সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আদালতকক্ষের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতিও হয়।
বিচারক এজলাসে ওঠার পর সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিচারক এজলাস ছেড়ে চলে যান।
পরে ঢাকার মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী এবং জামায়াতপন্থী আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এর আগে এক দিনের রিমান্ড শেষে আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করা হয়।
এ সময় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাজেদুল ইসলাম।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মহানগর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শুনানি চলাকালে আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবিতে সিএমএম আদালতের সামনে স্লোগান দেন জামায়াতের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় তাদের সঙ্গে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এর আগে শনিবার (৩ অক্টোবর) তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর।
বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গত ১ অক্টোবর বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা, লাগেজ ট্রলির সংকট, লাগেজ পেতে বিলম্ব এবং জমজমের পানি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা হুমকি-ধমকির পর্যায়ে পৌঁছায়। পরে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।