শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টাঙ্গাইলে নদী খাল বিল ও ব্রাহ্ম সমাজের মন্দির রক্ষায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

ব্রাহ্ম সমাজের ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সমূহ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মানববন্ধন করেছে জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২৩:৩৫

আব্দুল্লাহ আল মামুন ,টাঙ্গাইল

টাঙ্গাইলে নদী, খাল বিল, জলাশয়, ব্রাহ্ম সমাজের ঐতিহ্যবাহী মন্দির ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সমূহ রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মানববন্ধন করেছে জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি। টাঙ্গাইল জেলা শহরের নিরালা মোড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টা থেকে ঘন্টা ব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ মানববন্ধনে দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সচেতন নাগরিকগন অংশগ্রহন করেন। মানববন্ধন শেষে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করা হয়।

এরপর পুলিশ সুপার, পৌর প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে স্মারকলিপির অনুলিপি দেয়া হয়। টাঙ্গাইল জেলা নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির ব্যানারে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খান মোহাম্মদ খালেদ, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নূর মোহাম্মদ রাজ্য, দেশ বরেণ্য পরিবেশ সৈনিক ফজলে সানি, কমিটির অন্যতম সদস্য হাসরত খান ভাসানী, ব্যবসায়ি ঐক্য জোটের নেতা আবুল কালাম মোস্তফা লাবু, অন্যতম সদস্য ফরহাদ হোসেন ‘সহ অন্যান্য সদস্যগন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান রাইটস্ রিভিউ সোসাইটি টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি গণমাধ্যম কর্মী মোঃ রাশেদ খান মেনন (রাসেল), নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য মাহে আলম সাবু, টোকাই নাট্য দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাজু মেহেদী, সাংস্কৃতিক কর্মী তালহা আল মাহমুদ, সাংস্কৃতিক কর্মী কল্যাণ সংস্থার সভাপতি জাকির হোসেন, করটিয়া ব্যবসায়ি সমিতির নেতা নাসির উদ্দিন রাজু, ব্যবসায়ী নেতা সুমন মুন, কালিহাতী প্রেসক্লাবের আহবায়ক রশিদ আব্বাসী, ব্যবসায়ী মিল্টন হক, নাজমুল হাসান বাবু, অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন ‘সহ সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যগণ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ও জলাশয় আজ দখল, দূষণ ও ভরাটের কারণে অস্থিত্ব হারাচ্ছে।

একই সাথে জেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত বিশেষ করে শহরের ভিক্টোরিয়া রোডে শ্যামাবাবুর খাল, ব্রাহ্ম সমাজের ঐতিহাসিক মন্দির সহ প্রাচীন বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপত্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো অযত্ন, অবহেলা ও দখলের কারণে আজ বিলুপ্তির পথে। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, নদী ও খাল দখল দূষন ও অবৈধ স্থাপনা নির্মানের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে কৃষি, পরিবেশ, প্রাণ প্রকৃতি ও জনজীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত দায়ীত্বহীন অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের কারণে জেলা শহরে অনুমোদনহীন ও প্লান বর্হিভূত বহুতল ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এতে করে ভূমিকম্প’সহ বিভিন্নধরণের ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রত্মতাত্তিক নিদর্শন মসজিদ, মন্দির ও পুরাতন স্থাপনা যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে প্রাচীন ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তের দারপ্রান্তে। অপরিকল্পিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন এবং অনিয়মতান্ত্রিক বালুমহল ঘোষনায় গতিপথ হারাচ্ছে নদী। এতে জনজীবনে দূর্ভোগ’সহ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। শহরে পর্যাপ্ত পুকুর জলাশয় না থাকলে, অগ্নিকাণ্ডের মতো কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে পানির সংকট দেখা দিবে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও অব্যবস্থাপনার ফলে অত্যধিক যানজট ও সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ভোগান্তির বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, আমাদের দাবি টাঙ্গাইল জেলা শহরের নিরালা মোড় সংলগ্ন শ্যামাবাবুর খাল’সহ অন্যান্য নদী, খাল বিলের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে ও খনন করে পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও স্থানীয় প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। ধর্মীয় ও প্রত্মত্বাতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যগুলোকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে সংরক্ষণ ও পুনর্নিমাণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। জনস্বার্থে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা কমিটি, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদয়দৃষ্টি ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। টাঙ্গাইল জেলার প্রাণপ্রকৃতি, প্রত্মত্বাত্তিক নিদর্শন ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আমাদের এই ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করবে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।