জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে এ ঘটনায় আরও এক সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এরপরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, ইরানের হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারা আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
তবে নিহত দুই সেনার পরিচয় কিংবা তারা কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
এদিকে হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সংঘাত বাড়িয়ে তোলার চেষ্টার’ জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি থামাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার রাতে জর্ডানে মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালানো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ইউনিটগুলোকে দ্রুত শাস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
এদিকে ইরানের মেহের নিউজ এ হামলার বিষয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছে এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ লিখেছেন, ‘বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা রইল। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।’
এর এক মাস আগে, স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যায়। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে আবারও একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?