রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

কুমিল্লায় থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে ভুক্তভোগীর আত্মহত্যা

মোঃ রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ কুমিল্লার চান্দিনায় থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে সবুজ (৩৩) নামে এক ভুক্তভোগী অটো চালক নিজ শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধা আনুমানিক ৭টার সময় উপজেলা হসপিটাল সংলগ্ন এলাকায় নিজ গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সবুজ নামে এক ভুক্তভোগী। এসময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৯ এপ্রিল ২০২৫, ২৩:৫৬

মোঃ রবিউল আলম, কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে সবুজ (৩৩) নামে এক ভুক্তভোগী অটো চালক নিজ শরীরে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যা করার ঘটনা ঘটেছে।

গত রবিবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধা আনুমানিক ৭টার সময় উপজেলা হসপিটাল সংলগ্ন এলাকায় নিজ গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন সবুজ নামে এক ভুক্তভোগী।

এসময় স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা হসপিটালে নিলে পরে রোগীর অবস্থা অবনতি হতে থাকলে ওই দিনই রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে নেওয়া হয় তাকে।

পরে টানা ৫ দিন জীবনের সাথে যুদ্ধ করে আজ শুক্রবার সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবশেষে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নিহত সবুজ চান্দিনা থানাধীন বাড়েরা ইউনিয়নের গড়ামারা গ্রামের আমির হোসেনের একমাত্র ছেলে। সে চান্দিনা উপজেলা পৌরসভার বেলাশ্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে ব্যাটারি চালিত অটো গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

আর নিহত সবুজের বাবা চট্টগ্রামে একটি ভাড়া বাসায় থেকে ভাড়ায় সিএনজি গাড়ি চালিয়ে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে কোন রকমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

ঘটনার সূত্র, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর চান্দিনা পৌর এলাকায় একটি গ্যারেজ থেকে রাত অনুমান সাড়ে ৩ ঘটিকার সময় গ্যারেজের তালা ভেঙ্গে ২টি অটো গাড়ি চুরি হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ৩ জনকে (মানিক, নাজমুল ও সাইফুল) আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ সময় রহিমা বেগম একটি লিখিত অভিযোগ দিলেও পরে থানা পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে স্থানীয় বাদল নামে এক ব্যাক্তির জিম্মায় অভিযুক্তদের দিয়ে সামাজিকভাবে সমাধান করতে বলেন।

তাতে কোন সমাধান না করে উল্টো বাদল নামে ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগী রহিমা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাপ দেয়।

এ ঘটনায় আইনি সহায়তা চেয়ে গত ৮ জানুয়ারি জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ (১১৫/m) দেন ভুক্তভোগী রহিমা বেগম। এতেও কোন প্রতিকার না পাওয়াই ভুক্তভোগী রহিমা বেগম সহায়তা চেয়ে সাংবাদিকের শরণাপন্ন হয়।

এতে ঘটনার প্রায় তিন মাস পর গত ৪ মার্চ থানা পুলিশ চুরির মামলা নিতে বাধ্য হন। এতে অভিযুক্ত মানিক, নাজমুল ও সাইফুল নাম উল্লেখ করে আরো ৮-১০জনকে অজ্ঞাত করে রহিমা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা (মামলা নং- ০৬) করেন।

মামলা রুজু হওয়ার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ কাউকে আটক করেনি। এমনকি চোরাইকৃত কোন মামামাল উদ্ধারও করতে পারেনি পুলিশ।

উল্টো মামলার আসামিরা গত বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বাদী রহিমার বাসায় গিয়ে স্বামী আবুল হাশেমকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। 

 আর এ মামলায় বাদী রহিমা বেগমকে নিজ অটো গাড়ি যোগে বিভিন্ন জায়গায় আনা নেওয়া ও মামলায় সহায়তা করে আসছিলো নিহত সবুজ।

এ ঘটনায় গত রবিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে স্থানীয় সালাউদ্দিন ও হারুনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যাক্তি চান্দিনা থানাধীন উপজেলা মেডিকেল সংলগ্ন এলাকায় নিহত সবুজকে আটক করে মারধর করে জোরপূর্বকভাবে তার অটো গাড়ি (যার আনুমানিক মূল্য ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় তাকে সেই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অপবাদ দিয়ে ও নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিতে চাপ দেন তারা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সবুজ তাৎক্ষনিকভাবে স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ করে কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় ওই দিন সন্ধায় আইনগত সহায়তা নিতে থানায় যান তিনি।

কিন্তু এ ঘটনায় থানা পুলিশের কোন সহায়তা না পাওয়ায় সন্ধা ৭টার সময় ঘটনাস্থলে এসে নিজ গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ভুক্তভোগী সবুজ। এ ঘটনায় চান্দিনা উপজেলা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা মডিকেল কলেজ হাসপাটালের বার্ন ইউনিটিতে নেওয়া হয় তাকে।

আর এ ঘটনায় ভিকটিম সবুজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে রেখে ৫৭ বছর বয়সী বাবা আমির হোসেন গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধা ৭টার সময় কুমিল্লার চান্দিনা থানায় যান মামলার এজাহার দিতে।

কিন্তু থানা পুলিশ তাকে ১ ঘন্টা ডিউটি অফিসারের রুমে নানা অজুহাতে বসিয়ে রেখে মামলা না নিয়ে রাত ৮টার সময় ফিরিয়ে দেন এবং পরে রিলাক্সে আসার জন্য বলেন।

এ বিষয়ে নিহত সবুজের স্ত্রী খুশি আক্তার জানান- গরীবের জন্য আইন নাই! বিচার নাই! তারা (মাতাব্বররা) চোর ধরে ছেড়ে দিছে। আর আমার স্বামীরে চুরির অপবাদ দিয়ে জরিমানা করে! আমার স্বামী এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে নিজের গাঁয়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর এ ঘটনায় নিহত সবুজের বাবা আমির হোসেন জানান- থানা পুলিশের অবহেলায় আমার ছেলের আজ এ অবস্থা। গরীবের জন্য আসলে আইন নেই! কার কাছে বিচার দেবো?

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলামকে বুধবার রাতে ফোন দেওয়া হলে তিনি জানান- এটা কি মামলা করবে? সে তো মারা যায়নি। সে বেঁচে থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা হবে। আর যদি সে মারা যায় তাহলে তার পরিবার মামলা করতে পারে।

এখানে আইনি জটিলতা আছে। এ ঘটনায় তা হলে আইনি পদক্ষেপ কি সাংবাদিক জানতে চাইলে তিনি বলেন- তার যদি অটো গাড়ি নিয়ে যায় এবং মারধর করে, সেক্ষেত্রে অভিযোগ দিতে পারে একটা। এসময় সাংবাদিককেই উদ্দেশ্য করে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন ওসি।

এসময় ভিকটিমের পরিবার থানায় গেলে দীর্ঘ সময় ডিউটি অফিসার সাজ্জাদ বসিয়ে রেখে ফেরত পাঠিয়েছেন জানালে ওসি সাংবাদিককে উদ্দেশ্য করে আবারো বলেন- একটা অভিযোগ পাঠিয়ে দিয়েন, পাঠিয়ে দিয়ে ডিউটি অফিসারের কাছে এসে আমাকে ফোন দিতে বলিয়েন।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।