ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এলাকায় বোরকা, হিজাব ও নিকাব পরিধান করায় এক নারী শিক্ষার্থীকে থুতু নিক্ষেপ ও শারীরিক লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরবর্তীতে পরিচালিত পারিবারিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ না হলে এটি দ্রুত ন্যাশনাল ইস্যুতে রূপ নিতে পারে—এই আশঙ্কা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদগুলো।
ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতাদের পাঠানো লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের কার্জন হল সংলগ্ন এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপমান করে অশ্লীল গালিগালাজ সহ থুতু নিক্ষেপ করা হয় এবং পরে তার হাত ধরে অশোভনভাবে আচরণ করা হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন; এখনো সে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছে না।
ডাকসু নেতা সাবিকুন্নাহার তামান্না সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও এখনও তাত্ক্ষণিক কোনো রেসপন্স পাওয়া যায়নি, এ কারণেই লিখিত অভিযোগে তারা প্রক্টর অফিসে আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসন এলাকা পরিদর্শন করে কোনো কাজে লাগার মতো সিসিটিভি ফুটেজ খুঁজে পায়নি—অর্থাৎ সেই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটি অরক্ষিত ও সিসিটিভির আওতার বাইরে রয়েছে।
ভুক্তভোগীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ঘটনাস্থলের বর্ণনা তুলে ধরে তিনি লিখেছেন—‘ক্লাস শেষে কার্জন থেকে ফিরছিলাম। জুলোজি ডিপার্টমেন্টের (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ) ঐদিকের রাস্তা দিয়ে আসছি, হঠাৎ করেই একজন আপু আমার দিকে থুতু নিক্ষেপ করে বিশ্রী ভাষায় বলে উঠলেন– আরেহ তুই ঐখানকার মেয়ে না? সব পাকিস্তানি! কোথা থেকে মুখ পুড়িয়েছিস যে মুখ ঢেকে রেখেছিস?’ পোস্টটিতে ভুক্তভোগী আরও লিখেছেন—‘খপ করে হাত ধরে বলল, হাত কি দেখতে এত খারাপ যে ঢেকে রেখেছিস? আগুনে পুড়েছে নাকি? দেখি দেখি…’ (উদ্ধৃতিগুলো অপরিবর্তিত রাখা হলো)।
সাবিকুন্নাহার তামান্না অভিযোগ তুলে বলেন, একজন মানুষ কী পরিমাণ ঘৃণা থেকে এমন কুকর্ম করতে পারে—এটি কল্পনাতীত। শুধু থুতু নিক্ষেপ নয়; হাত ধরে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার মতো কাণ্ড এতে ঘটেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এটার সমাধান যদি না আসে এটা ন্যাশনাল ইস্যু হয়ে দাঁড়াবে। এটা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াবে’। প্রশাসনকে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যে কোনো ধরনের সহিংসতার পূর্বাভাস রোধ করতে পদক্ষেপ নিতে হবে।
ভুক্তভোগীর দাবি ও ডাকসুর লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তরফে দুই দিনের সময় চাওয়া হয়েছে বলে জানান ডাকসু নেতারা; কিন্তু তারা মনে করেন একজন টraumা-গ্রস্ত ব্যক্তির জন্য দুই দিন অপেক্ষা অনেক বেশি—অতিদ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সাক্ষী ও ছাত্রবৃন্দের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্রের মধ্যেই এমন সম্প্রীতি বিঘাতকারী ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে দৃশ্যমান, দায়িত্বশীল ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পেয়েছে যে প্রতিক্রিয়া—ডাকসু, হল সংসদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা-প্রকাশ শুরু হয়েছে; এখন প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ দেখাতে হবে যাতে অধ্যায়নরত নারীর নিরাপত্তা তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ অক্ষুন্ন থাকে।
ভুক্তভোগীর দফতরীয় বক্তব্য, প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্তের ফলাফল প্রকাশ পেলে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য পরে জানানো হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।