সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী […]

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

প্রতীকী ছবি

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ মার্চ ২০২৫, ২০:৩৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও লেগুনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু যানবাহন আগুন দিয়ে পুড়ি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পলো বাইছকারীদের সাথে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো মকবুল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৫১ জনের মতো পলো বাইছকারীকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, বারহাট্টা, মদন, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, আটপাড়া ও খালিয়াজুর উপজেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আটারবাড়ি এলাকার লোকজন প্রতিবছরই সরকারি জলমহালে পলো বাইছ করে মাছ ধরে। এবছরও গত ১৫-২০ দিন ধরে এসব অঞ্চলের লোকজন পলো নিয়ে বিভিন্ন জলমহালে মাছ ধরে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সকালে খালিয়াজুরী উপজেলার মাছ ধরতে যায়। ইজারাদার তাদের নিজ এলাকা জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজনদের নিয়ে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেয়। সকালে পলো বাইছকারি লোকজন আসতে দেখে ওই দুই গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় ওই এলাকায় রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য অনেকের নদীতে ঝাপ দিয়ে আর উঠে আসতে পারে নি। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পলো বাইছকারী লোকজন যেসব যানবাহন নিয়ে এসেছেন তা ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হয়েছে। এর মধ্যে পিকআপ, লেগুনা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের খালিয়াজুরির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার রেজওয়ান এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এবং খালিয়াজুরী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় পলো বাইছকারীদের মধ্যে থেকে ৬০ জনের মতো আটক করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আঠারবাড়ি উপজেলার পোলো বাইশ করতে আসা অনেকেই নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমরা ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি পলো নিয়ে এসব এলাকায় ফাল্গুন চৈত্র মাসে মাছ ধরতে আসে। এই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। এই সুবাদে আমরা মাছ ধরতে আসি। বিলে নামার আগেই জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজন আমাদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আমাদের অন্তত ৭ থেকে ৮শ লোক আহত হয়েছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নাম প্রকাশন অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, জগনাথপুর এবং রসুলপুরের মানুষ আগে থেকেই আমাদেরকে উপর হামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যদি না আসতো তাহলে কয়েকশ মানুষকে মেরে ফেলতে তারা। তবে আত্মরক্ষা করার জন্য অনেকেই ধনু নদীতে চাপ দিয়েছিল এদের মধ্যে বেশ কিছু লোককে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।

রসুলপুর গ্রামের অধীর চন্দ্র দাস আবির জুলহাস পিপুল জুনায়েদ রুবেল সহ অনেকেই বলেন, নৌকাতে তাদেরকে রসুলপুরের ধনু নদী পার না করার কারণে আমাদের গ্রামে তারা আক্রমণ করে। বাজারে দোকানে লুটপাট শুরু করে। পরে আমাদের গ্রামবাসী মাইকিং করে দেশীয় সশস্ত্র নিয়ে প্রতিহত করি। পরে উৎসুক জনতা পলো বাইছকারীদের বহনকারী যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেয়।

তারা আরো বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে জলমহাল ইজারা নেয়। আর এরকম দুষ্কৃতিকারীরা পলো নিয়ে এসে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে প্রতিবছরই জলমহালের ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই যাতে এরকমভাবে পলো বাইছকারিরা যাতে এরকম না করতে পারে এ ব্যাপারে প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার খালিয়াজুরী উপজেলার দায়িত্বে থাকা রেজাউল বলেন, সকালে পলো বাইছকারী খালিয়াজুরী এলাকায় জলমহলে মাছ ধরতে যাওয়ার খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে আমরা যাওয়ার পথে সবাইকে সংঘর্ষ না যাওয়াতে অনুরোধ করি। এ সময় তেমন কিছু ঘটেনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কিছু লোককে আটক করা হয়েছে।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, খালিয়াজুরীতে পলো নিয়ে অবৈধভাবে সরকারী জলমহালে মাছ ধরতে গিয়েছিল কয়েক হাজার লোক। পরে গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষে হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অর্ধশতাধিক লোক আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি  নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম […]

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি, লুট মালামাল

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৭

আমজাদ শিবলু, সেনবাগ উপজেলা প্রতিনিধি 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার বীজবাগ নুরজাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের কোনো একসময় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে চারটি সিলিং ফ্যান, একটি ল্যাপটপ, একটি চার্জার ফ্যানসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সকালে বিদ্যালয়ে এসে বিষয়টি শিক্ষকদের নজরে আসে। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ ও সেনবাগ থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানান।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চোরেরা অফিস কক্ষে প্রবেশের পর দুটি স্টিলের আলমিরা ও একটি ফাইল কেবিনেটের তালা ভেঙে ফেলে। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সেনবাগ থানার ওসি (তদন্ত) মো. হযরত আলী মিলন গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।