মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মেহেরপুরের বিভিন্ন পল্লীতে বোমা আতঙ্ক

মজনুর রহমান , মেহেরপুর : গত ১০ দিনে ৫ টি পৃথক স্থান থেকে ৯টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে মেহেরপুরের পল্লীতে। তিনটি নির্বাচনী অস্থায়ী অফিসের পাশে এবং চাদার দাবীতে প্রবাসীর বাড়িতে বোমা ও চিরকুট রেখে দেয়া হচ্ছে হুমকী। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার বা কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের দাবি […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:০৪

মজনুর রহমান , মেহেরপুর :

গত ১০ দিনে ৫ টি পৃথক স্থান থেকে ৯টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে মেহেরপুরের পল্লীতে। তিনটি নির্বাচনী অস্থায়ী অফিসের পাশে এবং চাদার দাবীতে প্রবাসীর বাড়িতে বোমা ও চিরকুট রেখে দেয়া হচ্ছে হুমকী। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার বা কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের দাবি বোমারুদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি ওয়েল্ডিং দোকান থেকে দুটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় দোকান মালিক রিমন হোসেনকে আটক করে সেনাবাহিনী। 

আজ সোমবার দুপুরে সেনাবাহিনী গাংনী ক্যাম্পের একটি দল এই অভিযান চালায়। 

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ের পাশ থেকে বোমা সদৃশ্য দুটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখে গাংনী থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ্য বস্তু দুটি উদ্ধার করে।

শনিবার (৩১ জানুয়ার)ী দারিয়াপুর গ্রামের বিএনপির একটি নির্বাচনী কার্যালয়ের পাশের ঝোপ থেকে একটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা বোমাটি দেখতে পেয়ে মুজিবনগর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে।

একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দারিয়াপুর কালিতলা এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী অফিসের সামনে লাল কসটেপ মোড়ানো আরেকটি হাতবোমা পড়ে থাকতে দেখেন নেতাকর্মীরা। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানিভর্তি বালতিতে করে থানায় নিয়ে যায়।

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাথুলী ইউনিয়নের সহগোলপুর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোজাম্মেল হকের ছেলে মিঠুনের বাড়ির গেটের সামনে থেকে দুটি হাতবোমা ও চাঁদা দাবির চিরকুট উদ্ধার করেন পুলিশ। একটি মিষ্টির প্যাকেটে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি হাতবোমা ও একটি চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে দেড়লাখ টাকা মিষ্টি খাওয়ার জন্য দাবি করে মোবাইল ফোনের নগদ অ্যাপ্সে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হয়।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দারিয়াপুর গ্রামের কদমতলায় আলামিনের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার পাশে ড্রেনের মধ্যে একটি লাল টেপ জড়ানো বস্তু দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে মুজিবনগর থানা পুলিশে খবর দেয় তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি উদ্ধার করে।

মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যাক্তি বলেন, আগে আমাদের এখানে কোনদিনই নির্বাচনী অফিসের পাশে এমনভাবে বোমা পাওয়া যায়নি। এবার একই দিনে আমাদের এই ইউনিয়নের দুই গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের অফিসের পাশে বোমা পাওয়া গেছে। এছাড়া তিন দিন আগেও গ্রামের একজনের বাড়ির পাশের ডে নের মধ্যে থেকে বোমা উদ্ধার হওয়ায় এ গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

গাংনী উপজেলার আমতৈল গ্রামের কয়েকজন বলেন, আমাদের এই গ্রামের সাথেই একটা নদী তার পরেই চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা। এই এলাকায় একসময় সন্ত্রাসের রাজত্ব চলতো। কিন্তু বহুদিন পর আবার আজ বোমা উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নির্বাচনের এই সময় দ্বায়িত্বরত মোবাইল টীম, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের টহলের মধ্যেও সন্ত্রাসীদের বোমা রেখে যাওয়া ও চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে মেহেরপুরবাসীকে। বিএনপি ও জামায়াতের অফিসের পাশ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাটি নিছক হুমকী নয় এটি নির্বাচন বানচালেরও চেষ্টা বলে ধারণা করছেন অনেকেই।

গাংনীতে বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসের পাশ থেকে বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী চীফ এজেন্ট ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, গাংনীতে আইন শৃঙ্খলা খুব একটা খারাপ নেই। নির্বাচনকে আতঙ্কিত করার জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ঐ ইসলামীক দলটা (জামায়াতে ইসলাম) এই কাজগুলো করছে বলে আমার মনে হয়। তবে পুলিশ প্রশাসন আরো একটু গতিশীল হলে নির্বাচন ফ্রি এবং ফেয়ার হবে।

অপরদিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীর মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে কাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহা আলম হুসাইন বলেন, আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই আমরা কোন সন্ত্রাসী বা বে-আইনী কাজের সাথে সম্পৃক্ত না। এটা উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ও দাঁড়িআল্লার যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে সেই গণজোয়ারকে বির্তকিত করার জন্য এইরকম অনাকাঙ্খি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা যদি সুনির্দৃষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমান করতে পারে যে আমাদের কোন কর্মী এমন কাজ করেছে তাহলে তার শাস্তির জন্য সর্বোচ্চ সহযোগীতা করবো।

গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, প্রতিটি ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে। এবং ইতোপূর্বে যে দুটি বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার হয়েছিলো সে মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করছে এবং গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ জামিনুর রহমান খান বলেন, বোমা উদ্ধারের বিষয়টি আমাদের তদন্তনাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আপনাদের বিস্তারিত জানানো হবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।