পটুয়াখালীর বাউফলে ২৪টি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও প্রায় ২৪০ কেজি টিসিবির চাল ঘরে তোলার সময় জামায়াতে ইসলামীর এক ইউনিয়ন নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে উদ্ধার হওয়া চাল ও কার্ড স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়।
সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত সাকিল শিকদার কেশবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল সম্পাদক। তবে তিনি পুরো ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, মমিনপুর বাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে কয়েকটি বস্তাভর্তি চাল তোলার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা গিয়ে প্রায় ২৪০ কেজি চাল এবং ২৪ জন টিসিবি সুবিধাভোগীর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড উদ্ধার করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গ্রাম পুলিশকে জানানো হয়। পরে উদ্ধার করা চাল ও কার্ড ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ সদস্য হাসানের জিম্মায় দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিসিবির পণ্য সাধারণত দিনের বেলায় বিতরণ করা হয়। সেখানে রাতের বেলায় এসব চাল কেন একত্রে আনা হলো এবং কেন তা একজন জামায়াত নেতার বাসায় রাখা হয়েছিল—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিল শিকদার বলেন, “এটি স্থানীয় বিএনপির সাজানো নাটক।” তিনি দাবি করেন, তার ছোট ভাই রাজিব দীর্ঘদিন ধরে টিসিবির সুবিধাভোগীদের পণ্য কিনে দিতে সহায়তা করেন এবং বিনিময়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে পারিশ্রমিক নেন।
সাকিল শিকদার বলেন, “সোমবারও ২৪ জনের পণ্য আমার ভাই সংগ্রহ করেছে। প্রথম চালানের চাল ঘরে তোলার সময় বিএনপির কিছু কর্মী এসে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে।”
রাতে চাল বাসায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, “দিনের বেলায় সুবিধাভোগীরা এসে তাদের পণ্য নিয়ে যাবেন। নিরাপত্তার জন্য রাতের বেলায় সাময়িকভাবে আমার বাসায় রাখা হয়েছিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস বয়াতীর অনুসারীরা জামায়াতের এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে এ ঘটনায় জড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, “বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”