মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে, তাহলে কী করতে হবে তার ‘নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন’ তিনি। আর তেমনটা ঘটলে চরম মাশুল গুনতে হবে তেহরানকে। দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে এ কথা বলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই ওদের হিটলিস্টে আছি। এই পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে আমাদের। …আসল কথা হলো, আমি নির্দেশ দিয়ে রেখেছি—যদি আমার কিছু হয়ে যায়, তাহলে আক্ষরিক অর্থেই ওদের ওপর এমন মাত্রায় বোমাবর্ষণ করা হবে যা ওরা আগে কখনো দেখেনি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করার একটি পরিকল্পনার আগাম গোয়েন্দা তথ্য এ সপ্তাহে ইসরায়েল জানিয়েছে—এমন খবরের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের নতুন কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিন এ-ও দাবি করেন যে, তেহরান বহু বছর ধরেই তার মৃত্যু চাইছে।
‘না, না। ইসরায়েল নতুন কিছুই পায়নি। না, না,’ বলেন তিনি। ‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই [ইরানের হিটলিস্টের] এক নাম্বারে আছি। আর জীবনটাই এমন, বুঝতেই পারছেন।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান তাকে হত্যা করলে ‘আশা করি আপনারা আমাকে মিস করবেন।’
এর আগে ২০২০ সালে প্রকাশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মৃত্যু চেয়েছে ইরান। ওই বছর ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত এক হামলায় ইরানের সামরিক শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই এই বৈরিতা।
২০২৪ সালের ১৩ জুলাই পেনসিলভেনিয়ার বাটলারে এক রাজনৈতিক সমাবেশে এক আততায়ীর বুলেট ট্রাম্পের কান ঘেঁষে চলে যায়। এরপর ট্রাম্পকে হত্যার আরও বেশ কয়েকটি চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রকাশ্যে চরমে পৌঁছেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় ইরানি বিক্ষোভকারীরা ট্রাম্প হত্যার আহ্বান জানিয়ে বিশাল সব ব্যানার প্রদর্শন করেছেন।
এদিকে মার্কিন নৌবাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করায় সোম ও মঙ্গলবার তিনটি জাহাজে ইরান আক্রমণ করার পর ট্রাম্প ওয়াশিংটন-তেহরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও সদ্যাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন।
এছাড়া ইরানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সব ধরনের নিষেধাজ্ঞার ছাড়ও তুলে নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে মঙ্গলবার ও বুধবার ইরানের প্রায় ২০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে মার্কিন বাহিনী।
তবে শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, তেহরান আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করার পর ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি এ-ও বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি ছিল, সেটি এখন ‘শেষ’ হয়ে গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দুই দিনের হামলা-পাল্টা হামলার পর কূটনৈতিক উদ্যোগ আবারও শুরু করার লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে পৌঁছেছেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?