মজনুর রহমান , মেহেরপুর :
গত ১০ দিনে ৫ টি পৃথক স্থান থেকে ৯টি বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে মেহেরপুরের পল্লীতে। তিনটি নির্বাচনী অস্থায়ী অফিসের পাশে এবং চাদার দাবীতে প্রবাসীর বাড়িতে বোমা ও চিরকুট রেখে দেয়া হচ্ছে হুমকী। তবে এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার বা কোন ক্লু উদ্ধার করতে পারেনি। পুলিশ প্রশাসনের দাবি বোমারুদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জোড়পুকুরিয়া বাজারের একটি ওয়েল্ডিং দোকান থেকে দুটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় দোকান মালিক রিমন হোসেনকে আটক করে সেনাবাহিনী।
আজ সোমবার দুপুরে সেনাবাহিনী গাংনী ক্যাম্পের একটি দল এই অভিযান চালায়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ষোলটাকা ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ের পাশ থেকে বোমা সদৃশ্য দুটি বস্তু উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি বস্তু পড়ে থাকতে দেখে গাংনী থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ্য বস্তু দুটি উদ্ধার করে।
শনিবার (৩১ জানুয়ার)ী দারিয়াপুর গ্রামের বিএনপির একটি নির্বাচনী কার্যালয়ের পাশের ঝোপ থেকে একটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা বোমাটি দেখতে পেয়ে মুজিবনগর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে।
একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দারিয়াপুর কালিতলা এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী অফিসের সামনে লাল কসটেপ মোড়ানো আরেকটি হাতবোমা পড়ে থাকতে দেখেন নেতাকর্মীরা। পরে তারা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমাটি উদ্ধার করে নিরাপত্তার জন্য পানিভর্তি বালতিতে করে থানায় নিয়ে যায়।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কাথুলী ইউনিয়নের সহগোলপুর গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী মোজাম্মেল হকের ছেলে মিঠুনের বাড়ির গেটের সামনে থেকে দুটি হাতবোমা ও চাঁদা দাবির চিরকুট উদ্ধার করেন পুলিশ। একটি মিষ্টির প্যাকেটে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি হাতবোমা ও একটি চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে দেড়লাখ টাকা মিষ্টি খাওয়ার জন্য দাবি করে মোবাইল ফোনের নগদ অ্যাপ্সে টাকা পাঠানোর জন্য বলা হয়।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারী) দারিয়াপুর গ্রামের কদমতলায় আলামিনের বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার পাশে ড্রেনের মধ্যে একটি লাল টেপ জড়ানো বস্তু দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে মুজিবনগর থানা পুলিশে খবর দেয় তারা। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বোমা সাদৃশ্য বস্তুটি উদ্ধার করে।
মুজিবনগর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যাক্তি বলেন, আগে আমাদের এখানে কোনদিনই নির্বাচনী অফিসের পাশে এমনভাবে বোমা পাওয়া যায়নি। এবার একই দিনে আমাদের এই ইউনিয়নের দুই গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের অফিসের পাশে বোমা পাওয়া গেছে। এছাড়া তিন দিন আগেও গ্রামের একজনের বাড়ির পাশের ডে নের মধ্যে থেকে বোমা উদ্ধার হওয়ায় এ গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গাংনী উপজেলার আমতৈল গ্রামের কয়েকজন বলেন, আমাদের এই গ্রামের সাথেই একটা নদী তার পরেই চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা। এই এলাকায় একসময় সন্ত্রাসের রাজত্ব চলতো। কিন্তু বহুদিন পর আবার আজ বোমা উদ্ধার হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নির্বাচনের এই সময় দ্বায়িত্বরত মোবাইল টীম, সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের টহলের মধ্যেও সন্ত্রাসীদের বোমা রেখে যাওয়া ও চাঁদা চাওয়ার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে মেহেরপুরবাসীকে। বিএনপি ও জামায়াতের অফিসের পাশ থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাটি নিছক হুমকী নয় এটি নির্বাচন বানচালেরও চেষ্টা বলে ধারণা করছেন অনেকেই।
গাংনীতে বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী অফিসের পাশ থেকে বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী চীফ এজেন্ট ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু বলেন, গাংনীতে আইন শৃঙ্খলা খুব একটা খারাপ নেই। নির্বাচনকে আতঙ্কিত করার জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য ঐ ইসলামীক দলটা (জামায়াতে ইসলাম) এই কাজগুলো করছে বলে আমার মনে হয়। তবে পুলিশ প্রশাসন আরো একটু গতিশীল হলে নির্বাচন ফ্রি এবং ফেয়ার হবে।
অপরদিকে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীর মুখপাত্র জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে কাজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মুহা আলম হুসাইন বলেন, আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই আমরা কোন সন্ত্রাসী বা বে-আইনী কাজের সাথে সম্পৃক্ত না। এটা উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ও দাঁড়িআল্লার যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে সেই গণজোয়ারকে বির্তকিত করার জন্য এইরকম অনাকাঙ্খি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। তারা যদি সুনির্দৃষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমান করতে পারে যে আমাদের কোন কর্মী এমন কাজ করেছে তাহলে তার শাস্তির জন্য সর্বোচ্চ সহযোগীতা করবো।
গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস বলেন, প্রতিটি ঘটনায় তাৎক্ষণিক পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে। এবং ইতোপূর্বে যে দুটি বোমা সদৃশ্য বস্তু উদ্ধার হয়েছিলো সে মামলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ দুজনকে গ্রেফতার করছে এবং গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
মেহেরপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মোঃ জামিনুর রহমান খান বলেন, বোমা উদ্ধারের বিষয়টি আমাদের তদন্তনাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আপনাদের বিস্তারিত জানানো হবে।