শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নতুন প্রজন্মের ভাবনায় কমরেড অণিমা সিংহ প্রাসঙ্গিক এক বিপ্লবী আদর্শ

নূর আলম, দুর্গাপুর(নেত্রকোণা)প্রতিনিধি: আজকের তরুণ সমাজ নানা বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পথ খুঁজে ফিরছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা না পেয়ে হতাশায় ডুবে যাচ্ছে। কেউ কেউ অবক্ষয়ের পথে পা বাড়াচ্ছে। সরকার বদলাচ্ছে, কিন্তু মানুষের জীবনের মৌলিক সমস্যা থেকে যাচ্ছে একই জায়গায়। শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য মজুরি থেকে, কৃষক পাচ্ছে না ফসলের ন্যায্য দাম। শিক্ষা […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

০১ জুলাই ২০২৫, ১৭:১১

নূর আলম, দুর্গাপুর(নেত্রকোণা)প্রতিনিধি:

আজকের তরুণ সমাজ নানা বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পথ খুঁজে ফিরছে। লক্ষ লক্ষ শিক্ষিত যুবক-যুবতী কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা না পেয়ে হতাশায় ডুবে যাচ্ছে।

কেউ কেউ অবক্ষয়ের পথে পা বাড়াচ্ছে। সরকার বদলাচ্ছে, কিন্তু মানুষের জীবনের মৌলিক সমস্যা থেকে যাচ্ছে একই জায়গায়। শ্রমিক বঞ্চিত হচ্ছে ন্যায্য মজুরি থেকে, কৃষক পাচ্ছে না ফসলের ন্যায্য দাম।

শিক্ষা ও চিকিৎসা সবার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাকস্বাধীনতা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। রাজনীতি পরিণত হয়েছে কেবল ক্ষমতার খেলায়। আর এই সুযোগে দেশের সম্পদ তুলে দেওয়া হচ্ছে বিদেশি লুটেরাদের হাতে।

এই বাস্তবতায় তরুণদের মনে প্রশ্ন জাগে— কে আমাদের পথ দেখাবে? কোন রাজনীতি আমাদের মুক্তি দিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে ফিরে তাকাতে হয় ইতিহাসের বুকে খচিত এক সংগ্রামী নারীর দিকে, যিনি ছিলেন এক সাহসিনী, এক অনড় বিপ্লবী, এক কমিউনিস্ট — কমরেড অণিমা সিংহ।

১৯২৮ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের এক শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন অণিমা সিংহ। বাবা ছিলেন চিকিৎসক, মা শিক্ষিত ও প্রগতিশীল। ছোটবেলা থেকেই দুই ভাইয়ের মাধ্যমে যুক্ত হন ব্রিটিশবিরোধী রাজনীতিতে।

সিলেট মেডিক্যাল কলেজে পড়ার সময় সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। সামাজিক রক্ষণশীলতার গণ্ডি ভেঙে মায়ের সহায়তায় রাজনীতির ময়দানে নামেন। ছাত্রজীবনে মার্কসবাদে দীক্ষা নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। তখন থেকেই তাঁর লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট— শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি মানুষের মুক্তি।

গ্রামে গ্রামে ঘুরে, কৃষকদের ঘরে ঘরে, মাঠে-ময়দানে লড়াই করে তিনি গড়ে তোলেন কৃষক আন্দোলনের ভিত্তি। ১৯৫০ সালে টংক প্রথার বিরুদ্ধে হাজং কৃষকদের ঐতিহাসিক বিদ্রোহে তিনি সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দেন।

পুলিশি ধরপাকড়, অনাহার, পাহাড়ে আত্মগোপন— সব বাধা পেরিয়ে তিনি পৌঁছে যান প্রতিরোধের অগ্নিকেন্দ্রে। যখন পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে, তখনও তিনি রাতের অন্ধকারে সেই ঘেরাও ভেঙে প্রবেশ করেন— প্রতিরোধের আগুন জ্বালাতে।

পাকিস্তান সরকার বাধ্য হয় টংক প্রথা বাতিল করতে, কিন্তু তখন কমিউনিস্ট পার্টিকেও করে নিষিদ্ধ। শুরু হয় দমন-পীড়ন, পরিবার দেশত্যাগে বাধ্য— কিন্তু অণিমা সিংহ দেশ ছাড়েননি।

তিনি আত্মগোপনে থেকেও পড়াশোনা চালিয়ে যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন বিপ্লবী কমরেড মণি সিংহের সঙ্গে— যেন দুটি বিপ্লবী নদীর মিলন ঘটে এক মোহনায়।

মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি যান ত্রিপুরায়, শরণার্থী শিবিরে সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। দেশ স্বাধীন হলে তিনি বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সম্পাদিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে নিজ হাতে রুটি বানিয়ে বিতরণ করেন— কারণ তাঁর কাছে বিপ্লব মানে শুধু মিটিং-মিছিল নয়, মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্থের মুখে খাবার তুলে দেওয়া।

কমরেড অণিমা সিংহ আজও প্রাসঙ্গিক— কারণ তিনি ছিলেন নিপীড়িত জনগণের পক্ষে দাঁড়ানো বিকল্প রাজনীতির প্রতীক। তিনি দেখিয়ে গেছেন, নারী মানেই দুর্বল নয়— নারীও হতে পারে বিপ্লবের অগ্রসেনানী।

তিনি শিখিয়েছেন, কৃষক-শ্রমিকের পাশে দাঁড়াতে হলে তাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠতে হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন, বিপ্লব কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, এটি আদর্শ, আত্মত্যাগ আর ন্যায়ের পক্ষে অটল থাকার সংগ্রাম।

কমরেড অণিমা সিংহ শেখান বাস্তব সংগ্রামের চর্চা। তিনি আজকের তরুণদের জন্য প্রেরণা, যারা সমাজ বদলাতে চায়, যারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়তে চায়, যারা বুঝতে চায়— কমিউনিজম মানে কেবল তাত্ত্বিক চর্চা নয়, এটি জীবনযাপন, এটি মানুষ গড়ার কাজ।

১৯৮০ সালের জুন মাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ১ জুলাই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায়— নিজের অধিকার আদায় করতে হলে লড়াই করতে হয়, বাধা যত কঠিন হোক, সংগ্রাম ছাড়া কোন মুক্তি নেই। আপনার শিক্ষার অধিকার, আপনার শ্রমের মূল্য, ফসলের ন্যায্য দাম, চিকিৎসা, বাসস্থান— সবকিছুর জন্য লড়াই করতে হবে, সংগঠিত হতে হবে।

এইটাই কমরেড অণিমা সিংহের শিক্ষা। এইটাই কমিউনিস্ট রাজনীতির পথ।

তিনি অমর, তিনি প্রেরণা, তিনি চেতনার দীপ্ত আগুন।

আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা,

বিপ্লবী কমরেড অণিমা সিংহ- লাল সালাম ।

লেখকঃ মোরশেদ আলম

সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, নেত্রকোণা জেলা কমিটি ও

সুসঙ্গ দুর্গাপুর উপজেলা কমিটি, নেত্রকোণা।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।