সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চলনবিলজুড়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ, নিয়মিত নজরদারি চান স্থানীয়রা

কাওসার আহমেদ. বর্ষার পানি কমতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে শুষ্ক মৌসুমের দিকে এগোচ্ছে নাটোরের চলনবিল। তবে পানি কমলেও বিলের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ জালে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পোনা ধরা পড়ছে। এতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় […]

চলনবিলজুড়ে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ, নিয়মিত নজরদারি চান স্থানীয়রা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৩

কাওসার আহমেদ.

বর্ষার পানি কমতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে শুষ্ক মৌসুমের দিকে এগোচ্ছে নাটোরের চলনবিল। তবে পানি কমলেও বিলের বিভিন্ন নদী, খাল ও জলাশয়ে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ জালে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ পোনা ধরা পড়ছে।

এতে দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিলজুড়ে জালের ব্যবহার

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর, বিলশা, শ্রীপুর, পিঁপলা, বামনবাড়িয়া, মশিন্দার ১০ নম্বর ব্রিজ এলাকা, নাদোসৈয়দপুর, বিলকাঠুর, বিলব্যাসপুর, যোগেন্দ্রনগর, বিলহরীবাড়ী ও হরদমা এলাকায় চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।

একই চিত্র নাটোরের সিংড়া উপজেলার ডাহিয়া, ইতালী, চৌগ্রাম, কলম, তাজপুর, শেরকোল, বেড়াবাড়ি, কাউয়াটিকরি, ইন্দ্রাসন, মাগুড়া, বিলতাজপুর, সাতপুকুরিয়া, সারদানগর ও জোলারবাতা এলাকায়। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার রুহাই, কুন্দইল ও হান্ডিয়াল এলাকাতেও এ জালের ব্যবহার বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের ভাষ্য, চায়না দুয়ারি জালের সূক্ষ্ম ফাঁসের কারণে ছোট মাছ ও পোনা সহজেই আটকা পড়ে। একই সঙ্গে বড় মাছও এ জালের ফাঁদ থেকে রেহাই পায় না। ফলে মাছের প্রজনন ও স্বাভাবিক বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা, জলজ জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যজীবীদের জীবিকায়।

‘আগে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত’

চলনবিলের মাছের প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। গুরুদাসপুরের বিলসা গ্রামের শুরুজ বলেন, “একসময় চলনবিলে প্রচুর মাছ পাওয়া যেত। এখন মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও চায়না দুয়ারি জালসহ বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। এসব জালে বেশির ভাগই ধরা পড়ছে মাছের পোনা। বিশেষ করে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বাড়ায় মাছের সংখ্যা কমেছে। এ জালের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের আরও জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।”

অভিযান হলেও বন্ধ হয়নি ব্যবহার

চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে অবৈধ কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে।

গত ১১ জুলাই সকালে গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় হাট, আত্রাই নদী, নন্দকুজা নদী, বেসানী নদী এবং চলনবিলের বিলশা, হরদমা ও পিঁপলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রায় ২০ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরে চাঁচকৈড়ের নন্দকুজা নদীর তীরে জব্দ করা জালগুলো জনসম্মুখে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

এ ছাড়া চলতি বছরের জুনে সিংড়া ও চলনবিল অঞ্চলে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫০টি চায়না দুয়ারি জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আগস্টে সিংড়ায় অভিযান চালিয়ে আরও ৬৯টি জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। জুলাইয়ে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের জাল জব্দ করা হয়।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালানো হলেও নিয়মিত নজরদারির অভাবে অনেক এলাকায় চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের মতে, চলনবিলের বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে ধারাবাহিক অভিযান ও সমন্বিত নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এ জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

যা বলছেন মৎস্য কর্মকর্তারা

গুরুদাসপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রতন চন্দ্র সাহা বলেন, “চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। কোনো এলাকায় এ ধরনের জালের ব্যবহার সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নাটোরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওমর আলী বলেন, “নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে নলডাঙ্গায় অভিযান চালিয়ে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে এবং বাঁশের তৈরি বানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে চলনবিল বিস্তীর্ণ এলাকা হওয়ায় একযোগে পুরো বিলজুড়ে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিয়মিত অভিযানের দাবি

চলনবিলের দেশীয় মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিচ্ছিন্ন অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি, অবৈধ জালের উৎস শনাক্ত করা এবং আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ, ধারাবাহিক অভিযান ও জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি চলনবিলের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণও সহজ হবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।