বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম বলেছেন, দেশের সকল ঈমানি দল ও ইসলামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত। আগামী নির্বাচন হবে বিভাজনমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গঠনের সংগ্রাম—এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) সৈয়দপুর পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের দায়িত্বশীল কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা হালিম বলেন, “৫৪ বছর যারা দেশ শাসন করেছে তারা ইনসাফ কায়েম করতে পারেনি। আগামী বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই আমরা।”
তিনি আরও বলেন, “অতীতে জামায়াতের কেউ দুর্নীতি করেনি। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে দেশের মালিক নয়, সেবক হবে। ক্ষমতাকে অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করবে না। ৫৪ বছরে জামায়াতের হাতে একটিও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। আমরা এমন এক সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।”
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “তারা এখনও অনুশোচনায় ফিরেনি। দেশে যেমন ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠা করেছে, বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করছে। আমরা দাবি করছি, ফ্যাসিবাদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা হোক।”
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে মাওলানা হালিম বলেন, “সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে সেটি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতোই হবে। তখনও কোটি তরুণ ভোট দিতে পারেনি। এবার এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে জনগণ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে।”
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশে শতভাগ ভোট পড়েছিল, তেমনি আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১৮ কোটি মানুষ যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, সেটাই জনগণের প্রত্যাশা।”
পাঁচদফা দাবির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “জামায়াতসহ ছয়টি দল পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে নির্বাচন দাবি করছে, কারণ এতে মনোনয়ন বাণিজ্য থাকবে না এবং কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে পারবে না। তাই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে আগামী নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতেই দিতে হবে।”
সভায় নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুস সাত্তার, নায়েবে আমির ড. খায়রুল আনাম, সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, এবং প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিমসহ জেলা ও উপজেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।