শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

ভারতীয় কেমিক্যাল যুক্ত মথ ডাল বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে মুগ ডাল হিসেবে

বাংলাদেশ সরকার মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন বা (IP) দিয়েছে রং বা কেমিক্যাল মুক্ত , কিন্তুু কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন তো বাংলাদেশ সরকার দেন নাই,তাহলে কিভাবে কেমিক্যাল যুক্ত ভারতীয় মথ(MOTH) ডাল বাংলাদেশ ছড়িয়ে পড়লো?

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২০:২৫

মোঃ জয়নাল আবেদিন জয় ,ব্যুরো প্রধান; রাজশাহী 

ভারত থেকে আমদানি করা মথ(MOTH) ডালে মেশানো হয়েছে ক্ষতিকারক রং ও কেমিক্যাল,অতি মুনাফার জন্য অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো এই অপকর্মের সাথে জড়িত হয়েছে বলে জানিয়েছে কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) স্থলবন্দর এর উপ পরিচালকরা। রং বা কেমিক্যাল মেশানো মথ(MOTH) ডাল সারা দেশের ভোক্তা পর্যায় মুগ ডাউল হিসেবে বিক্রি কারাছে অসাধু ব্যবসায়-সম্পৃক্ত আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দোকানদার দের দিয়ে,এতে একদিকে প্রতারিত হচ্ছে জনসাধারণ আর মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে বাংলাদেশের নিম্ন আয়ের মানুষ।

এ বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডাক্তার এস আই এম রাজিউল ইসলাম ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাক্তার আবু তালেব বলেন,ল্যাব রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ভারত থেকে আমদানি করা মথ(MOTH) ডালে যে কেমিক্যাল বা রং মেশানো হয়েছে সেটি খেলে লিভারে অনেক রকম রোগের সৃষ্টি হবে,যেমন হজমি শক্তি কমে যাবে,পেট ফুলে ফেঁপে বদ হজম সহ লিভারে সমস্যা দেখা দেবে এবং এটা আস্তে আস্তে লিভার সিরোসিস রোগে পরিণত হবে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আফিয়া আক্তার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ভারত থেকে আমদানি করা মথ(MOTH) ডালে ল্যাবটেস্ট রিপোর্টে যেহেতু ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা রং এর অস্তিত্ব মিলেছে তাই এটা জনস্বাস্থ্যে ও জনস্বার্থে বন্ধ করতে যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার রাজশাহী জেলা প্রশাসক সেটা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভারত থেকে আমদানি করা কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আর বাংলাদেশের মুগ ডাউল দুটি আকারে প্রায় একই রকম,তাই সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারবে না তারা আসলে কি খাচ্ছে মথ(MOTH)ডাল না কি মুগ ডাউল?

আমাদের দেশে মুগ ডাউল উৎপাদন করা হলেও মথ(MOTH)ডাল কিন্তুু উৎপাদন হয় না। সেটা উৎপাদন হয় আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে।

বাংলাদেশ সরকার মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন বা (IP) দিয়েছে রং বা কেমিক্যাল মুক্ত , কিন্তুু কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার অনুমোদন তো বাংলাদেশ সরকার দেন নাই,তাহলে কিভাবে কেমিক্যাল যুক্ত ভারতীয় মথ(MOTH) ডাল বাংলাদেশ ছড়িয়ে পড়লো?

অনুসন্ধানে দেখা যায়,আমাদের দেশের

অসাধু ব্যবসায়ীরা ও আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো অতি মুনাফার জন্য এই অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,ভারত সরকার পরিষ্কার ভাবে ঘোষণা দিয়েছে তাদের নিজ দেশেয় রং বা কেমিক্যাল মেশানো মথ(MOTH)ডাল ক্রয় বিক্রির নিষিদ্ধ। আরো উল্লেখ থাকে যে,ভারতে মথ(MOTH)ডাল গরুর খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মুগ ডাউল চাহিদা মতো বাংলাদেশে

উৎপাদন হয় না,ফলে বিদেশ থেকে অন্তত ৭৫ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভর করতে হয়। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৩৫-৩৬ হাজার মেট্রিকটন মুগ ডাউল উৎপাদন করা হয়,বাকি অন্তত ৭৫ শতাংশ মুগ ডাউল আমদানি করতে হয় দেশের বাহিরে থেকে ।

আর সেই সুযোগে ভারতীয় কেমিক্যাল যুক্ত মথ(MOTH)ডাল আমদানি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করাচ্ছে মুগ ডাউল হিসেবে।

তথ্য মতে, ভারতীয় মথ(MOTH)ডাল বাংলার বাজারে মুগ ডাউল হিসেবে বিক্রি করার আগে তাতে রং বা কেমিক্যাল মেশাচ্ছে অসাধু আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো।

সোনামসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ

স্থলবন্দরের দায়িত্বরত কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক শামীর চন্দ্র ঘোষ ও জাতীয় রাজস্ব কর্মকর্তা সোনা মসজিদ স্থলবন্দর

তথ্য অনুযায়ী সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে যে কোম্পানিগুলো কেমিক্যাল বা রং মেশানো মথ(MOTH)ডাল আমদানি করে সেগুলো হলোঃ বিসমিল্লাহ ফ্লাওয়ার মিল, বিসমিল্লাহ ডাউন মিল,নিঝুম শস্য ভান্ডার,এম এ ট্রেডি,শ্যামলী ডাউন মিল বাবর ডাবল মিল,মেসার্স সালমান খুরশিদ ডাউল মিল,সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে উক্ত কোম্পানিগুলো চলতি বছরে ৭০০০(সাত হাজার)৭০০(সাত শত)৭৭(সাত্তার) মেট্রিক টন কেমিক্যাল যুক্ত বা রং মেশানো মথ(MOTH) ডাল এই স্থলবন্দর আমদানি করছে।

এই মথ(MOTH)ডাল গুলোতে কেমিক্যাল বা রং মেশানো কি না বা স্বাস্থ্যসম্মত কি না সেটা পরীক্ষা করার মত ল্যাব বা জনবল আমাদের নেই,ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডাল আমাদের স্থলবন্দরে আসার পরে আমরা দেখি সেটিতে কোন পোকা মাকড় আছে কিনা বা প্যাকেট বা বস্তুা ছিড়া ফাটা আছে কিনা,ওজন সঠিক আছে কি না,এই গুলো দেখার পরে আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কে ছাড় পত্র দেওয়ার জন্য অবহিত করি।তবে ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডালে কোন ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা রং মেশানো আছে কিনা সেটি বলতে পারবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,ও বিএসটিআই।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক জহরুল সিকদার ও এডি শরিফুল ইসলাম শরিফ বলেন, এটা কৃষিজ পণ্য। আমরা এই পণ্য আমদানিতে কোনো ছাড়পত্র দিতে পারি না। এটা কৃষি বিভাগ দেখে।’ ভারত থেকে আমদানি কৃত মথ(MOTH)ডাল সরকার অনুমোদিত বিএসটিআই এর তালিকাভুক্ত ৩১৫(তিনশত পনেরো)টি পন্যর মধ্যে নয়। এটা সরকার তালিকা ভুক্ত করলে আমরা ল্যাব টেস্ট করে এর ক্ষতিকারক কোন ক্যামিকেল বা রং মেশানো থাকলে আমরা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কে বাজার যাত বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করবো,কারণ এটা জনস্বার্থে ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অতীব জরুরী।

সোনামসজিদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক শামীর চন্দ্র ঘোষ,

(বাংলাবান্ধা) স্থলবন্দর পঞ্চগড়, কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক নূর হাসান,(হিলি)দিনাজপুর স্থলবন্দর কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন(বেনাপোল)যশোর,কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান,(ভোমরা)সাতক্ষীরা স্থলবন্দর কোয়ারেন্টাইন(Quarantine) উপ পরিচালক কাজি শাহনেওয়াজ,

তারা বলেন,অসাধু ব্যবসায়ী ও আমদানি কারক প্রতিষ্ঠান গুলো অতি মুনফার জন্য ভারত থেকে মথ(MOTH)ডাল আমদানি করার পরে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতারণার জন্য এই ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা রং মিশাচ্ছে। ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডালে ল্যাবটেস্ট করে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল রং মেশানো প্রমান মিলেছে,তাই এটা জনস্বাস্থ্যে ও জনস্বার্থে বন্ধ হওয়া অতি জরুরী। তাই এটা বন্ধ করতে বা আইপি না দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি,ঢাকা,উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইং-এর অতিরিক্ত উপপরিচালক বনি আমিন খান ও বাংলাদেশ স্থলবন্দর জনসংযোগ কর্মকর্তা জনাব মোঃ রায়হান কবির বলেন,ভারত থেকে আমদানিকৃত মথ(MOTH)ডালে ল্যাবটেস্ট করে ক্ষতিকারক কেমিক্যাল রং মেশানো প্রমান মিলেছে,তাই এটা জনস্বাস্থ্যে ও জনস্বার্থে বন্ধ করতে বা আইপি(IP) না দেওয়ার জন্য আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ বানিজ্য মন্ত্রণালয় কে অনুরোধ জানাবো।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।