মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে রং করে দিলো শহরের প্রধান সড়কের ১১ স্পিডব্রেকার

আক্কাছ আলী,মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মুন্সিগঞ্জের আদালতের চলমান পৃথক দুটি মাদক মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে সমাজের ভালো কাজের অংশ হিসেবে শহরের প্রধান সড়কের ১১ টি স্পিডব্রেকারে সাদা রঙের কাজ ঈদুল আজহার পরদিন থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শেষ হয় রং করার কাজ। শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ জুন ২০২৫, ২১:১১

আক্কাছ আলী,মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সিগঞ্জের আদালতের চলমান পৃথক দুটি মাদক মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে সমাজের ভালো কাজের অংশ হিসেবে শহরের প্রধান সড়কের ১১ টি স্পিডব্রেকারে সাদা রঙের কাজ ঈদুল আজহার পরদিন থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে শেষ হয় রং করার কাজ।

শুক্রবার (১৩ জুন) দুপুরের দিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে আসামীরা নিজ দায়িত্বে ঈদুল আযহার পরদিন তথা গেলো রবিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটক ’’সেবা বাতায়নের’’ সম্মুখে থাকা স্পিডব্রেকার রং করার কাজ শুরু করে টানা পাঁচ দিনে শহরের দক্ষিন কোর্টগাঁও লিচুতলা, পুরাতন কাচারী এলাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, মুন্সিগঞ্জ পৌর ভবনের সামনে, শহরের প্রধান বাজার ও শহরের খালইষ্ট এলাকার মোট ১১ টি স্পিডব্রেকারের সাদা রং করার কাজ শেষ করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. আবু হানিফ বলেন, সদ্য বিদায়ী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সেবা বাতায়ন গেট হতে শহরের থানার পুল পর্যন্ত প্রতিটি স্পিডব্রেকার এগুলোতে রং করা হয়েছে। সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতেই ওই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উদ্যোগে মহতী এ কাজ করেছেন দণ্ডপ্রাপ্ত ৪ আসামি।

তিনি আরোও জানান, চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে মুন্সিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- ৩ এর বিচারাধীনে থাকা পৃথক দু’টি মাদক মামলায় ৪ আসামীর প্রত্যেককে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায় আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম।

রায় প্রদানের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামীরা সমাজের জন্য ভালো কাজ করার সুযোগ চেয়ে প্রবেশনে মুক্তি প্রার্থনা করেন বিচারকের কাছে। এতে বিচারকাজ চলাকালে দুর্ঘটনা এড়াতে জেলা শহরের প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পয়েন্টের স্পিডব্রেকার রং করার জন্য আসামিদের কাছে উপস্থাপন করেন বিচারক। সড়কে নির্বিঘ্ন যানবাহন চলাচলের সুবিধার্থে বিচারকের এমন উদ্যোগে তাৎ¶ণিক সম্মতি জানান আসামীরা। এ সময় ৪ আসামির রায় স্থগিত করে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই আসামিদের প্রবেশনে মুক্তি দেন ওই বিচারক।

এ প্রসঙ্গে অনুভূতি জানতে চাইলে ওই আসামীরা তাদের নাম পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও সমাজের জন্য কাজ করতে পেরেছেন-এটাই তাদের আনন্দ। একইভাবে সমাজের ভালো কাজের ফলস্বরূপ প্রবেশনে মুক্তি পেয়ে আরো ভালো কাজে অংশ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

শহরের ব্যাটারিচালিত মিশুক চালক মনির হোসেন বলেন, সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে স্পিডব্রেকার থাকলেও তাতে কোনো রং করা ছিল না। এতে দিনের বেলায় যানবাহন চলাচলে তেমন অসুবিধা না হলেও রাতের বেলায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকত। এখন স্পিডব্রেকার এগুলোতে সাদা রং লাগানো হয়েছে। নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

পথচারী মো. কাসেম মোল্লা (৬২) জানান, স্পিড ব্রেকারে রং না থাকার কারণে অনেক সময়ই ড্রাইভাররা প্যাসেঞ্জারকে বিপদে ফেলে দিতেন। মিশুক কিংবা অটোরিকশা স্পিডব্রেকারে ধাক্কা খেয়ে যাত্রীদের পড়ে যাওয়ার উপক্রম হতো। যারাই এখন স্পিড ব্রেকারে রং করে দিচ্ছেন তারা সমাজের জন্য ভালো কাজ করছেন বলে আমি মনে করি।

এ ব্যাপারে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো.পারভেজ আলম বলেন, প্রবেশন মঞ্জুর করা মূলত বিজ্ঞ আদালতের স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা। কোন ব্যক্তি যখন আইনের দৃষ্টিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার উপক্রম হয় কিংবা ব্যক্তি যদি দোষ স্বীকার করে তখন বিজ্ঞ আদালতের কাছে প্রবেশনের সুযোগ পাওয়ার জন্য আদালতের গোচরীভূত করা যায়।

আদালত যদি উপযুক্ত মনে করেন, আইনের অধীনে প্রবেশন আদেশের শর্তাবলি পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ করে অপরাধী তার সংশোধন ও পুনর্বাসনে উপকৃত হতে পারে, তখন আদালতে নিয়োজিত প্রবেশন অফিসারকে অপরাধীর চরিত্র, প্রাক বংশ পরিচয়, পারিবারিক পারিপার্শ্বিক ও তথ্যাদি বা অবস্থান তদন্ত করে একটি প্রাক দণ্ডাদেশ প্রতিবেদন আদালতের নিকট দাখিল করার অনুরোধ করেন।

তদন্তে প্রবেশন অফিসার যদি বুঝতে পারেন যে, অপরাধীর প্রবেশনের বা সমাজ ভিত্তিক সংশোধনের সুযোগ রয়েছে তা হলে তিনি প্রবেশনের সুপারিশ করেন। অন্যথায় অপরাধীকে শান্তি পেতে হয়। বিজ্ঞ আদালত মামলার কাগজপত্র ও সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে স্ব-উদ্যোগেও প্রবেশন মঞ্জুর করতে পারেন।

মুন্সিগঞ্জ জেলা ট্র্যাফিক বিভাগের পরিদর্শক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কারা স্পিডব্রেকারে রং করে দিয়েছে-তা আমার জানা নেই। তবে যাদের টাকায় এ কাজ করা হয়েছে, নিঃসন্দেহে তা মহতির কাজ।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।