০ মার্চ তিন সদস্যের একটি আইএমএফ দল ঢাকা সফরে আসবে। দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।

গত ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইএমএফ একটি কিস্তি ছাড় স্থগিত রাখে। সংস্থাটি জানায়, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী অর্থ ছাড় করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হলে এবং বিএনপি সরকার শর্ত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলে আগামী জুনের মধ্যে ১.৩০ বিলিয়ন ডলার পাওয়া যেতে পারে। এতে ডিসেম্বরের বকেয়া কিস্তি ও পরবর্তী নির্ধারিত কিস্তি একসঙ্গে ছাড় হবে।

কর্মকর্তারা বলেন, রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার এই সময়ে অর্থ ছাড় সরকারের বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

আইএমএফের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে চিঠি দিয়েছে। এতে ৯ অথবা ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর এক ঘণ্টার বৈঠকের স্লট বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারির চিঠিতে ইআরডি বলেছে, আইএমএফ এর ঋণ কর্মসূচির আওতায় গৃহীত সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, সফল বাস্তবায়ন মূল্যায়ন এবং নতুন সরকারের সঙ্গে অব্যাহত সহযোগিতা পুনর্ব্যক্ত করার লক্ষ্যে প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগ্রহী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রাসহ আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শর্ত এখনো পূরণ হয়নি।

অপেক্ষমাণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে— জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং পুরোপুরি বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু।

তবে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকার গঠনের পর অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইকোনমিক রিফর্ম কমিশন (অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন) গঠন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করা এবং আর্থিক খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখা।

আইএমএফের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো ভর্তুকি কমানো ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ। নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোমধ্যে ভর্তুকি যৌক্তিক করার উপায় খুঁজতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

সরকার সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিয়েছে, যা ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি, ব্যাংক খাতের চলমান সংস্কার অব্যাহত থাকবে বলে গভর্নরকে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘বিএনপি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করলে আইএমএফের অনেক শর্তই পূরণ হবে। সে বিবেচনায় কর্মসূচি সচল রাখতে সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে অপেক্ষা করছে।’

আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি

কোভিড মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ চুক্তি করে।

ঋণ কর্মসূচির শর্তের মধ্যে ছিল— রাজস্ব খাত সংস্কার, ব্যাংক খাত পুনর্গঠন ও ভর্তুকি কমানো। পরে গত বছরের জুনে আইএমএফ কর্মসূচির মেয়াদ ছয় মাস বাড়িয়ে অতিরিক্ত ৮০ কোটি ডলার যুক্ত করে। এতে মোট ঋণ প্যাকেজ দাঁড়ায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে।

এ পর্যন্ত বাংলাদেশ পাঁচ কিস্তিতে মোট ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, একই বছরের ডিসেম্বরে ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, ২০২৪ সালের জুনে ১.১৫ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৫ সালের জুনে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়। ফলে এখনো ১.৮৬ বিলিয়ন ডলার বাকি রয়েছে।

গত ডিসেম্বর আরেকটি কিস্তি ছাড়ের কথা থাকলেও নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা না হওয়ায় আইএমএফ তা স্থগিত রাখে।

গত অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় সংস্থাটি তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে জানায়, নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী অর্থ ছাড় করা হবে।

কিস্তি ছাড় না করার সিদ্ধান্তের পর নভেম্বরে সালেহউদ্দিন বলেন, নির্বাচিত সরকার কত ঋণ সহায়তা চাইবে, তা নিয়েও আইএমএফ আলোচনা করবে।

সফর নিয়ে অর্থনীতিবিদদের ভাবনা

বিশ্বব্যাংকের ঢাকার সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এই সফর আইএমএফের আগের অবস্থানেরই প্রতিফলন, যেখানে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছিল।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার পুনরায় জারি করেনি এবং এনবিআর বিভক্তির কাজও অসম্পূর্ণ রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিময় হার বাজারভিত্তিক বললেও যেভাবে বাজার থেকে ডলার কিনছে, তা নিয়ে আইএমএফের প্রশ্ন আছে। এটি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এর মাধ্যমে বাজারে ৬৫,০০০ কোটি টাকা প্রবেশ করেছে।’

তার মতে, আলোচনায় আইএমএফ এসব বিষয় গুরুত্ব দিতে পারে। সেক্ষেত্রে সরকারকে সংস্কারের প্রতি অঙ্গীকার দেখাতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর অতিরিক্ত পরিচালক (গবেষণা) তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, আইএমএফের অধিকাংশ সংস্কার দাবি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে তিনি বলেন, গত জানুয়ারিতে আইএমএফ বাংলাদেশের ঋণ স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ জানালেও এ বিষয়ে বিএনপির ইশতেহারে বিস্তারিত নেই।

তার মতে, আইএমএফের শর্তে ব্যাংক খাত সংস্কারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা ব্যক্তি গ্রাহক নাকি প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহক পর্যায়ে দেওয়া হবে—স্পষ্ট নয়।

আইএমএফ বাংলাদেশ ব্যাংকের অধিক স্বাধীনতা চেয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করার প্রস্তাব এ চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। কারণ, এর সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য ও রপ্তানি প্রণোদনা জড়িত।

তৌফিকুল বলেন, ‘আইএমএফ প্রতিটি কিস্তিতে খুব বড় অঙ্ক দেয় না। তবে অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর বাজেট সহায়তা সাধারণত আইএমএফ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকে। কর্মসূচি চলমান থাকলে অন্যরাও ঋণে আগ্রহী হয়।’

তিনি আরও বলেন, আইএমএফের অনেক সংস্কার দেশের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে সরকারের উচিত আইএমএফের কারিগরি সহায়তা নিয়ে দেশের বাস্তবতায় এসব সংস্কার কার্যকর করা।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।