সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ক্যাম্পাস সংস্কার বাদ দিয়ে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনে ব্যস্ত পবিপ্রবি প্রশাসন

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম সংকটে ছাত্রছাত্রীদের পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি, আবাসন ব্যবস্থার রয়েছে করুণ অবস্থা, হলের ক্যান্টিন ও টিএসসি নিয়ে নেই অভিযোগের অন্ত। বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক সংস্কারের দাবি থাকলেও তা নিয়ে নেই কার্যকরী উদ্যোগ। বিগত আমলে ভেঙ্গে ফেলা বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ারের পুনঃস্থাপনের দাবি বার বার উঠলেও যৌক্তিক এসব সংস্কার বাদ দিয়ে যেন বিগত আওয়ামী প্রশাসনের পুনর্বাসনে […]

নিউজ ডেস্ক

১৩ জানুয়ারী ২০২৫, ২০:৫৮

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুম সংকটে ছাত্রছাত্রীদের পোহাতে হয় সীমাহীন ভোগান্তি, আবাসন ব্যবস্থার রয়েছে করুণ অবস্থা, হলের ক্যান্টিন ও টিএসসি নিয়ে নেই অভিযোগের অন্ত। বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক সংস্কারের দাবি থাকলেও তা নিয়ে নেই কার্যকরী উদ্যোগ। বিগত আমলে ভেঙ্গে ফেলা বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ারের পুনঃস্থাপনের দাবি বার বার উঠলেও যৌক্তিক এসব সংস্কার বাদ দিয়ে যেন বিগত আওয়ামী প্রশাসনের পুনর্বাসনে ব্যস্ত পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নব্য প্রশাসন। যা নিয়ে ইতোমধ্যে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: জামাল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ প্রশাসন বিতর্কিত কর্মকর্তা শামসুল হক রাসেলকে চাকুরিতে পুনর্বাসন করে এ বিতর্ককে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে ‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে এ সকল শিক্ষকরা শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাদের সামনে বিভিন্ন প্রেরণামূলক বক্তব্য দিলেও বর্তমানে তাদের এমন বিতর্কিত কর্মকান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে কিছুটা হতাশার সৃষ্টি করেছে।

 

এর আগে আওয়ামী আমলে বহিষ্কৃত হওয়া শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক এম এম মেহেদী হাসানকে পুনর্বাসিত করে এ প্রশাসন। অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক জামাল হোসেনের একক সুপারিশে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও অধ্যাপক মেহেদী হাসানের বহিষ্কারাদেশ গত ১৫ আগস্টে তুলে নেয় প্রশাসন। শুধু তাই-ই নয় মেহেদী হাসানের বিষয়টি আদালতে উত্থাপিত হলে তৎকালীন সময়ে অধ্যাপক জামাল হোসেন ‘আদালতে শুনানির সাথে জড়িত’ সন্দেহে মেহেদী হাসানের পক্ষ হয়ে ক্যাম্পাসের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে উচ্চবাচ্য করেন যা প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে।

 

শিক্ষার্থীদের জিম্মি করা, নিয়োগে অনিয়ম, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী বিধিমালা ভঙ্গসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে অধ্যাপক মেহেদীর বিরুদ্ধে। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দলীয় পরিচয়ে বেশ দাপটের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের হেনস্তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্নাতকে ২.৯৫ সিজিপিএ পাওয়া এ শিক্ষক নিয়োগের যোগ্যতা পূরন না করেও দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ে। পদোন্নতির শর্ত পূরন না করেই নিয়েছেন একের পর এক প্রমোশন। তার বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের জুন মাসে আনিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ সমূহের তদন্তে সত্যতা পায় দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কমিটি যা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিকে নিশ্চিত করা হয়। এতো কিছুর পরও বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষক অধ্যাপক জামাল হোসেনের একনিষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ায় অধ্যাপক মেহেদীকে শাস্তির বদলে উল্টো তার জন্য তিনি সুপারিশ করেন ও সাময়িক বহিষ্কারাদেশ বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে বরখাস্ত থাকাকালীন তার বেতন ভাতাদি প্রদান করার আদেশ জারি করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদের জোর আপত্তিতে গত ১২ ডিসেম্বর উক্ত প্রতিকল্পাদেশটি বাতিল করা হয়।

 

শুধু আওয়ামী পুনর্বাসনই নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সরাসরি বাধাদানকারী দেশব্যাপী বিতর্কিত শিক্ষক ড. সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বরং তাকে ছুটি দিয়ে তার দায় থেকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করে দেয় উপাচার্য রফিকুল ইসলাম প্রশাসন। জুলাই বিপ্লবের সময়কালে ‘৫ হাজার মানুষ মারা লাগলেও সরকার চিন্তা করবে না’ এমন বিতর্কিত মন্তব্য করে শিক্ষার্থীদের হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেন তৎকালীন এ রেজিস্ট্রার। এমনকি সে সময়ে তিনি শিক্ষার্থীদের দিকে আপত্তিকর শব্দচয়ন করেন। যাতে করে সেসময় তিনি দেশব্যাপী ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। তাছাড়া আওয়ামী পরিচয়ে প্রতাপশালী এই শিক্ষক রেজিস্ট্রার-প্রক্টরসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজের কাছে পুঞ্জীভূত করে রাখেন। তদানীন্তন সময়ে একটি জাতীয় দৈনিকে তার এ বিষয়টি উঠে আসলে তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন সময়ে দূর্ব্যবহার, গ্রুপিংসহ একাধিক অভিযোগ উঠে আসে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নবনিযুক্ত উপাচার্যের বিতর্কিত এ শিক্ষককে ছুটি দিয়ে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে গত নভেম্বর মাসে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে শিক্ষকদের ব্যাপক আপত্তির মুখে এ সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসে প্রশাসন।

 

সব কিছু ছাপিয়ে গত ডিসেম্বরে ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনে সবচেয়ে বড় চমক সৃষ্টি করেছে পবিপ্রবি প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত কর্মকর্তা পিও-টু প্রোভিসি শামসুল হক রাসেলের সাময়িক বহিষ্কার আদেশ তুলে দেয় প্রশাসন। যার বিরুদ্ধে আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে হেনস্থা, হত্যার হুমকি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনসহ রয়েছে একাধিক অভিযোগ। সর্বশেষ তাকে অসদাচরণের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৪ মার্চ চাকুরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষককে হেনস্থা করার ঘটনায় তদন্তে সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটি। বিশ্ববদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান তার এ বহিষ্কারাদেশ তুলে দিতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেন বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসনের একাধিক সূত্র। এর আগে গত আগস্ট মাসে অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের উদ্যোগে তার বহিষ্কার আদেশ বাতিল করা হলেও সেসময় শিক্ষকদের তীব্র আপত্তির মুখে কার্যকর করা হয়নি। কিন্ত ৪ মাস পর এসে সে সিদ্ধান্ত পুনর্বহাল করায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। অথচ রাসেলের অসদাচরণে তার বিচারের দাবিতেই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা দিনের পর দিন লাগাতার আন্দোলন করেছিলো। কিন্ত জুলাই বিপ্লবের পর এ কর্মকর্তার এমন পুনর্বাসন হতবাক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের।

 

এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান জানান, “এ বিষয়ে আগের প্রশাসন (আগস্ট মাসে) রিজেন্ট বোর্ডেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে কারনে তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার আমাদের নেই। তবে তার অতীত অপরাধের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান আছে, সেখানে অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকে অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনবে প্রশাসন”।

তাহলে গত ৪ মাস কেন তার যোগদানের প্রতিকল্পাদেশ দেওয়া হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এতোদিন না দেওয়ার চেষ্টা করেছি তবে এখন দেখছি না দিলে আমরা আইনি জটিলতায় পড়তে পারি তাই আইনের প্রতি সম্মান জানাতেই ৪ মাস পর হলেও আমরা প্রতিকল্পাদেশটি দিয়েছি। তবে কোন ধরনের সুপারিশে এমনটা করা হয়নি”।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক জামাল হোসেনকে অধ্যাপক মেহেদী হাসানের পুনঃর্বহালের বিষয়ে মুঠোফোনে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমার চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও যথাযথ কতৃপক্ষই ভালো বলতে পারবেন।”

এ সময় তাকে সুপারিশের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনে এসকল বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি এবং পরে সামনাসামনি কথা বলবেন জানিয়ে ফোন রেখে দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বিগত সরকারের আমলে অনেকে প্রশাসনের রোষানলে পড়ে চাকরি হারিয়েছেন। কিন্ত সেসকল বঞ্চিতদের চাকরি ফেরত দেওয়ার আগেই এদের বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে কিভাবে চাকুরিতে পুনর্বহাল করা হলো সেটা আমারও প্রশ্ন এবং আমিও এগুলো নিয়ে উপ-উপাচার্যকে জিজ্ঞেস করেছি”

তিনি আরও বলেন, “যাদের নিয়ে অভিযোগ তাদের বিষয়ে বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত আছে। তবে সেসময় অধ্যাপক জামাল ও অধ্যাপক হেমায়েত রিজেন্ট বোর্ডসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক দায়িত্বে ছিলেন। আমি যেহেতু জুলাই বিপ্লবের ২ মাস পরে এসেছি ওনারাই সেগুলো ভালো বলতে পারবেন কি করে এগুলো হলো”।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ […]

‎রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ,গুরুতর আহত ৪

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০০:৩৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন—বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব ও শরিফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম এবং সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে একদল ছাত্রদল নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। তাদের কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন।

খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় সেখানে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে দৈনিক সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে কয়েকজন সাংবাদিককে হলের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে দ্য ডেইলি স্টার ও আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আহত হন। আগামীর সময়ের প্রতিনিধির মাথায় আঘাত লাগে। অন্য সাংবাদিকরা এগিয়ে গেলে তাদের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট ও মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বলে জানা গেছে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য ঘিরে রাকিবুল নামের একজনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়।

আহসান হাবীব অভিযোগ করেন, ওই মন্তব্যে তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করা হয়েছে। অন্যদিকে রাকিবুল দাবি করেন, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছিল। পরে দুজনই ফেসবুকে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

এ পরিস্থিতির মধ্যে রোববার বিকেলে ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অবস্থান নেন। তাদের কারও কারও হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। এরপর উত্তেজনা আরও বাড়ে এবং একপর্যায়ে হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানানো হয়েছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।