সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

টাকার জন্য সন্তানের উপর অমানবিক নির্যাতন, পালিয়ে আশ্রয় নিল খালার বাড়ি

নিজের নাবালক সন্তানের উপর টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে অমানবিকতার নজির গড়েছেন এক পাষণ্ড বাবা। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ওই কিশোর পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপায় খালার বাড়িতে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২১ জুন)। বিষয়টি ঘটনার চারদিন পর বৃহস্পতিবার জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে গলাচিপা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ জুন ২০২৫, ১৮:৫৯

নিজের নাবালক সন্তানের উপর টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে অমানবিকতার নজির গড়েছেন এক পাষণ্ড বাবা। নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ওই কিশোর পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে পটুয়াখালীর গলাচিপায় খালার বাড়িতে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২১ জুন)। বিষয়টি ঘটনার চারদিন পর বৃহস্পতিবার জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে গলাচিপা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরের খালা নাজমা বেগম।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরের নাম সামিউল ইসলাম (১২)। শিশুটির মা সালমা বেগম ২০২৪ সাল থেকে সৌদি আরবে থাকেন। ২০১৮ সালে সামিউলের বাবা মো. এরশাদ ও মা সালমা বেগমের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

বিচ্ছেদের পর সামিউল মায়ের কাছেই বড় হচ্ছিল। তবে কিছুদিন পর সুকৌশলে বাবা এরশাদ তাকে নিজের কাছে নিয়ে যান। এরপর শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। অভিযোগ উঠেছে, রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার বাসিন্দা মো. এরশাদ তার ছেলে সামিউলের উপর নিয়মিতভাবে শারীরিক

ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। নির্যাতনের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসী মা সালমা বেগমের কাছ থেকে মাসিক ভরণপোষণের টাকা আদায় করা। নির্যাতনে সহযোগিতা করতেন এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার দুই ভাই রেজাউল ও রিপন।

এসময় সালমা বেগম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালেই সামিউলের উপর চলতো নির্যাতন। তাই ছেলের সুখের জন্য গর্ভধারিণী মা প্রতিমাসে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতো। কিন্তু হটাৎ এরশাদ সামিউলের মা সালমা বেগমের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন।

সালমা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সামিউলকে ধরে মারধর করে বাবা এরশাদ। লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, খাবার থেকে বঞ্চিত করা হয়, এমনকি চিকিৎসাও করানো হয়নি।

ভয়ভীতি দেখিয়ে সালমা বেগমের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে এরশাদ। সামিউল জানায়, “আম্মুর কাছে আসতে চাইলে আমাকে ঘরে আটকে রাখা হতো। মা টাকা না দিলে বাবা মারধর করতো, খুব কষ্ট হতো।”

সামিউল, তার মা সালমা ও খালা নাজমা জানান,  অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শনিবার ২১ জুন সামিউল রংপুরের বাবার বাড়ি থেকে পালিয়ে খালা নাজমা বেগমের বাড়ি, গলাচিপার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে মোবাইল ও টাকা হারিয়ে ফেলে সে। ছিনতাইকারীরা তাকে চেতনানাশক খাইয়ে অজ্ঞান করে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে অজ্ঞান ও অসুস্থ অবস্থায় স্থানীয়রা সামিউলকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

খোঁজাখুজির পর ঘটনার একদিন পরে খবর পেয়ে খালা নাজমা বেগম তাকে হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে সামিউল খালার বাড়িতেই অবস্থান করছে এবং সেখানে থাকতে চান।

কিন্তু এদিকে পুরো বিষয়টিকে আড়াল করতে সামিউলের বাবা এরশাদ উল্টো খালা নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে মিঠাপুকুর থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন।

তিনি দাবি করেন, খালা জোর করে সামিউলকে নিয়ে গেছেন, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন সামিউলের মা ও খালা। তারা আইনের আশ্রয় চেয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

খালা নাজমা বেগম বলেন, “সামিউল নিজের ইচ্ছায় আমার কাছে এসেছে। ছেলেটি খুব কষ্টে ছিল। এখনো ভয়ে কাঁপে। ফোন করে প্রায়ই কান্নাকাটি করতো, বাবা ও সৎমার নির্যাতনের কথা বলতো।

আমরা সবসময় বুঝিয়ে শুনিয়ে তাকে রাখছি। কিন্তু মারধর সহ্য করতে না পেরে সে না বলে চলে আসছে। আমরা ওর নিরাপত্তা চাই।”

মা সালমা বেগম বলেন,”আমি বিদেশে থাকি, কিন্তু ছেলের জন্য প্রতিমাসে টাকা পাঠাতাম। এখন পাঁচ লাখ টাকা চাইছে আমি দিতে পারিনি তাই আমার ছেলেকে মারধর করেছে। এরশাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

সামিউল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমি আর বাবার কাছে যাবো না। তারা আমাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে। টাকা না পেলে মারধর করে, আমাকে খেতে দেয় না। আমি অনেক কষ্ট পাই। এখন আমি শান্তিতে থাকতে চাই, খালার কাছেই থাকবো।”

বাবা এরশাদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে একজন বাবার কাছ থেকে সন্তানের প্রতি এমন অমানবিক আচরণ শুধু পারিবারিক নয়, এটি সমাজের মানবিকতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন —শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক এবং দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।