মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের শ্যামুবাড়ি গ্রামে কুমির আতঙ্কে গ্রামজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎকণ্ঠা। কয়েক দিন ধরে পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁষা এই এলাকায় লোকালয়ে কুমিরের আনাগোনা দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এরই মধ্যে একটি কুমিরের উপস্থিতি স্থানীয়দের মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।
গ্রামবাসীর ভাষ্য, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাতের বেলায় পদ্মা নদী থেকে অন্তত দুটি কুমির গ্রামে উঠে আসছে। কখনও পুকুরপাড়ে, আবার কখনও গোঁয়ালঘরের পাশে দেখা মিলছে এসব বন্যপ্রাণীর।
শ্যামুবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা হায়াৎ হোসেন বলেন, “গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে গোঁয়ালঘরের পাশে হঠাৎ কুমিরটি দেখতে পাই। আমরা চিৎকার দিলে লোকজন জড়ো হয়। পরে টর্চলাইট জ্বালাতেই কুমিরটি ধীরে ধীরে নদীর দিকে সরে যায়।”
একই গ্রামের গৃহবধূ সালিনা বেগম জানান, “রাতে কুমিরটি গোঁয়ালঘরের পাশে ঘুরছিল। আমরা ছবি তুলতে গেলে ওটা পুকুরের দিকে নেমে যায়।”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় কৌতূহল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই আশপাশের গ্রামের মানুষ কুমির দেখতে এসে ভিড় জমাচ্ছেন। শিশু-কিশোরদের পুকুরপাড়ে যেতে নিষেধ করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নেছার উদ্দিন বলেন, “আমরা বিষয়টি জেনেছি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের টিমকে জানানো হয়েছে। তারা এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এবং প্রাণীটি উদ্ধার করবে।”
স্থানীয়দের ধারণা, পদ্মা নদীর পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কুমিরগুলো খাবারের খোঁজে লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।