শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

আন্তর্জাতিক

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রোবটের দাপট: ১০ মিটারের মধ্যে এলেই মৃত্যু

সাইরেনের তীক্ষ্ণ আওয়াজ, চারপাশে ধুলোর ঝড় আর ঝাপসা স্ক্রিন। তারপরই একটা বড় বিস্ফোরণ। ইউক্রেনের যুদ্ধজয়ী সেনারা এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে, নিরাপদ আশ্রয়ে বসে ‘গেমিং চেয়ারে’ হেলান দিয়ে স্ক্রিনের সামনে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আর শুধু মানুষের লড়াই নেই। এখন সেখানে অত্যাধুনিক রোবট আর চালকবিহীন অস্ত্রের দাপট চলছে। সম্মুখসারির রক্তক্ষয়ী লড়াই থেকে অনেক দূরে বসে […]

নিউজ ডেস্ক

৩১ মে ২০২৬, ১৬:৫৬

সাইরেনের তীক্ষ্ণ আওয়াজ, চারপাশে ধুলোর ঝড় আর ঝাপসা স্ক্রিন। তারপরই একটা বড় বিস্ফোরণ। ইউক্রেনের যুদ্ধজয়ী সেনারা এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখছেন, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে অনেক দূরে, নিরাপদ আশ্রয়ে বসে ‘গেমিং চেয়ারে’ হেলান দিয়ে স্ক্রিনের সামনে।

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ আর শুধু মানুষের লড়াই নেই। এখন সেখানে অত্যাধুনিক রোবট আর চালকবিহীন অস্ত্রের দাপট চলছে। সম্মুখসারির রক্তক্ষয়ী লড়াই থেকে অনেক দূরে বসে কমান্ডাররা এখন ড্রোনের লাইভ ফুটেজ দেখে হামলা চালাচ্ছেন। রোববার (৩১ মে) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়াছে।

পূর্ব ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে সম্প্রতি একটি অভিযানে তিনটি রুশ অবস্থান লক্ষ্য করে ছয়টি বড় বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে পুরোটাই মানুষ ছাড়াই। ড্রোন থেকে নজরদারি করা হচ্ছিল, আর রোবটগুলো নির্দিষ্ট গতিপথে এগিয়ে গিয়ে কাজ শেষ করেছে।

জনবলের তীব্র সংকট আর পশ্চিমা সাহায্যের অনিশ্চয়তার কারণে ইউক্রেন বাধ্য হয়েই চালকবিহীন প্রযুক্তির ওপর বেশি নির্ভর করতে শুরু করেছে। আর এই কৌশল তাদের রাশিয়ার বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে একটা বড় সুবিধা দিচ্ছে।

গত এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রথমবারের মতো শুধু রোবট ও ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার একটি ঘাঁটি দখল করতে সক্ষম হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাদের চালকবিহীন ব্যবস্থাগুলো প্রায় ২২ হাজার সফল মিশন সম্পন্ন করেছে।

রুশ সেনাদের কাছে ‘নীরব মৃত্যু’

ইউক্রেনীয় সূত্র জানিয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে ধরা পড়া রুশ সেনারা এই বিস্ফোরকবাহী রোবটগুলোর নাম দিয়েছে—’নীরব মৃত্যু’। এগুলো এতটাই চুপচাপ চলে যে, রুশ সেনারা সাধারণত ১০ মিটারের মধ্যে চলে আসার আগে টেরই পায় না। ততক্ষণে তারা বিস্ফোরণের আওতায় চলে গেছে।

ইউক্রেনের থার্ড অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ‘এনসি১৩’ ইউনিটের হিসাব বলছে, গত ১৬৪টি অভিযানে এই রোবটগুলো যে ক্ষয়ক্ষতি করেছে, সেই একই কাজ করতে তাদের অন্তত ২,৩০০ জন সেনা লাগত। সাধারণ হামলায় এ ধরনের অভিযানে ইউনিটের অর্ধেক সেনা হতাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ এই রোবটগুলো অন্তত এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার প্রাণ বাঁচিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যারা আগে ডনবাসের সম্মুখসারিতে লড়াই করেছেন, তাদের কাছে এই পরিবর্তনটা অবিশ্বাস্য মনে হয়।

থার্ড অ্যাসল্ট ব্রিগেডের ডেপুটি কমান্ডার বার বলেন, আগে কখনো এমন কিছু কল্পনাও করিনি। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, তখন যদি এই ধরনের সরঞ্জাম থাকত, তাহলে আমার আরও অনেক সহযোদ্ধা বেঁচে যেত।

তবে ইউনিট কমান্ডার মাইকোলা ‘মাকার’ জিনকেভিচের কাছে নতুন যুদ্ধটা একটু ফাঁকা লাগে। তিনি বলেন, আগের যুদ্ধ ছিল আরও পুরুষালি। সেখানে তোমার প্রশিক্ষণ, দক্ষতা আর শৃঙ্খলাই মূল বিষয় ছিল। এখন প্রযুক্তিই সব ঠিক করে দিচ্ছে। পেছনে ফেরার আর উপায় নেই। এটা এখন শুধুই প্রতিযোগিতা কে কত দ্রুত এই নতুন যুদ্ধের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে।

ইউক্রেন এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনটা বাধ্য হয়েই করেছে। চার বছরের যুদ্ধে দেশটির ছোট জনসংখ্যা অনেক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। তবে ড্রোন ও রোবটের সঠিক ব্যবহার রাশিয়ার ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা প্রতি মাসে গড়ে ৩৫ হাজার রুশ সেনাকে হতাহত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা জিসিএইচকিউ-এর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধে রাশিয়ার মোট সামরিক মৃত্যু ইতিমধ্যে প্রায় ৫ লাখে পৌঁছেছে।

এখন রোবটগুলো পদাতিক বাহিনীর মৌলিক কাজও করে ফেলছে। একটি ইউনিট জাল দিয়ে ঢাকা ছাউনির নিচে ব্রাউনিং মেশিনগান বসানো রোবট ব্যবহার করছে। এতে একাধিক ক্যামেরা লাগানো, যা চারপাশের দৃশ্য স্পষ্ট দেখায়। এই রোবট দিনের পর দিন গাছের আড়ালে অপেক্ষা করতে পারে। খাওয়া-দাওয়া বা ক্লান্তির কোনো ব্যাপার নেই। শুধু গুলি ফুরিয়ে গেলে ফিরে আসতে হয়।

একজন ইউক্রেনীয় সেনা জানান, যখন আমরা শত্রুর বিরুদ্ধে এটা ব্যবহার করলাম, তারা একদম আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছিল, বুঝতেই পারছিল না কী করবে।

যুদ্ধক্ষেত্র এখন যন্ত্র আর মানুষের মিশ্রণে এক নতুন রূপ নিয়েছে। আর এই পরিবর্তন ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৫৩

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়া দেশকে ‘শত্রু’ বিবেচনা করবে ইরান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:২৪

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞায় কোনো দেশ যোগ দিলে তাকে ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে এ সতর্কবার্তা দেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, কোনো দেশেরই তাতে অংশ নেওয়া উচিত নয়। কোনো দেশ ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করলে তাকে শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

ইরানের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মিত্র কিংবা অন্য কোনো দেশ সহযোগিতা করলে তেহরান তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিতে পারে।

এর আগে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর কোনো হামলা হলে এবার তার জবাব আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে দেওয়া হবে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান তার সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘদিন দেশটির সামরিক নীতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক থাকলেও এখন তা ধীরে ধীরে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থানের দিকে যাচ্ছে।

তবে আকরামিনিয়া স্পষ্ট করেছেন, এর অর্থ ইরান আগাম হামলা চালানোর নীতি গ্রহণ করছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর কোনো আগ্রাসন হলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং সেই প্রতিক্রিয়ার পরিসর মূল হামলার চেয়েও বড় হবে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৫৩

আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৬২,নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে ক্রমেই বাড়ছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯৬২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজারের বেশি মানুষ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে নুয়াকোটের বেত্রাবতী এলাকার একটি বাড়ি থেকে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। একই সময়ে ভারতের গণ্ডক নদী থেকেও আরও ১৩ জনের মরদেহ […]

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৬২,নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০

ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে ক্রমেই বাড়ছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৯৬২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন চার হাজারের বেশি মানুষ

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে নুয়াকোটের বেত্রাবতী এলাকার একটি বাড়ি থেকে ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। একই সময়ে ভারতের গণ্ডক নদী থেকেও আরও ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো নেপাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, রাসুয়ার উত্তরগয়া গ্রামের একটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

অব্যাহত দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ত্রিশুলির থ্রি-এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উদ্ধার অভিযান টানা ষষ্ঠ দিনের মতো স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। অন্যদিকে, ত্রিশুলি থ্রি-বি প্রকল্পের অন্তত ১১৮ জন শ্রমিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ধসে পড়া সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং দুর্গতদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে উদ্ধারকারীদের ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৫৩

আন্তর্জাতিক

হামলা না করা শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরান মারফত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। গালফ অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে এই সংবাদের সত্যতা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান […]

হামলা না করা শর্তে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দিতে চায় সৌদি আরব

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৭

সৌদি আরবের ওপর হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইরান মারফত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সৌদি আরব। গালফ অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে এই তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টাইমস অফ ইন্ডিয়াতে এই সংবাদের সত্যতা প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেন। একটি কূটনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, সৌদি মন্ত্রী তার হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে করে এই ১০০ কোটি ডলার অর্থ তেহরানে নিয়ে এসেছিলেন। তবে অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি কোনো সৌদি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেননি।

তেহরানের এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনীর, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মহসেন রেজাই এবং ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের ক্রমাগত হামলার কারণে সৌদি আরবে অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ায় ইরান মধ্যস্থতার এই প্রস্তাব দিয়েছিল।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সফরের বিষয়ে এক সরকারি বিবৃতিতে জানায়, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফরটি বর্তমান সংকটের পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা হ্রাস, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানকে উৎসাহিত করা

এবং কাতার রাজ্য ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের পরিচালিত মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য ন্যাটো-রীতির এই জোটের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসেছে।’

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এক সৌদি কর্মকর্তা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও জানান, তিন বছর আগে পৌঁছানো সমঝোতা বাস্তবায়নেই সংঘাতের মূল কারণ।

ঐ সমঝোতার আওতায় হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের সরকারি কর্মচারীদের বেতন এবং অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে সরাসরি অর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, যার বিনিময়ে হুথিরা হামলা বন্ধ রাখবে। হুথিরা সৌদি আরবকে অঙ্গীকার ভঙ্গের অভিযুক্ত করলেও সৌদি আরবের অবস্থান হলো তারা কোনো সামরিক ব্ল্যাকমেইলের মুখে নতুন করে যুদ্ধবিরতিতে যাবে না।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোট এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা মূলত গত সপ্তাহে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানের তেহরান সফরের সময় রূপ নেয়। ইরানের ১০০ কোটি ডলারের এই প্রস্তাব বা বিমানে অর্থ বহনের দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

২০ জুন ২০২৫
poll_title
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?

মোট ভোট: ৫১৫৩