হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত ইরানের কেশম দ্বীপে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালানোর দাবি করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আঞ্চলিক কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এক শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল এবং সামুদ্রিক চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত রয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানালেও এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। এদিকে ইরানি গণমাধ্যম দাবি করেছে, কয়েকদিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, বাহরাইন, কুয়েতসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক লক্ষ্যবস্তুতে ছোড়া একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হয় প্রতিহত করা হয়েছে, নয়তো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। কুয়েতমুখী দুটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভেঙে পড়ে এবং বাহরাইনের দিকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইনের যৌথ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে।
মার্কিন বাহিনী আরও দাবি করেছে, আঞ্চলিক জলসীমায় বেসামরিক জাহাজ ও কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী কেশম দ্বীপে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তর, একটি বিমানঘাঁটি এবং একটি আঞ্চলিক দেশের অভ্যন্তরে থাকা কয়েকটি হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উভয় পক্ষের সামরিক তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?