সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক শক্তি কিংবা মানবাধিকার অজুহাতমাত্র, আমেরিকা ইরানের সক্ষমতায় অসন্তুষ্ট: ইমাম খামেনেয়ী

বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্ব বলদর্পী শক্তিগুলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরোধিতা করার মূল কারণ হলো ধর্ম, জ্ঞান এবং কুরআন ও ইসলামের ছায়ায় ইরানিদের ঐক্য। ১২ দিনের যুদ্ধে শহীদদের চেহলাম উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে আরও জানায়, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইল কর্তৃক আরোপিত ১২ […]

পারমাণবিক শক্তি কিংবা মানবাধিকার অজুহাতমাত্র, আমেরিকা ইরানের সক্ষমতায় অসন্তুষ্ট: ইমাম খামেনেয়ী

ইমাম খামেনেয়ী

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুলাই ২০২৫, ১০:০৩

বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিশ্ব বলদর্পী শক্তিগুলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরোধিতা করার মূল কারণ হলো ধর্ম, জ্ঞান এবং কুরআন ও ইসলামের ছায়ায় ইরানিদের ঐক্য।

১২ দিনের যুদ্ধে শহীদদের চেহলাম উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে পার্সটুডে আরও জানায়, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইল কর্তৃক আরোপিত ১২ দিনের যুদ্ধের শহীদদের ৪০তম দিন উপলক্ষে, আজ ইমাম খোমেনী (রহ.) হুসেইনিয়ায় শহীদদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই স্মরণ সভায় ইসলামী বিপ্লবের নেতা, শহীদদের পরিবারবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণীর জনগণের পাশাপাশি বহু কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা এই যুদ্ধকে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ইচ্ছা ও শক্তির প্রকাশ এবং এর মজবুত ভিত ও অতুলনীয় শক্তির প্রদর্শনী বলে অভিহিত করেছেন। ইরানি জাতির ঈমান, জ্ঞান এবং ঐক্যই অশুভ কামনাকারী শত্রুদের বিরোধিতা ও শত্রুতার মূল কারণ বলে জোর দিয়ে তিনি বলেন: আল্লাহর সাহায্যে, আমাদের জাতি ঈমানকে শক্তিশালী করার এবং বিভিন্ন জ্ঞান সম্প্রসারণের পথ কখনই ত্যাগ করবে না এবং শত্রুদের চোখে ধুলা দিয়ে আমরা ইরানকে অগ্রগতি ও গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।

সাম্প্রতিক যুদ্ধে শহীদ হওয়া সামরিক কমান্ডার, বিজ্ঞানী এবং তাদের জীবিত স্বজনদের প্রতি নতুন করে সমবেদনা প্রকাশ করে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন: এই ১২ দিনে অর্জিত মহান সম্মান ইরানের গর্ব। তার পাশাপাশি আজ সমগ্র বিশ্ব স্বীকার করে, ইরানি জাতি বিশ্বকে তার শক্তি, ধৈর্য, দৃঢ় সংকল্প এবং ইচ্ছাশক্তি দেখাতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই বিশ্ব এখন সরাসরি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের শক্তি অনুভব করতে পারে।

সর্বোচ্চ নেতা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভিত্তির অনন্য দৃঢ়তাকে সাম্প্রতিক যুদ্ধের আরেকটি দিক বলে মনে করেন। তিনি বলেন: এই ঘটনাগুলো আমাদের জন্য অভূতপূর্ব ছিল না এবং গত ৪৬ বছরে, আট বছরের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পাশাপাশি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র বারবার অভ্যুত্থান, বিভিন্ন সামরিক, রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিদ্রোহের মুখোমুখি হয়েছে। এমনকি দুর্বল মনোবলের অধিকারী উপাদানগুলোকেও জাতির বিরুদ্ধে কাজ করতে বাধ্য করার মতো ঘটনার সম্মুখিন হয়েছে। তারপরও শত্রুর সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে গেছে।

বিপ্লবের নেতা “ধর্ম” এবং “জ্ঞান” এই দুটি ভিত্তির ওপর ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ভিত্তি বলে উল্লেখ করে বলেন: ইরানের জনগণ এবং যুবসমাজ, এই দুটি ভিত্তির ওপর নির্ভর করে, শত্রুকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পিছু হটতে বাধ্য করেছে এবং তারা এখন থেকে তা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন: মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্ব বলদর্পী শক্তিগুলো যে ইরানের বিরোধিতা করছে তার কারণ হলো ধর্ম ও জ্ঞান এবং কুরআন ও ইসলামের ছায়ায় ইরানিদের ঐক্য। কিন্তু তারা যে পারমাণবিক সমৃদ্ধি ও মানবাধিকারের ধুয়া তুলছে সেগুলো অজুহাতমাত্র। তাদের অস্বস্তি ও বিরোধিতার প্রধান কারণ হল নতুন আদর্শের উত্থান এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রসহ মানবিক, কারিগরি ও ধর্মীয় বিজ্ঞানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সক্ষমতা।

আল্লাহর সাহায্যে ইরানি জাতি তার ধর্ম ও জ্ঞান ত্যাগ করবে না বলে জোর দিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী আরও বলেন: আমরা আমাদের ধর্মকে শক্তিশালী করার এবং আমাদের বিভিন্ন বিজ্ঞানের প্রসারের জন্য বৃহৎ পদক্ষেপ নেব এবং শত্রুর অন্ধত্বের মধ্য দিয়ে আমরা ইরানকে অগ্রগতি ও সম্মানের শীর্ষে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।

এই অনুষ্ঠানে, কুরআনের বেশ কয়েকজন তিলাওয়াতকারী আল্লাহর মহিমান্বিত কালামের আয়াত তেলাওয়াত করেন এবং হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিঈও নাহজুল-বালাগার ১৮২ নং খুতবা উদ্ধৃত করে সিফফিন যুদ্ধের শহীদদের বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেন। সাম্প্রতিক ১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধের শহীদদের সাথে সিফফিন যুদ্ধের শহীদদের বৈশিষ্ট্যগুলিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

পথে অবিচল থাকা, সত্যের পথে এগিয়ে যাওয়া, কুরআন তেলাওয়াত করা এবং তার উপর আমল করা, ফরজ কর্তব্য পালন করা, ঐশী ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবিত করা, বিদআতের মুখোমুখি হওয়া, জিহাদে অংশগ্রহণ করা এবং নেতৃত্বের অনুসরণ করা – এই আটটি বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করে হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিঈ বলেন: কুরআন অনুসারে, ঈমান এবং আস্থা হল ঐশী বিজয়ের দুটি প্রধান কারণ। এই দুটি উপাদান ১২ দিনের আরোপিত যুদ্ধে স্পষ্টভাবে উপস্থিত ছিল এবং ইরানী জাতির প্রতিরোধ ও বিজয়ের পথ প্রশস্ত করেছিল।

এই অনুষ্ঠানে, জনাব মোহাম্মদ রেজা বাজরি ইহুদিবাদী শত্রুর সাথে যুদ্ধে শহীদদের মহাকাব্যিক কৃতিত্ব উদযাপনে কবিতা আবৃত্তি করেন এবং মর্সিয়া পরিবেশন করেন।

সূত্র : পার্সটুডে

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮০

আন্তর্জাতিক

‘আমরা কাতার নই, ওদের নরক দেখিয়ে ছাড়ব’: ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল পাকিস্তান

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’ শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত […]

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

সম্প্রতি ইরানে পাকিস্তান দূতাবাসের কাছে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার খবরে ফুঁসে উঠেছে ইসলামাবাদ। সরকার-সংশ্লিষ্ট পাকিস্তান স্ট্র্যাটেজিক ফোরাম এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইসরায়েল মনে রাখবে, পাকিস্তান কাতার নয়। আমাদের কূটনীতিকদের ক্ষতি হলে আমরা কঠোর জবাব দেব।’

শুক্রবার (২৭ মার্চ) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে এ খবর।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তেহরানের আশেপাশের অনেক এলাকা। এতে কেঁপে ওঠে পাকিস্তানের দূতাবাসের পাশাপাশি রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলকে এমন হুঁশিয়ারি দিল ইসলামাবাদ ।

জানা গেছে, দূতাবাস বা পাকিস্তানি কূটনীতিকদের কোনো ক্ষতি হয়নি। কিন্তু বিস্ফোরণে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ২৮ দিনে গড়িয়েছে। বিভিন্ন স্থানে হামলা-পাল্টা হামলা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ভূমিকা রাখতে চাচ্ছে। পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ চাইলে তারা আলোচনার আয়োজন করতেও প্রস্তুত।

এদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দেশটির বিদ্যুৎ গ্রিডে হামলার পরিকল্পনা আবারও স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী, এই হামলার সম্ভাব্য সময়সীমা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করে আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮০

আন্তর্জাতিক

নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে ইরানের সাথে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের তুমুল লড়াই

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে। তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৯

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর নিখোঁজ এক ক্রু’কে খুঁজতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ক্রু’কে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সের সেনারা শুক্রবার রাতে ইরানে প্রবেশ করেছে।

তবে টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ইরানে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের প্রবেশ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইতোমধ্যে এই অভিযানে একজন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যুদ্ধবিমানটির দ্বিতীয় ক্রু সদস্যের জন্য এখনও অনুসন্ধান চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনীর প্যারারেস্কিউ জাম্পারদের এক সাবেক কমান্ডার জানান, ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু সদস্যকে খুঁজে পেতে বিশেষজ্ঞ মার্কিন যুদ্ধকালীন অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিটগুলো ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে এলাকা চষে বেড়াবে।

তিনি বলেন, যদি উদ্ধার লক্ষ্যমাত্রা এমন এলাকায় থাকে যেখানে হেলিকপ্টার পৌঁছাতে পারে না, তাহলে এসি-১৩০ গানশিপ থেকে স্কোয়াডের সদস্যরা নেমে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালাবে।

অন্যদিকে ইরানও নিখোঁজ মার্কিন ক্রু’কে পেতে রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালাচ্ছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের পাইলটকে পাওয়ার জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করেছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮০

আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক বোমার চেয়েও কার্যকর অস্ত্র পেয়ে গেছে ইরান !

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ […]

নিউজ ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২

তেহরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের লক্ষ্যের পেছনে সবসময় দুটি উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করা হয়: প্রথমত, ইসরায়েলকে হুমকি দেওয়া; দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বকে সতর্ক করা যে ইরানে আক্রমণ করলে এমন মূল্য চোকাতে হবে যা কোনো শত্রু বহন করতে চাইবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধে ইসরায়েলের ওপর হুমকি কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের অবিচল নিয়ন্ত্রণ প্রমাণ করে যে, বিশ্বকে চরম সমস্যায় ফেলতে ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্রের প্রয়োজন নেই।

এই জলপথটি দ্রুত যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী এবং তাদের ছায়াশক্তিরা এ অঞ্চলে ট্যাংকারগুলোতে আক্রমণ করছে এবং একটি টোল বা মাশুল ব্যবস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট মারওয়ান মুয়াশার বলেন, ‘ইরান আবিষ্কার করেছে যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য পারমাণবিক বোমা থাকার চেয়েও বেশি কার্যকর।’

ট্রাম্পের ক্ষোভ ও হতাশা
গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কড়া এবং অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে তার ক্ষোভ উগরে দেন। বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ যে পথ দিয়ে যায়, সেই জলপথটি ফের খোলার জন্য সামরিক প্রচেষ্টার ব্যর্থতায় তিনি ইরানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘প্রণালি খুলে দাও… নয়তো তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও!’

অথচ কয়েকদিন আগেই ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পেতে এবং মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ইতিবাচক সুর বজায় রেখেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবেই খুলে যাবে। কারণ ইরানের তেল বিক্রি করতেই হবে, সেটাই তাদের পুনর্গঠনের একমাত্র পথ।’

ট্রাম্প আরও জানিয়েছিলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্তির পথে এবং আগামী দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে।

হরমুজে নতুন ব্যবস্থা
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই স্পষ্টভাবে বলেনি, এই যুদ্ধের মূল কারণ হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত রাখা, কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হোয়াইট হাউজকে দিশেহারা করে তুলেছে। এমনকি ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভা এমন ইঙ্গিতও দিয়েছে যে, প্রণালিটি না খুলেই যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার কথা বিবেচনা করতে পারে।

ইরান সম্ভবত এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাবে। বিশ্লেষকরা এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার পেছনে ইরানের কোনো বিশেষ স্বার্থ দেখছেন না। কার্নেগি বিশ্লেষক করিম সাজাদপুর বলেন, তারা এখন প্রকাশ্যেই এই নিয়ন্ত্রণকে আনুষ্ঠানিক করার কথা বলছে, যেন এটি তাদের নিজস্ব ‘পানামা খাল’ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের জন্যই অগ্রহণযোগ্য।

সাজাদপুর ও মুয়াশার জানান, ইরান এখন কেবল সামরিক সক্ষমতার যুদ্ধের বদলে ‘রাজনৈতিক সহনশীলতা ও টিকে থাকার’ যুদ্ধে মনোযোগ দিয়েছে। ইরান দাবি করেছে, যে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পুনর্নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলার দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের বদলে অন্য মুদ্রার ব্যবহার বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা চীনের প্রতি বিশেষ আনুকূল্য প্রদর্শনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান নিরাপদ যাতায়াতের জন্য প্রতিটি ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায় করছে, যা থেকে তাদের দৈনিক আয় কোটি কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত সপ্তাহে ইরানি নেতারা একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন যেখানে স্থায়ীভাবে টোল আদায়ের কথা বলা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট যে কোনো জাহাজের যাতায়াত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারা একে রাজস্বের উৎস এবং ইরানের সার্বভৌমত্বের আনুষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। বিপরীতে, ইরান মার্কিন শত্রুদের (যেমন চীন) বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে ইরানকে যুদ্ধে সহায়তা করছে।

ইরানি আইনপ্রণেতা মোহাম্মদরেজা রেজাই কুচি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্বাভাবিক। অন্যান্য করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় যেমন ট্রানজিট ফি দিতে হয়, হরমুজও একটি করিডোর। আমরা এর নিরাপত্তা দিচ্ছি, তাই জাহাজগুলোর ফি দেওয়াটাই স্বাভাবিক।’

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এই প্রণালি দিয়ে যায়, যা বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ। সৌদি আরব ও ইরাকের মতো পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ তেল রপ্তানি এই পথেই হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ৪১টি দেশের এক বৈঠকে বলেন, ‘আমরা দেখছি ইরান বিশ্ব অর্থনীতিকে জিম্মি করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ দখল করেছে।’ তিনি জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর পর থেকে ইরান জাহাজে ২৫টিরও বেশি আক্রমণ করেছে এবং প্রায় দুই হাজার জাহাজে ২০ হাজার নাবিক আটকা পড়েছেন।

কার্নেগির গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান এক বছরের মধ্যে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রোগ্রাম ফের গুছিয়ে নিতে পারবে। আর ড্রোন বা ইউএভির ক্ষেত্রে এটি আরও সহজ, কারণ এগুলো ছোট বা বেসামরিক স্থাপনাতেও তৈরি করা সম্ভব।

মারওয়ান মুয়াশার সতর্ক করে বলেন, আরব বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পুরোনো কৌশল এখন আর বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ‘যদি ট্রাম্প প্রণালিটি না খুলে যুদ্ধ ত্যাগ করেন, তবে অন্য কেউ শক্তি প্রয়োগ করে তা খোলার চেষ্টা করবে না। কারণ সেই রাষ্ট্রগুলোর সেই সক্ষমতা বা সদিচ্ছা নেই।’

সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন টাইমস

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৪৯৮০