বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মামলায় হেরে গিয়ে শ্রমিক লীগ নেতার নেতৃত্বে সমাজসেবক নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পূর্বপরিকল্পিত, মিথ্যা-বানোয়াট মামলা খারিজ হওয়ায় স্থানীয় সমাজসেবক নাসির উদ্দীনের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মানববন্ধন করেছে ঢাকার তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. জসিম উদ্দীনের নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও শ্রমিকলীগের বেশকিছু নেতাকর্মী। রোববার সকালে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের নূরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের রাস্তায় এ মানববন্ধন হয়। বিষয়টি আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন বালিপাড়ার […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৫, ১৬:৪১

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে পূর্বপরিকল্পিত, মিথ্যা-বানোয়াট মামলা খারিজ হওয়ায় স্থানীয় সমাজসেবক নাসির উদ্দীনের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে মানববন্ধন করেছে ঢাকার তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো. জসিম উদ্দীনের নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও শ্রমিকলীগের বেশকিছু নেতাকর্মী।

রোববার সকালে উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের নূরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সামনের রাস্তায় এ মানববন্ধন হয়। বিষয়টি আজ মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে নিশ্চিত করেছেন বালিপাড়ার ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল। 

এতে উপস্থিত ছিলেন বালিপাড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি গাফফার হাওলাদার, সহ-সভাপতি হাসেম হাওলাদার, বেলায়েত বয়াতী, যুগ্ম সম্পাদক সরোয়ার হাওলাদার, প্রচার সম্পাদক আ. রহিম ফকির, সদস্য জিয়া হাওলাদার, ডালিম হাওলাদার, ইসমাইল, শাহাআলী বেপারী, আ. রব হাওলাদার, বালিপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি বাপ্পি হাওলাদার,

চন্ডিপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা রানা, যুবলীগ নেতা সোহেল গাজী, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রাসেল সিকদার, রুবেল গাজী, তেজগাঁও থানা শ্রমিকলীগ নেতা রাজু হাওলাদার, শ্রমিকলীগ নেতা গিয়াস হাওলাদার ও কর্মী বাপ্পী হাওলাদারসহ ভাড়াটিয়া কিছু নারী-পুরুষ এনে মানববন্ধন করেন। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, গত বছর (০৩ নভেম্বর) ওই শ্রমিকলীগ নেতা জসিম উদ্দিনের মাদক ব্যবসায় বাঁধা দেন নাসির উদ্দিন। সমাজসেবক নাসির উদ্দিনের কারণে মাদক ব্যবসা করতে না দুই সন্তানের জননী রিজিয়া আক্তার (৩২) নামে তালাকপ্রাপ্ত এক নারীকে দিয়ে নাসির উদ্দীনের বিরুদ্ধে খুলনা জেলার নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল নং-১ আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা করান।

পিবিআইকে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। ঘটনার স্থান খুলনা হলেও একজন স্বাক্ষী বাদে সকল স্বাক্ষী ইন্দুরকানী উপজেলার পশ্চিম বালিপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। খুলনার একমাত্র স্বাক্ষী বাদীর আপন চাচাতো বোন শামীমা।

স্বাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, মামলায় উল্লিখিত ২৩ অক্টোবর ২০২৪ দুপুর থেকে ২৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ পর্যন্ত বাদী তার খুলনার বাড়ীতে ছিল। ঘটনা সম্পর্কে বাদী তাকে কিছুই জানায়নি। ২৫ /৩/২৫ তারিখ পিবিআইয়ের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেয়। এর পর থেকে উদ্দিন আরো বেপরোয়া হন। 

এদিকে নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, কুরবানীর ঈদের পরেরদিন হত্যার উদ্দেশ্যে  জসিম উদ্দীনের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী পশ্চিম বালিপাড়া-চৌকিদার হাট সংযোগ ব্রীজের কাছে মোশাররফ হোসেন হাওলাদারের বাড়ীর সামনে তার উপর হামলা করে। সেখানে তার সঙ্গে থাকা ৭ জন আহত হয়।

জীবন রক্ষার্থে একপর্যায়ে মোশাররফ হোসেন হাওলাদারের ঘরে আশ্রয় নিলে সেখানেও তারা হামলা করে। পরে ইন্দুরকানী থানার পুলিশ এসে তাদেরকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে নাসির উদ্দীন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। 

এছাড়াও মানববন্ধনে অংশ গ্রহণকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, আমাদেরকে ভুল বুঝিয়ে এখানে উপস্থিত করা হয়। এবং জসিম উদ্দীন এলাকায় ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি করেছে। নাসির উদ্দীনের ওপর হামলার ঘটনায় কেউ যাতে স্বাক্ষী না দেয় সে জন্য বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

অভিযুক্ত শ্রমিকলীগ নেতা জসিম উদ্দীন জানান, আমার নামে নাসির উদ্দীন ৭টি মামলা করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়ায় সে আমাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। যেকারণে আমি মানববন্ধন করেছি। সাংবাদিকরা অভিযুক্তের কাছে ৭টি মামলার কাগজপত্র চাইলে সে একটি জিডির কপি ছাড়া অন্য কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। 

এ বিষয় নাসির উদ্দীন বলেন, শ্রমিকলীগ নেতা একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। কিছু প্রভাবশালী লোকদের প্রশ্রয়ে আমার নামে চরিত্রহনন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ওই নারীকে প্রলুব্ধ করে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে। তদন্ত শেষে আদালত অভিযোগটি খারিজ করে দিয়েছে। তার মাদকসাম্রাজের আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে জসিম উদ্দীন এই মানববন্ধন করেছে।

এছাড়াও আমাকে হয়রানি করতে আদালতের নির্দেশকে উপেক্ষা করে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ এনে আওয়ামীলীগ, মাদক ব্যবসায়ী এবং ভাড়াটিয়া লোকদের নিয়ে মানববন্ধন করে। 

বালিপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন, নাসির উদ্দীনের উপর হামলার বিষয় মিমাংসার কথা ছিল। পরে হামলাকারীরা শ্রমিকলীগ নেতা জসিমের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের লোকদের নিয়ে মানববন্ধন করেছে শুনেছি।

বর্তমান সময়ে এরকম ঘটনা যেহেতু ঘটেছে, সে ক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকায় কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে দেয়া যাবে না। 

ইন্দুরকানী থানার ওসি মো. মারুফ হোসেন জানান, মানববন্ধন ও হামলার ঘটনায় জড়িত দু’পক্ষই অভিযোগ দিলে গ্রহণ করা হবে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।