মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী […]

নেত্রকোনায় গ্রামবাসীর সংঘর্ষে রণক্ষেত্র, আহত ৫ শতাধিক আটক অর্ধশতাধিক

প্রতীকী ছবি

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ মার্চ ২০২৫, ২০:৩৬

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার পলো বাইছকারি ও গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয়পক্ষে পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। শনিবার সকালে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় আত্মরক্ষার জন্য অনেক পলো বাইছকারি ধনু নদীতে ঝাঁপ দেয়। এর মধ্যে বেশ কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়। পলো বাইছকারি লোকজনের বহনকারী শতাধিক গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক, সিএনজি, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও লেগুনা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু যানবাহন আগুন দিয়ে পুড়ি দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

পলো বাইছকারীদের সাথে উপজেলার রসুলপুর ও জগন্নাথপুর গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো মকবুল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ৫১ জনের মতো পলো বাইছকারীকে আটক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর, বারহাট্টা, মদন, মোহনগঞ্জ, কেন্দুয়া, আটপাড়া ও খালিয়াজুর উপজেলা ছাড়াও ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আটারবাড়ি এলাকার লোকজন প্রতিবছরই সরকারি জলমহালে পলো বাইছ করে মাছ ধরে। এবছরও গত ১৫-২০ দিন ধরে এসব অঞ্চলের লোকজন পলো নিয়ে বিভিন্ন জলমহালে মাছ ধরে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ শনিবার সকালে খালিয়াজুরী উপজেলার মাছ ধরতে যায়। ইজারাদার তাদের নিজ এলাকা জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজনদের নিয়ে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নেয়। সকালে পলো বাইছকারি লোকজন আসতে দেখে ওই দুই গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় ওই এলাকায় রণক্ষেত্র পরিণত হয়। এর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৫ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য অনেকের নদীতে ঝাপ দিয়ে আর উঠে আসতে পারে নি। এছাড়াও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পলো বাইছকারী লোকজন যেসব যানবাহন নিয়ে এসেছেন তা ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হয়েছে। এর মধ্যে পিকআপ, লেগুনা, ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের খালিয়াজুরির দায়িত্বে থাকা সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার রেজওয়ান এর নেতৃত্বে সেনাবাহিনী এবং খালিয়াজুরী থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় পলো বাইছকারীদের মধ্যে থেকে ৬০ জনের মতো আটক করেছে পুলিশ।

কিশোরগঞ্জের তারাকান্দা ও আঠারবাড়ি উপজেলার পোলো বাইশ করতে আসা অনেকেই নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, আমরা ছোটকাল থেকেই দেখে আসছি পলো নিয়ে এসব এলাকায় ফাল্গুন চৈত্র মাসে মাছ ধরতে আসে। এই ধারা এখনও অব্যাহত আছে। এই সুবাদে আমরা মাছ ধরতে আসি। বিলে নামার আগেই জগন্নাথপুর ও রসুলপুর গ্রামের লোকজন আমাদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করে। হামলায় আমাদের অন্তত ৭ থেকে ৮শ লোক আহত হয়েছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার নাম প্রকাশন অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, জগনাথপুর এবং রসুলপুরের মানুষ আগে থেকেই আমাদেরকে উপর হামলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল। পুলিশ ও সেনাবাহিনী যদি না আসতো তাহলে কয়েকশ মানুষকে মেরে ফেলতে তারা। তবে আত্মরক্ষা করার জন্য অনেকেই ধনু নদীতে চাপ দিয়েছিল এদের মধ্যে বেশ কিছু লোককে আমরা খুঁজে পাচ্ছি না।

রসুলপুর গ্রামের অধীর চন্দ্র দাস আবির জুলহাস পিপুল জুনায়েদ রুবেল সহ অনেকেই বলেন, নৌকাতে তাদেরকে রসুলপুরের ধনু নদী পার না করার কারণে আমাদের গ্রামে তারা আক্রমণ করে। বাজারে দোকানে লুটপাট শুরু করে। পরে আমাদের গ্রামবাসী মাইকিং করে দেশীয় সশস্ত্র নিয়ে প্রতিহত করি। পরে উৎসুক জনতা পলো বাইছকারীদের বহনকারী যানবাহন ভাঙচুর ও আগুন দেয়।

তারা আরো বলেন, কোটি কোটি টাকা খরচ করে জলমহাল ইজারা নেয়। আর এরকম দুষ্কৃতিকারীরা পলো নিয়ে এসে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। এতে প্রতিবছরই জলমহালের ইজারাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা চাই যাতে এরকমভাবে পলো বাইছকারিরা যাতে এরকম না করতে পারে এ ব্যাপারে প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।

মদন সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার খালিয়াজুরী উপজেলার দায়িত্বে থাকা রেজাউল বলেন, সকালে পলো বাইছকারী খালিয়াজুরী এলাকায় জলমহলে মাছ ধরতে যাওয়ার খবর পাই। পরে ঘটনাস্থলে আমরা যাওয়ার পথে সবাইকে সংঘর্ষ না যাওয়াতে অনুরোধ করি। এ সময় তেমন কিছু ঘটেনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বেশ কিছু লোককে আটক করা হয়েছে।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, খালিয়াজুরীতে পলো নিয়ে অবৈধভাবে সরকারী জলমহালে মাছ ধরতে গিয়েছিল কয়েক হাজার লোক। পরে গ্রামবাসীর সাথে সংঘর্ষে হয়। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অর্ধশতাধিক লোক আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।