বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও সামরিক যোগাযোগ নিয়ে ভারতের মন্তব্যকে কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঢাকা–ইসলামাবাদ সম্পর্কের ধরন নির্ধারণে কোনো তৃতীয় দেশের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। পাকিস্তানের ভাষায়, এটি দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের পারস্পরিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন কৌশলগত বিষয়ে পাকিস্তানের সহযোগিতা নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসলামাবাদে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের সূত্রগুলো বলেছে, ভারত যেভাবে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক পর্যবেক্ষণের কথা বলছে, তা মূলত অযাচিত হস্তক্ষেপের শামিল।
বিশেষ করে বাংলাদেশের সম্ভাব্য জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে “অপ্রাসঙ্গিক” বলে মন্তব্য করেছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের মতে, একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কোন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনবে বা কার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা করবে, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অগ্রগতির ওপর ভারত নজর রাখছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া এবং সম্ভাব্য সামরিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, বিষয়টি ভারত পর্যবেক্ষণ করছে।
এই মন্তব্যের জবাবে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দিল্লির এমন অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পুরোনো আধিপত্যবাদী মানসিকতারই প্রতিফলন। তারা দাবি করছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক নিয়ে ভারত মন্তব্য করার নৈতিক বা কূটনৈতিক কোনো অধিকার রাখে না।
এদিকে বাংলাদেশের বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদের সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফরকে কেন্দ্র করে জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা নতুন করে সামনে আসে। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকেও স্বীকার করা হয়েছে, বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জাহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশকে সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহ, প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক প্রচার সংস্থা আইএসপিআর জানিয়েছে, বৈঠকে সম্ভাব্য জেএফ-১৭ ক্রয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
৪.৫ প্রজন্মের মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান হিসেবে পরিচিত জেএফ-১৭ থান্ডার চীনের সহায়তায় পাকিস্তান তৈরি করেছে। শক্তিশালী রাডার, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও বহুমুখী যুদ্ধ সক্ষমতার কারণে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্ব পাচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতের সঙ্গে অতীতের সামরিক উত্তেজনায় এই যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।
ইতোমধ্যে আজারবাইজান, মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার মতো কয়েকটি দেশে এই যুদ্ধবিমান রপ্তানি করেছে পাকিস্তান। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ যদি সত্যিই জেএফ-১৭ সংগ্রহের পথে এগোয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হতে পারে। একইসঙ্গে ভারত–বাংলাদেশ–পাকিস্তান ত্রিমুখী কূটনৈতিক উত্তেজনাও আরও প্রকাশ্য রূপ নিতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?