প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অন্যদের বঞ্চিত করা দেশের মানুষের ক্ষতি করে এবং মানবতার ওপর আঘাত হানে। তার দাবি, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে এমন বৈষম্যের চর্চা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ও পেশাজীবী চাকরি, পদোন্নতি এবং কর্মজীবনের স্বাভাবিক অগ্রগতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তার ভাষ্য, কেউ ছাত্রজীবনে বিরোধী মতাদর্শের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা ক্ষমতাসীন দলের বাইরে অন্য কোনো দলের সমর্থক ছিলেন—এমন কারণে তাদের অনেকের চাকরি হয়নি, আবার চাকরি পেলেও পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে। অনেককে দীর্ঘদিন প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত থাকতে হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক যদি দক্ষ ও রোগীদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হন, তাহলে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে বঞ্চিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে ব্যক্তির মেধার অবমূল্যায়নের পাশাপাশি দেশের স্বাস্থ্যখাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের বৈষম্যের কারণে দেশে মেধার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক যোগ্য ব্যক্তি বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন।
রিজভী আরও বলেন, গত ১৭ বছরে অনেক চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, গবেষণা ও প্রকাশনা থাকা সত্ত্বেও তারা পদোন্নতি পাননি। তিনি কয়েকজন চিকিৎসকের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাদের প্রাপ্য মূল্যায়ন হয়নি এবং দীর্ঘদিন মেডিকেল অফিসার হিসেবেই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন না হলে এসব চিকিৎসকের অনেকেই সহকারী অধ্যাপক বা অধ্যাপক হওয়ার সুযোগ পেতেন না। এতে তাদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও একাডেমিক পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, একজন প্রকৃত নেতার চিন্তায় গোটা দেশ ও দেশের সব মানুষ থাকতে হবে। তার অভিযোগ, অতীতে বিভাজনের রাজনীতির কারণে অনেক মেধাবী ব্যক্তি বঞ্চিত হয়েছেন এবং কেউ কেউ বিদেশে স্থায়ীভাবে চলে গেছেন, যার ফলে দেশ তাদের দক্ষতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এখন অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। তার দাবি, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। পাশাপাশি ক্যান্সার, কিডনি, থ্যালাসেমিয়া ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। তার মতে, জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক সরকারের দায়িত্বই হলো এ ধরনের জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।